ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রের উপর ইসরাইলের বেপরোয়া গোয়েন্দাগিরি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি বিশ্বশক্তির সাথে আলোচনা শুরুর পরপরই এতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় ইহুদিবাদী ইসরাইল। পরপরই এতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় ইহুদিবাদী ইসরাইল। তবে পাল্টা গোয়েন্দা তৎপরতায় ইসরাইলের গোয়েন্দাগিরির তথ্য জেনে যায় যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এ সম্পর্কে অবগত হন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তি যাতে মাটিচাপা দেয়া যায় সে লক্ষ্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তৎপরতার অংশ হিসেবে এ গোয়েন্দাগিরি চালানো হয়।

এ সময় টেলিফোনে আড়িপাতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অতি গোপনীয় ব্রিফিংয়ের তথ্য, গুপ্তচরদের তথ্য এবং ইউরোপের কূটনৈতিক যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করে ইসরাইল।

বহুল প্রত্যাশিত এই চুক্তি যাতে ভেস্তে যায় সেজন্য এই গোয়েন্দাগিরি চালালেও এতে বিস্মিত হননি হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসরাইল ও  যুক্তরাষ্ট্রের একে অন্যের ওপর গোয়েন্দাগিরি  এক কথা আর  যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে তা মার্কিন আইনেপ্রণেতাদের কাছে হস্তান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা অন্য কথা।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও নিরাপত্তা হুমকিসহ নানা বিষয়ে একে অন্যের ওপর গোয়েন্দাগির চালায়। হোয়াইট হাউজ যেমন এটা কার্যত মেনে নিয়েছে তেমনি মেনে নিয়েছে ইসরাইলও।

ইসরাইলের কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ওপর গোয়েন্দাগিরি চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা এসব সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

তবে ইসরাইল ইরানের পরমাণু আলোচনা নিয়ে গোয়েন্দা তৎপরতার কথা অস্বীকার করে বলেছে,  ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর  গভীর নজরদারি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে তারা এসব তথ্য অবগত হয়েছেন।  

ইসরাইলে কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন এসব তথ্য সংগ্রহ করে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের হাতে তুলে দিয়ে লবিইং করে ইরানের সাথে চুক্তি ঠেকানো সম্ভব হবে।

ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানতেন, এতে ওবামা প্রশাসনের সাথে সম্পর্কের অবনতি হবে। কিন্তু হিসাব-নিকাশ করে তারা এই ঝুঁকি নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে ইসরাইল যেভাবে আশা করেছিল ফলাফল সেরকম হয়নি। কংগ্রেসের অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্যও এতে ইসরাইলের ওপর নাখোশ হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্ক কয়েক বছর ধরেই খারাপ যাচ্ছে। তবে ২০১২ সালে ওবামা ইরানের সাথে গোপন আলোচনা শুরুর পর সম্পর্কের আরো অবনতি হয়।  ইরানের সাথে আলোচনার বিষয় নিয়ে নেতানিয়াহুকে কিছুই জানাননি ওবামা।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যেসব দেশ আগ্রাসী গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় তাদের মধ্যে ইসরাইল শীর্ষে। এই তালিকায় আরো রয়েছে চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স।  অনদিকে যুক্তরাষ্ট্র যেসব ঘনিষ্ঠ দেশের ওপর গোয়েন্দা তৎপরতায় ব্যাপক সম্পদ নিয়োগ করেছে তার মধ্যে ইসরাইল শীর্ষে রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ