ঢাকা, শনিবার 28 February 2015 ১৬ ফাল্গুন ১৪২১, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে ২২ তলা বিশিষ্ট প্রথম পাঁচ তারকা হোটেল র‌্যাডিসন’র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন

চট্টগ্রাম অফিস : বাংলাদেশ সেনাকল্যাণ সংস্থার অর্থায়নে চট্টগ্রামে ৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২ তলা বিশিষ্ট প্রথম পাঁচ তারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু-চিটাগাং বে ভিউ’র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাল  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অত্যাধুনিক এ হোটেল উদ্বোধন করতে চট্টগ্রাম আসছেন।
চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজার ও কাজীর দেউড়ি এলাকার মাঝামাঝি এবং চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের উল্টোদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ দশমিক ১৮ একর জমির ওপর এই পাঁচ তারকা মানের হোটেলটি নির্মাণ করেছে সেনা হোটেল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড।
 রেডিসন বে ভিউ হোটেল চিটাগাং প্রকল্পের মেজর এস এম গোলাম কাওসার জানান, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এটিই প্রথম পাঁচ তারকা মানের হোটেল। ভিস্তারা আর্কিটেক্টসের স্থপতি মুস্তাসিম পলাশ খালিদের নকশায় এবং প্রকৌশলী মো. রফিকের স্ট্রাকচারাল ডিজাইনে ২২ তলা বিশিষ্ট এ হোটেল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
 মেজর গোলাম কাউসার আরো জানান, প্রাচ্যের রানী খ্যাত চট্টগ্রামের পাহাড়-নদী-সমুদ্রের অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সঙ্গে মিল রেখে সবুজ বান্ধব নানা আয়োজনে হোটেলটি নির্মাণ করা হয়েছে।
 হোটেলে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত বিশেষ র‌্যাম্পের মাধ্যমে ঘুরে ঘুরে উঠতে পারবে গাড়ি। ষষ্ঠ তলাতেই থাকছে সার্কুলার কার পার্কিং ও সুইমিং পুল। পাঁচ তারকা এই হোটেলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যকে ধারণ করে মেজবান হল নামে পরিচিত দুটি ব্যাংকুইট হল করা হয়েছে। প্রতিটিতে একসঙ্গে মেজবানে অংশ নিতে পারবেন এক হাজার অতিথি। হোটেলের ভেতরে বাইরে মিলে এক হাজার অতিথির গাড়ি পার্কিংয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাতটি লিফট, দুটি লং টেনিস কোর্ট, একটি ডিসকো থিক, মিনি শপিং মার্ট, ব্যাংকসহ পাঁচ তারকা হোটেলের যাবতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই হোটেলে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকবে।
এ হোটেলে রয়েছে রুম ২৪১টি। এর মধ্যে ২২২টি সুপেরিয়র রুম। ১৩টি জুনিয়র স্যুট। ৪টি এক্সিকিউটিভ স্যুট। পুরো হোটেলের ছাদে বিশাল সুইমিং পুল ছাড়াও দু’টি বিশেষ স্যুটে রয়েছে আলাদা সুইমিং পুল। একটির নাম প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট অপরটি রয়েল স্যুট। থাকার সকল রুমই অষ্টম তলা থেকে উপরের দিকে যেগুলো থেকে এ শহরের প্রাকৃতিক রূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে অনায়াসে।
প্রতিটি রুমেই থাকবে ফ্রি ইন্টারনেট। থাকবে শপিং আর্কেড যাতে ডিজাইনারদের তৈরী পোশাক, স্বর্ণালংকার, পারফিউমসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা করা যাবে। আছে পেস্ট্রি শপও। স্পা, বিউটি সেলুন, হেলথ ক্লাব ছাড়াও রয়েছে ২টি টেনিস কোর্ট।
সকালের নাস্তা থেকে সন্ধ্যার ককটেল পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ের আনন্দ আর উত্তেজনার সুযোগ থাকবে র‌্যাডিসনে। থাকবে আন্তর্জাতিক মানের ৩টি রেস্তোরাঁও। তৃতীয় তলায় থাকবে ফরাসী রেস্তোরাঁ, পঞ্চম তলায় থাকবে অরিয়েন্টাল ও বাংলাদেশী খাবার। ইতালির রেস্তোরাঁ থাকবে ২০ তলায়। হোটেলের অতিথিরা ছাড়াও বাইরের অতিথিরাও এসব ডাইনিং ব্যবহার করতে পারবে বিনোদন ও বাণিজ্যিক উদ্দেশে।
বড়, মাঝারি ও ছোট ধরনের অনুষ্ঠান করার জন্য আলাদা আলাদা কনফারেন্স রুম রয়েছে। বহুমাত্রিক ব্যবহারের জন্য আছে ২টি বলরুম যার অতিথি ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৪শ’ জন। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক মেজবানকেও গুরুত্ব দিয়েছে র‌্যাডিসন কর্তৃপক্ষ। মেজবান নামে একটি হলও রয়েছে র‌্যাডিসনে। বাংলাদেশে এর মালিকানায় রয়েছে সেনা হোটেল ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড (এসএইচডিএল) আর ব্যবস্থাপনায় র‌্যাডিসন।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক হোটেল ও রিসর্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্লসন ও ডেনমার্কের রেজিডর হোটেল গ্রুপের যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দি কার্লসন রেজিডর হোটেল গ্রুপর র‌্যাডিসন ব্লু-নামে ২৩০টি হোটেল রয়েছে বিশ্বের ৭৩টি দেশে। নির্মাণাধীন আছে আরো ৫১টি।
ঢাকার র‌্যাডিসন ব্লু-ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত এ হোটেলটিতে রুম রয়েছে ২০৪টি।
 সেনা কল্যাণ সংস্থা সূত্র জানায়, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত স্থানে চট্টগ্রামে রেডিসন হোটেলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মাত্র তিন বছরের মধ্যেই এ বিশাল প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়।                                                    

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ