ঢাকা, শুক্রবার 16 November 2018, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিমানের ককপিটের বন্ধ দরোজা খোলার উপায় কি

অনলাইন ডেস্ক :
বিমানের ককপিটের দরোজা কিভাবে লক্ করা হয়? কেউ যদি ভেতর থেকে ককপিট লক করে দেন, তখন বাইরে থেকে সেটা খোলার উপায় কি?

গতকাল থেকে এই প্রশ্ন অনেকের মনেই হয়তো উঁকি দিচ্ছে আল্পসে বিধ্বস্ত জার্মান বিমানের ব্যাপারে এক ফরাসী তদন্ত কর্মকর্তার দাবির পর।

কো-পাইলট নিজেই ইচ্ছে করে জার্মানউইঙ্গসের বিমানটি আল্পস পর্বতমালায় বিধ্বস্ত করে বলে দাবি করেছেন ফরাসী তদন্ত কর্মকর্তা ব্রাইস রবিন। পাইলট যখন টয়লেটে গিয়েছিলেন, কো-পাইলট আন্ড্রিয়াস লুবিটজ নাকি তখন ককপিটের দরোজা তালাবদ্ধ করে দেন। পাইলট ফিরে এসে বহুবার ককপিটের দরোজায় আঘাত করার পরও তিনি আর দরোজা খোলেন নি।

এরকম ক্ষেত্রে কি ককপিটের বাইরে থাকা পাইলট বা ক্রুদের কিছু করার থাকে?

যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি এয়ারবাস-৩২০। পাইলটের সীটে বসে এই বিমানের ককপিটের দরোজা তিন রকম ভাবে লক্-আনলক্ করা যায়- আনলক, নরমাল, লক।

‘নরমাল’ মোডে ককপিটের দরোজা বন্ধ থাকে। কিন্তু বাইরে থেকে এটি খোলা যায় টাচপ্যাডে কোড বা পাসওয়ার্ড দিয়ে।

যদি কেউ ককপিটে ঢুকে পাইলটকে ধরাশায়ী করে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, সেক্ষেত্রে বাইরে থেকে একটি টাচপ্যাডে পাসওয়ার্ড বা কোড দিয়ে ককপিটের দরোজা খুলতে পারেন কেবিন ক্রুরা।

বাইরে থেকে কোন সহকর্মী যখন ককপিটে ঢুকতে চান, তখন পাইলট ‘আনলক’ বাটন চেপে দরোজা খুলে দিতে পারেন।

আর যদি ককপিটের দরোজা ‘লক্ড’ থাকে, সেক্ষেত্রে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত দরোজা বন্ধই থাকবে। বাইরে থেকে টাচপ্যাড ব্যবহার করেও তা খোলা যাবে না।

পাইলট বা কো-পাইলট নিজেই যখন বিমান হাইজ্যাক করতে চান, বা এটি বিধ্বস্ত করতে চান, সেটা ঠেকানোর উপায় তাহলে কি?

কারও কারও মত হচ্ছে, একটা উপায় ককপিটে সব সময় দুজনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। যদি পাইলট বা কো-পাইলটের একজন বাইরে যান, তখন সেখানে অন্য একজন কেবিন ক্রু গিয়ে ঢুকবেন, যাতে কেউ একটা ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারেন। কোন কোন এয়ারলাইন্সে এখনই এই নিয়ম চালু আছে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের শিকার জার্মান এয়ারলাইন্সে এই নিয়ম ছিল না? সেটাই কি তাহলে জার্মানউইঙ্গস ফ্লাইট ৯৫২৫ এই পরিণতির জন্য দায়ী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ