ঢাকা, শুক্রবার 18 October 2019, ৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে এবার পুলিশের কথিত “বন্দুকযুদ্ধে” শিবির নেতা নিহত

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে ছাত্রদল ও জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার পর এবার ছাত্রশিবিরের ওয়ার্ড পর্যায়ের একজন নেতাও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের এই দাবি নাকচ করে ওই শিবির নেতাকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্র সংগঠনটি। ঢাকা কলেজের পরিসংখ্যানে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র নিহত মোঃ এমদাদ উল্লাহ (২৩) ঢাকা মহানগরীর শাহআলী থানার ৯৩ নং ওয়ার্ড শাখা শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তার পিতার নাম মোঃ জামাল উদ্দিন, মাতা আনোয়ারা বেগম । গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার বানিয়ারপাড়। তিন ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে ষষ্ঠ ছিলেন এমদাদ ।
গতকাল রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মিরপুর অরজিনাল ১০ এলাকার একটি চেকপোস্টে তল্লাশিকালে দু’টি পেট্রলবোমাসহ এমদাদ উল্লাহকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, রাত সাড়ে আটটার দিকে মিরপুরের শিবির নিয়ন্ত্রিত একটি মেসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে পেট্রলবোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ আরও ১১জনকে আটক করা হয়। এরপর ওই ১১ জনকে থানায় পাঠিয়ে এমদাদ উল্লাহর তথ্যানুযায়ী তাকে নিয়ে রূপনগর বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযানে যায় মিরপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল। পুলিশের দলটি বেড়িবাঁধের এনা প্রপার্টিজের প্রবেশ গেটে পৌঁছালেই রাত আনুমানিক সোয়া ১১টার দিকে সেখানে সাদা মাইক্রোবাসে ওত পেতে থাকা শিবির কর্মীরা পুলিশের গাড়িতে গুলি বর্ষণসহ ককটেল ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশও গুলি ছোড়ে। এ সময় মাইক্রোবাসসহ শিবির দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। তবে এমদাদউল্লাহও গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শিবির  দুষ্কৃতিকারীদের ছোড়া গুলিতে সে আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। এরপর রূপনগর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় পুলিশের দু’জন সদস্যও আহত হয়েছেন।
ইতিপূর্বে রাজধানীতে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটলেও গণমাধ্যমে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ থেকে কোন প্রকার প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর নজির নেই । শুধুমাত্র এই ঘটনাটিকে সাজাতেই মিডিয়া বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে প্রেসবিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে পুলিশের পক্ষে বন্দুকযুদ্ধের দাবী করা হয়েছে। ওই প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিরপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে । তারপর রাতে অভিযানের সময় কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার জন্ম। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা মিরপুর থানা পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধ হলেও এমদাদকে আহতাবস্থায় কেন ফেলা আসা হয়েছে, কেনইবা তাকে রুপনগর থানা পুলিশ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এসেই তারা চলে যায, তারও কোন ব্যাখ্যা মিডিয়া বিভাগের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে তাদের দু‘জন সদস্য আহত হলেও তাদের পরিচয় জানানো হয়নি, বলা হয়নি তাদের বর্তমান অবস্থান, অবস্থার কথাও ।
তবে গতকাল ইসলামী ছাত্র শিবিরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোন অভিযোগ ছাড়াই গতকাল ৩১ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের ৬ নম্বরের বাসার সামনে থেকে ১৮ বছর বয়সী শিবির নেতা এমদাদ উল্লাহকে মিরপুর থানা পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাকে নিয়ে বিভিন্ন মেসে অভিযান চালিয়ে আরো ৯ জনকে আটক করে। কিন্তু‘ পুলিশ তাকে অভিযানের নামে গভীর রাতে কোন এক সময় গুলি চালিয়ে হত্যা করে দায় এড়াতে লাশ রূপনগর থানায় রেখে যায়। রূপনগর থানা কর্তৃপক্ষ তার লাশ ঢাকা মেডিকেলে রেখে চলে আসে। বিজ্ঞপ্তিতে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শিবির নেতা এমদাদ উল্লাহকে হত্যাকারী পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানায় শিবির।
শিবির নেতা এমদাদ উল্লাহকে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে এ পর্যন্ত সারাদেশে নিরাপত্তাবাহিনীর  হেফাজতে থেকে ও কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৯ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলো। এরমধ্যে গত ২০ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাজধানীতে নিহত হন খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ওরফে জনি। ১৯ জানুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীতে গোয়েন্দা পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে ইমরুল কায়েস নিহত হন। তিনি জামায়াত নেতা ও নড়াইল পৌরসভার কাউন্সিলর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ