ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

২০ ডলারে নেমে আসতে পারে তেলের দাম!

সৌদি আরবের তেল মন্ত্রী জানিয়েছেন, তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলারের নিচে নেমে গেলেও তার দেশ উৎপাদন হ্রাস করবে না।

সৌদি তেল মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর গত সোমবার অপরিশোধিত তেলের মূল্য পুনরায় ৬০ ডলারের নিচে নেমে যায়। সৌদি মন্ত্রী জানান, তেলের দাম পুনরুজ্জীবিত করতে তার দেশ কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না।

আলী আল-নাইমি, যিনি বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর রপ্তানির ব্যাপারে তত্ত্বাবধান করে থাকেন, এক সাক্ষাত্কারে জানান, এমনকি তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ২০ ডলারের নিচে নেমে গেলেও তার দেশ পতন রোধে কোনো কিছুই করবে না।

মিডল ইস্ট ইকোনমিক জার্নালের (মেজ) সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে নাইমি বলেন, ‘তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলার, ৫০ ডলার, ৪০ ডলার, ২০ ডলারের নীচে চলে গেলেও আমাদের কিছু করার নেই। এটি অপ্রাসঙ্গিক।’

গত সপ্তাহে শেষে নাইমির এই মন্তব্যে তেলের মূল্যে আবারো উঠানামা শুরু হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি আরো ২.৩ শতাংশ নিচে নেমে গেছে।

পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশসমূহের সংস্থা ওপেকের ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্ব নাইমি জানান, তেলের মার্কেট শেয়ারে নির্দিষ্ট মূল্য বজায় রাখতে তার সংস্থা এর কৌশলের পরিবর্তন করেছে।

নাইমি মেজকে বলেন, ‘তেলের মূল্য যাই হোক না কেন, তেল উৎপাদন হ্রাস করা হবে না। এটি ওপেকেভুক্ত দেশগুলোর স্বার্থে নয়।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওপেক সদস্যরা তাদের মার্কেট শেয়ার হারিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন কোম্পানি শেল বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ উত্সাহিত। তাদের কাছে এটি একটি জ্বালানি বিপ্লবের মতই।

উপরন্তু, বাজারের অপরিশোধিত তেলের বন্যায় আর্কটিক এবং দক্ষিণ আমেরিকার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন হুমকির সম্মুখীন।

বছরের পর বছর ধরে ওপেক তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০০ ডলারে রাখতে চেষ্টা করে আসছে। তেলের মূল্যের এই সংখ্যাটিকে মনে করা হয়, ওপেকের পেট্রোডলার অর্থনীতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ।

নভেম্বরের শেষ দিকে ওপেকের সিদ্ধান্ত ছিল তেলের উৎপাদন প্রতিদিন ৩০ মিলিয়ন ব্যারেলে রাখা। গত জুন থেকে তেলের মূল্য ৪৫ শতাংশেরও বেশি নিচে নেমে যায়।

দাম পড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো থেকে নাইমির উপর ক্রমবর্ধমান চাপ আসতে পারে। ভেনেজুয়েলা ও ইরান উভয়েই তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে সংগ্রাম করছে। কয়েক দশকের যুদ্ধের শেষে ইরাকের পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজন তেলের উচ্চ মূল্য। রাশিয়াও সংকটে পড়েছে জ্বালারিন দামের ক্রমপতনে। সূত্র: টেলিগ্রাফ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ