ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঢাবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে ছাত্রলীগ পেশাজীবীলীগের কর্মীরা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকার কথা। কিন্তু শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে ছাত্রলীগ, পেশাজীবীলীগ ও সমমতাবলম্বী কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ঢাবি শিক্ষক সমিতির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এ রকম পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সারা দেশে হরতাল অবরোধের  নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ও দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলদলের শিক্ষকরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টায় নির্দিষ্ট সময়ে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হলে কিছুক্ষনের মধ্যেই ঢাবির সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোবারক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আরেফিন সিদ্দিক সুজনের নেতৃত্বে একটি মিছিল মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে। এর পর থেকে পেশাজীবীলীগ ও সমমতাবলম্বী কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে যোগ দেয়।
ঢাবি শিক্ষক সমিতির মত কর্মসূচিতে এমন পরিস্থিতির উপস্থিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। অনেকেই অভিযোগ করেছে, শিক্ষক সমিতির মত কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ ও পেশাজীবীলীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ঢাবির শিক্ষকদের লজ্জাকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। 
ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামালের সঞ্চালনায় এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান, এ এফ রহমান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শফিকুজ্জামান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, ফার্মেসী বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক, ঢাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ আলী, বিজয় একাত্তর হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূইয়া, অধ্যাপক ইমামূল হক প্রমুখ।
মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য বিএনপির-জামায়াত ও ২০দলীয় জোটের ডাকা হরতাল, অবরোধ ও ধর্মঘটে সারাদেশে নাশকতাকারীদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
তারা বলেন, এটি জনগণের আন্দোলন নয়। খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেকের আন্দোলন। তারা জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করতে চায়। কম্বাইন্ড অপারেশন, চিরুনী অভিযান চালিয়ে দেশ থেকে তাদেরক দেশ থেকে চিরবিদায় করার জন্য সরকারের প্রতি তারা আহ্বান জানান।
তারা আরো বলেন, এসব কাজ কোন রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা হতে পারে না। এগুলো স্বৈরাতান্ত্রিক কর্মকান্ড। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে দেশে এ জাতীয় হত্যাযজ্ঞ চালানোর সাহস কেউ না পায়।


অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ