ঢাকা, রোববার 23 September 2018, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পরবর্তী শুনানি ৭ জানুয়ারি

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ জানুয়ারি।

এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে বারটায় রাজধানীর বকশীবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতের কার্যক্রম আবারও শুরু হয়েছে।

শুরুতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদের অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর কথা রয়েছে।

এর আগে বেলা সাড়ে বারটায় হাজিরা দিতে আদালতে হাজির হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সাড়ে এগারটার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

আদালতের এজলাসকক্ষে ঢুকে তার জন্য নির্ধারিত চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন খালেদা। তার পেছনে ছিলেন এ মামলার অন্য তিন আসামি। বিচারক এজলাসে ওঠার পর খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া তাকে চেয়ারে বসতে দেওয়ার অনুমতি চাইলে আদালত অনুমতি দেন। পরে খালেদা তার চেয়ারে বসেন।

এর আগে খালেদার আগমনের জন্য মুলতবি রাখা হয় আদালত। বিচারক এজলাসে ওঠার পর দশ মিনিট কার্যক্রম চালিয়ে তার হাজির হওয়ার জন্য আদালত মুলতবি রাখেন। এ সময় বিচারক জানান, খালেদা জিয়া এলে দুই দুর্নীতি মামলার বিচারে ফের বসবেন আদালত।

বেলা সোয়া এগারটায় সাক্ষ্যগ্রহণের লক্ষ্যে এজলাসে ওঠেন বিচারক। সাক্ষীও আদালতে হাজির হন। তবে খালেদার আইনজীবীরা জানান, তার আসতে কিছুটা দেরি হবে। এ কারণে তিনি হাজির হওয়ার পরে আদালত ফের বসবে বলে জানিয়ে এগারটা ২৫ মিনিটে মুলতবি করেন আবু আহমেদ জমাদার।

তবে খালেদা জিয়া সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি চেয়ে সময়ের আবেদন জানাবেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তারা বলেন, উচ্চ আদালতে অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে করা আবেদনের কথা উল্লেখ করে তারা সময় চাইবেন। খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হতে রওনা হচ্ছেন বলেও জানান তারা।

এর আগে বিচারক তার পরিচিতি উল্লেখ করে এ মামলার বিচার কাজ চালাতে রাষ্ট্র, দুদক ও আসামিপক্ষের সহযোগিতা চান।

এদিকে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হওয়ার আগেই রাজধানীর বকশিবাজারে ছাত্রলীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুয়েট থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে শতাধিক নেতাকর্মী এ হামলা চালায়।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে খালেদা জিয়া আদালতের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা বকশিবাজারের আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন। আর সকাল থেকেই ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
 
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকা মেডিকেল মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী ‘জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ইট পাটকেল ছুঁড়ে মারে। বিএনপি কর্মীরাও পাল্টা হামলা করে। প্রথমে পুলিশ নীরব থাকলেও এক পর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় বিএনপি কর্মীরাও পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে তারা আশপাশের দোকানের সামনে রাখা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ সংষর্ঘ চলার পর বিএনপি কর্মীরা চাঁনখারপুলের দিকে চলে যায়। কিছু নেতাকর্মী মেডিকেলের মধ্যে অবস্থান নেন। আর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বুয়েট এলাকায় অবস্থান নেয়।
 
বেলা ১২টা ২০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর আদালতের দিকে এগিয়ে এলে নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল মোড় পর্যন্ত অগ্রসর হয়। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা আবার পিছু হটে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ