ঢাকা, মঙ্গলবার 15 October 2019, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

হরতালে এসএসসি পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত

হরতালের কারণে এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। সোমবার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সময়সূচি পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন।
পরিবর্তিত সময়সূচিতে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে চার ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকে। সোমবারের পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে। শুক্রবার জুমআর নামাজ থাকায় ওই দিন ১০টার পরিবর্তে নয়টায় পরীক্ষা শুরু হবে। এ ছাড়া  অন্যদিন যথানিয়মে সকাল ১০টা থেকেই পরীক্ষা শুরু হবে বলে সম্মেলনে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
আজ রোববার দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কক্ষে জরুরি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে  শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়ে বলেন, আমরা আশা করছি শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে পরীক্ষার বাকি দিনগুলোতে তারা হরতাল দেবেন না। এ টুকু দায়বদ্ধতা যদি কারো না থাকে, তাহলে তাদের কাছে জাতি কী আশা করতে পারে।
সম্মেলনের শুরুতে মন্ত্রী বলেন, আপনারা সকলেই জানেন প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের এক তারিখে বা দুই তারিখে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়্। প্রতি বছরই নির্ধারিত সময়ে তা করতে পেরেছি আমরা। শৃঙ্খলাও ঠিক রাখতে পেরেছি। এমনকি নির্ধারিত সময়ে বই ছাপানোর মত সাঙ্ঘাতিক বড় কাজও করতে পেরেছি। বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা বড় একটি কাজ। ছোট খাট অনেক ত্রুটি থাকলেও আমাদের দেশের ছেলেরা এক তারিখেই বই পাচ্ছে। এর পেছনে সবারই আন্তরিকতা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমর্ওা বুঝতে পারি আমাদের কাজে অনেক ত্রুটি আছে। তার পরও চালিয়ে যাচ্ছি। আস্তে আস্তে ঝড়ে পরা কমে আসছে। মেয়েরা সমতা অর্জন করছে। সব মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। এই লক্ষ্যে যে, আমাদের নতুন প্রজন্ম আধুনিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
মন্ত্রী বলেন, এর জন্য আমাদের প্রয়োজন নিবেদিতমান ও দক্ষ শিক্ষক। এগুলো আমরা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। উচ্চ শিক্ষায় আমরা এখন পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। আমরা সে চেষ্টাই নিচ্ছি যে, জ্ঞান চর্চায় নতুন কিছু আনতে হবে।
তিনি বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অবরোধ, হরতালের কারণে ক্লাসের ব্যাঘাত ঘটছে। আর এর কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর প্রভাবে আগামী তিরিশ বছর আমাদের ভোগতে হবে। আমরা খুবই মর্মাহত, আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে ঠিকমতো লেখাপড়া করাতে পারছি না। ঠিকমতো বই দিতে পারছি না। তবুও আমরা হরতালের মধ্য্ওে এক তারিখে বই দিয়েছি।
তিনি বলেন, হরতালের কারণে একজন শিক্ষক মারা গেছেন, আমাদের ছাত্র-ছাত্রী মারা যাচ্ছেন। যারা মারা যাচ্ছেন, তারা কোনো  না কোনো শিক্ষার্থীর বাবা, মা অথবা আত্মীয়। এ অবস্থায় আপনারা দেখছেন যে, আমাদের পরীক্ষার সময় অবরোধ, হরতাল চলছে। আমরা এটা প্রত্যাহার করার জন্য বারবার অনুরোধ করেছি। বিনীতভাবে যতটুকু সম্ভব, যে ভাষায় সম্ভব তাদের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু সাড়া পাইনি। সর্বশেষ যখন তারা হরতাল আহ্বান করেছেন।তখন আমি বলেছি, আমরা আগের অবস্থানেই আছি, তবে কিছুটা পিছিয়ে এসেছি। সেই পিছানোটা হলো, আমরা তাদের কাছে অন্তত পরীক্ষার দিন হরতাল না দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের সাড়া আশা করেছিলাম। এর জন্য অপেক্ষাও করেছি। কিন্তু  এখন দুপুর ১২টা বেজে গেছে। তাদের সাড়া দেয়ার কোনো লক্ষণ দেখছি না। সেই দলের এক বড় নেতা বলেছেন, পরীক্ষা দিয়ে কি হবে, আমার গণতন্ত্র আগে, আমার স্বার্থ আগে। সেখানে এক ধরনের প্রত্যাখ্যান করা হলো আমাদের নতুন প্রজন্মকে। সুতরাং এর পরে আর অপেক্ষা করার সময় নেই। স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি দেশবাসীকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, এর মধ্যে আপনারা লক্ষ্য করেছেন, দেশবাসি ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। এমনকি ছেলে মেয়েরা খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে গিয়ে অবরোধ, হরতাল প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো সাড়া দেননি। তারা উপেক্ষিত  হয়ে ফিরে এসেছেন।
তিনি বলেন, যদিও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আশ্বাস দিয়েছে, তারা ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা দেবে। কিন্তু হামলা তো হচ্ছে চোরাগোপ্তা। শিক্ষার্থীরা এ বিপদ মাথায় নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসতে পারবে না। তাই আমাদের সামনে সময় পরিবর্তন করার পথ খোলা ছাড়া  অন্য কোনো উপায় নেই।
এর পর তিনি পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি ঘোষণা করেন। এবং আশা প্রকাশ করেন পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর সময় হরতাল না দেয়ার জন্য।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবরোধ এখন আর কারযকর নয়। তারাই যেহেতু অবরোধের পরও হরতাল দিচ্ছেন, এর মানে অবরোধ কোনো প্রভাবই ফেলছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ