ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইসলাম গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন উইন্সটন চার্চিল !

অনইসলাম: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও সাহিত্যে নোবেলজয়ী উইন্সটন চার্চিল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম হতে চেয়েছিলেন। তাকে ইসলাম গ্রহণ না করার জন্য তার পরিবারের সদস্যরা বারবার অনুরোধ করেছিল। তাদের ভয় ছিলো তিনি মুসলমানই হয়ে যান কি না।

চার্চিলের কাছে পাঠানো তার পরিবারের একটি চিঠি উদ্ধার হয়েছে সম্প্রতি। এই চিঠিতে ইসলাম ও প্রাচ্যের প্রতি চার্চিলের মুগ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চার্চিল যেন কোনো মতেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করেন, সেজন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে অনুরোধ জানায় এই চিঠিতে।

অবশ্য ইসলামের প্রতি চার্চিলের এই মোহমুগ্ধতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল। ১৯০৭ সালে চার্চিলকে লেখা তার ভাবির একটি চিঠিতে এই প্রসঙ্গের উল্লেখ পাওয়া গেছে। তার ভাবি চার্চিলকে অনুরোধ করেন, ইসলাম গ্রহণ করো না।

তিনি চার্চিলকে জোর দিয়ে বলেন, অনুগ্রহ করে, ইসলামে ধর্মান্তরিত হবেন না; আমি আপনার প্রাচ্যপ্রীতি (প্রাচ্য ও ইসলামের প্রতি মুগ্ধতা) এবং পাশা-সদৃশ্য মুগ্ধতা লক্ষ করছি।
তিনি চিঠিতে তাকে সাবধান করে দিয়ে বলেন, আপনি ইসলামের সংস্পর্শে আরো এলে আপনি ধর্মটি গ্রহণ করে ফেলবেন।
চার্চিলের ভাবি তার মুসলিম হওয়ার বাসনার বিরুদ্ধে তাকে লড়াই করতে পরামর্শ দেন।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস গবেষণার ফেলো ওয়ারেন ডোকটর চিঠিটি উদ্ধার করেছেন। চার্চিলের ভাই জ্যাকের স্ত্রী লেডি গোয়েনডলিন বারটি চার্চিলকে এই চিঠি লেখেন।
ঐ চিঠির জবাবে সে বছরই চার্চিল একটি ফিরতি চিঠিতে উল্লেখ করেন, তুমি মনে কর আমি একজন পাশা (অটোম্যান সম্রাজ্যের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদবী), "আহা, যদি আমি হতে পারতাম"।
গবেষক ওয়ারেন ডকটার তার ‘উইনস্টন চার্চিল অ্যান্ড দ্য ইসলামিক ওয়ার্ল্ড’ বইতে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বইটি বাজারে আসছে।
গবেষক ওয়ারেন ডকটার বলেন, খুব সম্ভবত চার্চিল ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মকে সমান মূল্যায়ন করতেন। তাছাড়া তিনি তুর্কি উসমানিয়া সালতানাতের সামরিক শক্তি ও ইতিহাসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।
১৯৪০ সালে ইসলাম ও প্রাচ্যের প্রতি চার্চিলের মুগ্ধতা প্রকাশ্য ফুটে উঠে যখন তিনি লন্ডনে একটি মসজিদ নির্মণের পরিকল্পনা করেন এবং এ জন্য এক লাখ পাউন্ড বরাদ্দ করেন। সেই পরিকল্পনা অনুসারেই বর্তমানের লন্ডনের রিজেন্ট পার্কের সেন্ট্রাল মস্ক নির্মিত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ ঐ সময়ে ব্রিটেনের পক্ষে মুসলিম বিশ্বের সমর্থন লাভের প্রত্যাশায় নানামুখি সমালোচনা সত্ত্বেও চার্চিল মসজিদটি নির্মাণে তার সহায়তা অব্যাহত রেখেছিলেন।
১৯৪১ সালে হাউস অফ কমন্সে তিনি বলেছিলেন, ইতিমধ্যেই প্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অধিকাংশ বন্ধু রাষ্ট্রই তার এই উপহারের প্রশংসা করেছে।
গবেষক ওয়ারেন ডকটার বলেন, ওই সময়ে অন্যান্য ব্রিটিশরা মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে সাম্রাজ্যবাদী ধারণা পোষণ করলেও চার্চিলের ইসলামপ্রীতি ছিল একেবারেই আন্তরিক। তিনি শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কেও জানতে আগ্রহী ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ