ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হারাম শরীফ সম্প্রসারণে বাদশাহ আব্দুল্লাহ'র অবদান

অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র কাবা শরীফ মুসলিম উম্মাহ'র ঐক্য ও প্রেরণার উৎস। পবিত্র হজ্জ এবং উমরাহ উপলক্ষে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মুসলমান কাবাঘর তাওয়াফ করেন। দিন দিন এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাবা ঘরের খাদেম হিসেবে তাই সৌদি বাদশাহগণ কাবাঘরের সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজে মূখ্য ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করে আসছেন। এ ক্ষেত্রে বাদশাহ আব্দুল্লাহও পালন করে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ ২০১১ সালের ১৯ আগষ্ট শুক্রবার কাবা শরীফের নতুন সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নতুন এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অতিরিক্ত আরো ১২ লাখের মত হজ্বযাত্রীর সংকুলান হবে।

ইতোমধ্যে কাবা ঘরের চারদিকে নির্মাণ করা হয়েছে মাতাফ ব্রিজ। এরফলে চলাচলে অক্ষম ও প্রবীণদের জন্য পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফ করা এখন আরও সহজ হয়ে গেছে। তার ওপর দিয়ে কোন হুড়োহুড়ি ছাড়াই এমন মুসলিম নর-নারী পবিত্র কাবা শরীফকে তাওয়াফ করতে পারছেন। সৌদি আরব টেলিভিশনে দেখা গেছে ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে বিপুল সংখ্যক চলাচলে অক্ষম ও প্রবীণ কাবা শরীফ তাওয়াফ করছেন।
প্রতিটি মুহূর্ত কাবা ঘরকে তাওয়াফ করছেন অগণিত মানুষ। তাদের ভিড়ে চলাচলে অক্ষম ও প্রবীণদের কাবা ঘরকে তাওয়াফ করা বলা যায় অসম্ভব ব্যাপার। এমন অবস্থায় এসব মানুষের জন্য চমৎকার এক উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব সরকার।

বাদশাহ আবদুল্লাহর নির্দেশে এই ব্রীজ তৈরি করা হয়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র দুই মসজিদবিষয়ক প্রেসিডেন্ট শেখ আবদুল রহমান আল সাউদি জানান, এই মাতাফ ব্রিজের প্রস্থ ১২ মিটার ও উচ্চতা ১৩ মিটার। এক ঘণ্টায় এ ব্রিজের ওপর দিয়ে ১৭০০ হুইল চেয়ার চলাচল করানো যাবে।

হারাম শরীফ সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে দুই পবিত্র মসজিদ বিষয়ক প্রেসিডেন্সির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আল খোজাইম বলেন, ‘কিং আব্দুল্লাহ এক্সপানসন' নামের ঐ প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য সর্বাধুনিক যান্ত্রিক এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে অতিরিক্ত আরো ১২ লাখের মত হজ্বযাত্রীর সংকুলান হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়াও নতুন সম্প্রসারিত অংশে আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণসহ সব ধরনের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। মসজিদের উত্তরদিকের চত্বরে ছাউনি নির্মাণ করা হবে। সম্প্রসারিত অংশটি মূল মসজিদ এবং মাসায়ার সাথে কয়েকটি ব্রিজের সাহায্যে সংযুক্ত করা হবে। এছাড়াও নতুন সম্প্রসারিত অংশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক সিঁড়ি সংযোজন করা হবে। এছাড়াও পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফের জায়গা সম্প্রসারণ এবং মসজিদের সব অংশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন আল-খোজাইম।

পবিত্র হারাম শরিফের নতুন সম্প্রসারণ প্রকল্পের সাথে এ প্রকল্প দু'টিও খুব কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাদশাহ আব্দুল্লাহর নির্দেশে সম্পাদিত বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে আল-খোজাইম বলেন, মা-সায়ার (সাফা মারওয়ার মধ্যে সায়ী করার স্থান) জায়গা সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হলে সেখানে প্রতি ঘণ্টায় ১ লাখ ১৮ হাজার হাজী সায়ী করতে পারবেন। আগে যেখানে ঘণ্টায় মাত্র ৪৪ হাজার হাজী সায়ী করতে পারতেন।

বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইন্ডোমেন্ট টাওয়ারকে মক্কার সবচেয়ে বৃহৎ রিয়েল এস্টেট প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। এতে ৬টি আবাসিক ভবন এবং একটি ৫ তারকা হোটেল সন্নিবেশিত থাকবে। সামনের ভবনটি হবে ২৮ তলা বিশিষ্ট এবং পিছনেরটি হবে ৩৫ তলা বিশিষ্ট। আর পার্শ্বের ভবন হতে ৪৫ তলা বিশিষ্ট। এছাড়া হোটেল ভবনটি হবে ৬০ তলা বিশিষ্ট। সমগ্র কমপ্লেক্সে মোট ১১ হাজার কক্ষ ও স্যুট থাকবে। যেখানে ৩৫ হাজার হজ্বযাত্রীর সংকুলান হবে। হাজীদের কল্যাণে বাদশাহর নেয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন আল-খোজাইম। যেগুলো আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিনা, আরাফাত এবং মুজদালিফার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী মাশাইয়ার রেলওয়ে প্রকল্প, পবিত্র মক্কা ও মদিনার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী হারামাইন রেলওয়ে প্রকল্প, জামারাত ব্রিজ প্রকল্প, সেন্ট্রাল জোন ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প, বাদশাহ আব্দুল আজিজ রোড, নতুন সংযোগ সড়ক এবং এর সাথে পবিত্র নগরীর বন্যার পানি নিষ্কাশন প্রকল্প।

শুধুমাত্র জামারাত ব্রিজ প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে ব্যয় হয় ৪শ' ৫০ কোটি সৌদি রিয়াল।

শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় প্রচন্ড ভিড় এড়াতে এই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ৫০ লাখ হাজীর ধারণক্ষমতাসম্পন্ন করে এই ব্রিজের নকশা প্রস্তুত করা হয়েছিল। এছাড়া আগামী নবেম্বরে অনুষ্ঠেয় হজ্বের আগেই মাশাইর রেলওয়ে প্রকল্প পুরোপুরিভাবে চালু হয়ে যাবে।

মেট্রো সার্ভিসের ১৭টি ট্রেন যাতায়াত করবে। প্রত্যেকটি ট্রেনে ১২টি বগি থাকবে। এর এক একটি ট্রেনে ৩ হাজার করে হাজী বহন করতে পারবে।

-আরব নিউজের সৌজন্যে
আ.হু/ডি.স

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ