ঢাকা, শুক্রবার 16 November 2018, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম ঘোষণা ও আন্তর্জাতিক অন্যান্য ঘোষণার অংশ হতে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছে ফিলিস্তিন।

ফিলিস্তিনের এই পদক্ষেপে দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের বিদ্যমান উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশটিকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কাটছাট হতে পারে বলে ধারণা করছেন পশ্চিমা বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার জাতিসংঘে নিযুক্ত প্রধান ফিলিস্তিনি পর্যবেক্ষক রিয়াদ মনসুর ও জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক নথিপত্র বিশ্ব সংস্থার সদর দপ্তরে পেশ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

নিজেদের এই উদ্যেগকে একটি “যুগান্তকারী পদক্ষেপ” বলে মন্তব্য করেছেন মনসুর।

তিনি বলেছেন, “দখলদারী শক্তি ইসরায়েলের হাতে নিহত সকলের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা এই বিকল্পটি বেছে নিয়েছি।”

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ১৬টি আন্তর্জাতিক ঘোষণা চুক্তিতে যোগ দেয়ার জন্য ফিলিস্তিন নথিপত্র জমা দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করার জন্য নথিপত্রগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।”

ইসরায়েলের প্রতিবেশী হিসেবে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সমর্থন করলেও ফিলিস্তিনের এ পদক্ষেপের বিরোধীতা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।

তারা বিতর্ক তুলে বলেছেন, ফিলিস্তিনের এ ধরনের “একপেশে” পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টায় বিপর্র্য ডেকে আনতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, “আইসিসি’তে ফিলিস্তিনের যোগ দেয়ার পদক্ষেপে আমরা গভীর সমস্যায় পড়েছি। এই পদক্ষেপের জন্য সমস্যা তৈরি হলে আশ্চর্য হওয়া কিছু নেই, তবু বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে খতিয়ে দেখছি আমরা।”

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন তিনি।

প্রতি বছর ফিলিস্তিনকে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য পদ নিয়ে ফিলিস্তিন যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে তাহলে এই সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হবে।

হেগ ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালত গুরুতর যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলো নিয়ে কাজ করে।

রোম ঘোষণা অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদরদপ্তর কর্তৃক নথিপত্র স্বাক্ষর ও অনুমোদনের ৬০ দিন পর সদস্য পদ পাবে ফিলিস্তিন। এরপর প্রথমদিনেই আদালতে অভিযোগ আনতে পারবে ফিলিস্তিন।

এর ফলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যে সব অপরাধ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হবে সেগুলো তদন্ত করে বিচারের আওতায় নিতে পারবে আইসিসি।

এদিকে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র, দুটি দেশের কোনোটিই আইসিসি’র সদস্য দেশ না।

সূত্র : রয়টার্স

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ