ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মেঘনায় লঞ্চ দুর্ঘটনা- নিহত-৪, আহত-৫৬

শাহে আলম, বরিশাল অফিস :সুন্দরবন-৮ লঞ্চকে ধাক্কা এবং ৩ যাত্রী নিহত হবার ঘটনায় পারাবাত-৯ এবং সুন্দরবন-৮ লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল এবং চালকদের লাইসেন্স স্থগিত করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে পারাবাতের চালককে অভিযুক্ত করে চাঁদপুর থানায় মামলা করেছেন সুন্দরবন-৮ লঞ্চের চালক মো.মজিবুর রহমান। এই দুর্ঘটনায় লঞ্চেই মারা যান ভিআইপি কেবিন গ্রীণ হাউসের যাত্রী বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সাত মাইল এলাকার শাহানা পারভিন (৬০) । শাহানা পারভিন তার ছেলে লে.কর্ণেল মোস্তফা কামালের সাথে ঢাকা যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় তার ছেলে মোস্তফা কামালসহ পরিবারের সাতজন গুরুতর আহত হন। চাঁদপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় নিহতের নাতি শাকিল আহমেদ (৭) ।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই ৩ জন এবং ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুপা আক্তার (২৫) নামে আরো একজন মারা যান। ঘটনাস্থলে নিহতরা হলেন-সাহানা বেগম (৫০), শাকিল (৬)। আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহত ও আহত সকলের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে।

লঞ্চের অন্যযাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বরিশালগামী এমভি পারাপত-৯ লঞ্চের ধাক্কায় ঢাকাগামী এমভি সুন্দরবন-৮ লঞ্চটি দুর্ঘটনা কবলিত হয় । এতে দুমড়ে মুচড়ে যায় সুন্দরবন লঞ্চের ডান দিকের ৪টি কেবিন। আহত যাত্রীদের মধ্যে ৮ জনকে চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতাল আনা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সুন্দরবন-৮ লঞ্চের চালক মো.মজিবুর রহমান জানান,ঘণ কুয়াশার কারণে তিনি লঞ্চটিকে মধ্য মেঘনায় ধীর গতিতে চালাচ্ছিলেন। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা পারাবাত-৯ তার লঞ্চের মাঝ বরাবর আঘাত হানে। এতে তৃতীয় তলার ভিআইপি কেবিনসহ দ্বিতীয় তলার ডেক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৫৬ যাত্রী হতাহত হয়েছেন জানিয়ে চালক বলেন তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য লঞ্চটিকে চাঁদপুর ঘাটে থামানো হয়। সেখানে গুরুতর আহত সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চাঁদপুর পুলিশের নির্দেশে তিনি রাত পৌনে চারটার দিকে সুন্দরবন-৮ লঞ্চের যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা ফিরে যান। সকাল সোয়া আটটার দিকে যাত্রীদের ঢাকা ঘাটে পৌঁছে দিয়ে আবার তিনি চাঁদপুর ফিরে মামলা দায়ের করেন।
সুন্দরবন-৮ লঞ্চের যাত্রীরা জানান,পারাবাত তাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে বিপদের আশংকায় পারাবাতকে বারবার গতি পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছিল। কিন্তু চালক তাতে কর্ণপাত করেণনি।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক মো. মোবারক হোসেন বলেন,  রাতে ঘন কুয়াশায়ার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। লঞ্চগুলো রাতেই স্ব-স্ব গন্তব্যে ঢাকা ও বরিশাল পৌঁছে গেছে। তিনি আরো জানান, নিহতের পরিবার ঢাকার লালবাগ এলাকায় বসবাস করেন। তারা পারিবারিক একটি অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা ফিরছিলেন।

এদিকে, এই ঘটনায় লঞ্চ দুটির পারমিট বাতিল করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ