ঢাকা, মঙ্গলবার 15 October 2019, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সরকার দলীয় লোকেরাই পেট্রোল বোমাবাজীর সাথে জড়িত: বিএনপি

বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ আজ এক বিবৃতি বলেন, অবৈধ সরকার ক্ষমতার নেশায় “পোড়া মাটি” নীতি অবলম্বন করেছে।
“ বিগত এক মাসের গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের ১৫০০০ এর অধিক নেতা-কর্মীকে সরকারী পেটোয়া পুলিশ বাহিনী গ্রেফতার করেছে। প্রতিদিন অনেক নেতা-কর্মীকৈ ক্রসফায়ারে হত্যা করা হচ্ছে। গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হচ্ছে অনেক নেতা-কর্মী। রাতের অন্ধকারে নিভৃত জনপদ গ্রাম-গ্রামান্তরে হানাদার বাহিনীর কায়দায় নিরীহ জনগণের বসতবাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়া হচ্ছে। সর্বনাশা অবৈধ এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার নেশায় “পোড়া মাটি” নীতি অবলম্বন করেছে।
আমরা বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বারবার পেট্রোল বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই হিংস্রতার সাথে জড়িত দূর্বৃত্তদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে আসছি। অথচ আন্দোলনকারীদেরকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক কায়দায় বাড়ী থেকে ধরে এনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থকরণের কুমানসে এইসমস্ত ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা দেখিয়ে সরকার পক্ষে জনগণের সহানুভুতি আদায়ের কুটকৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে দলীয়করণকৃত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যদের মাধ্যমে।
গতকাল কয়েকটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রকৃত ঘটনায় প্রমানিত হয়েছে যে, সরকার দলীয় লোকেরাই এইসমস্ত পেট্রোল বোমাবাজীর সাথে জড়িত। অবৈধ সরকার, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহানুভুতি আদায়ের জন্য এই ঘৃন্য ও ন্যাক্কারজনক নীতি গ্রহণ করেছে মর্মে আমরা ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে জাতিকে অবহিত করেছি। সরকারবিরোধী ন্যায়সঙ্গত গণআন্দোলনকে কলুষিত করে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করাই এর প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এটি আওয়ামী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অপসংস্কৃতি।
চৌদ্দগ্রামে পেট্রোল বোমাসহ দুই যুবলীগ নেতা মানিক ও বাবুলকে আটকের পর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সদ্য বিবাহিত স্থানীয় মন্ত্রীর নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেয় হয়। জনগণ মনে করে চৌদ্দগ্রাম ট্র্যাজেডির খলনায়ক এই মন্ত্রী ও তার নির্দেশদাতা অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্বরোচিত এই ঘটনায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে পরিকল্পিতভাবে হুকুমের আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বরাবরের মতোই। ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং এ ধরণের সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
একই রকম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতকাল ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের ছাত্র গোলাম কিবরিয়াকে মিছিল থেকে ধরে নিয়ে বোমাবাজ সাজানো হয়েছে। শাহজাহানপুরে কাউসার নামে এক যুবককে পুলিশ গুলি করে তাকে বোমাবাজ সাজিয়েছে। চৌদ্দগ্রামে শান্তিপূর্ণ মিছিল থেকে গ্রেফতার করে চৌদ্দগ্রাম শিবির সভাপতি বোরহান উদ্দিন, শিবির নেতা আবু ইউসুফ, আবু সুফিয়ান ও আবদুল আলীমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে পা’য়ে গুলি করে তাদেরকে কুমিল্লা মেডিকেলে ভর্ত্তি করা হয়। আমরা এসকল জঘন্য কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং তাদের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তা ব্যক্তিদের নসিহত করতে চাই-আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে আপনাদের প্রত্যেকটি বেআইনী কর্মকান্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। অতএব অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের বেআইনী নির্দেশ আপনারা মানতে বাধ্য নন। নিরীহ জনগণের বুকে গুলি চালাবেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ