ঢাকা, সোমবার 14 October 2019, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

চব্বিশ ঘন্টায় ৩ জামায়াত-শিবির নেতা পুলিশের গুলিতে নিহত

গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহী, কুমিল্লা ও সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে জামায়াত-শিবিরের ৩ নেতাকর্মী নিহত ও ছাত্রদলের এক নেতা গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় শিবিরের আরো দুই কর্মী গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- শিবির নেতা শাহাবুদ্দিন, সাহাব পাটওয়ারী ও জামায়াত কর্মী শহিদুল ইসলাম। আর আহত হয়েছেন ছাত্রদল নেতা আব্দুল মজিদ, শিবিরের বিনোদপুর আবাসিক (মেস) শাখার সভাপতি মফিজুর রহমান ও শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি হাবিবুর রহমান।

নিহত শাহাবুদ্দিন শিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তথ্য সম্পাদক। আর সাহাব পাটওয়ারী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাটাখালি বাজারে শিবিরের তথ্য সম্পাদক শাহাবুদ্দিন, বিনোদপুর আবাসিক (মেস) শাখার সভাপতি মফিজুর রহমান ও শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি হাবিবুর রহমান বন্ধুর বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেল যোগে কাটাখালি পৌরসভার সামনে আসেন। এসময় তাদেরকে মতিহার থানা পুলিশ আটক করে।

আর আটকের পর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চারজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহাবুদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আর অপর দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এছাড়া, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিবিরের সভাপতি সাহাব পাটওয়ারী (২৪) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (কুমেক) মর্গে নিহতের পরিবার তার লাশ সনাক্ত করেন।

নিহতের মা ছাকিনা বেগম জানান, তার ছেলে সাহাব পাটওয়ারিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ১০মিনিটের দিকে পৌর এলাকার নিজ বাসা থেকে সাদা পোশাকদারী পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। আজ শুক্রবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ মর্গে কে বা কারা তার লাশ ফেলে যায়। 

পরে সেখানে নিহতের লাশ সনাক্ত করা হয়। নিহত সাহাব পাটওয়ারী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিবিরের সভাপতি ছিলেন।

অপর দিকে সাতক্ষীরায় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শহিদুল ইসলাম নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। তাকে সাতক্ষীরা থেকে পুলিশ আটক করেছিল বলে যশোর জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন।

নিহত শহিদুলের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশিমপুর গামে। তার বাবার নাম মো. নূর আলী সানা। তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া, যশোর থেকে আব্দুল মজিদ (৩৫) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে আটকের পর সাতক্ষীরায় এনে পুলিশ গুলি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মজিদকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কের ঠাকুরবাড়ি এলাকায় তাকে গুলি করে আহত করা হয়। আব্দুল মজিদের বাবার নাম আব্দুস সাত্তার। কলারোয়া উপজেলার তুলসি ডাঙ্গা গ্রামে তাদের বাড়ি। তিনি পৌর ছাত্রদলের সভাপতি বলে জানা গেছে।

অপর দিকে আহত মজিদের পরিবার জানায়, তাকে যশোর থেকে পুলিশ আটক করেছিল। রাতে পরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ