ঢাকা, রোববার 5 April 2015 ২২ চৈত্র ১৪২১, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

আইসিসি গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করেছে! মুস্তফা কামালের পদত্যাগ সঠিক সিদ্ধান্ত -জাকারিয়া পিন্টু

স্পোর্টস রিপোর্টার : ‘আর কাউকে না পাওয়া যাক, আইসিসির শুভেচ্ছা দূত ভারতীয় ক্রিকেট লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকারকে দিয়েও তো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দিতে পারতো। জানি, এটা সম্ভব নয়। তারপরও এই বিতর্ক থাকতো না। সভাপতি বহাল তবিয়তে থাকা অবস্থায় চেয়ারম্যান কেন অস্ট্রেলিয়ার হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দিলেন’, কথাগুলো বলেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংগঠন সেভ দ্য স্পোর্টসের চেয়ারম্যান ও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু। এক সময় স্বাধীনতা যুদ্ধে তারা আমাদেরকে উপকার করেছিলো। তার মানে এই নয় যে, তাদের কাছে আমরা নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছি। কোয়ার্টার ফাইনালে আমাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেটার ষোলকলা পূর্ণ করেছে ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। একমাত্র কারণ, আইসিসির সভাপতি বাংলাদেশী ছিলেন বলে। তার হাত দিয়ে চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি তুলে দেয়া হয়নি। যা আইসিসির গঠনতন্ত্রের বিরোধী। এবং এটা হয়েছে আইসিসির ভারতীয় চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসনের কূটচালের কারণেই। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব দিলদার হাসান দিলু, উপদেষ্টা মনজুর হোসেন মালু ও মহিউদ্দিন বুলবুল। লিখিত বক্তব্যে মহাসচিব দিলদার হাসান দিলু বলেন, ‘আমরা জেনেছি, ফাইনালের আগে আইসিসির জরুরি সভায় আ.হ.ম মুস্তফা কামালকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছিলো শ্রীনিবাসন। কিন্তু মুস্তফা কামাল তাতে রাজী হননি বলে উনাকে দিয়ে পুরস্কার দেয়া হয়নি।’ দিলু আরও বলেন, ‘শ্রীনিবাসন আইসিসিকে অকার্যকর সংগঠনে পরিণত করতে চাচ্ছে। যার প্রথম পদক্ষেপে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে (এসিসি) প্রায় অকার্যকর ঘোষণাই দিয়েছেন তিনি। আমরা ক্রিকেটের তিন মোড়লের দালালির অবসান চাই। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে আম্পায়ারদের স্বেচ্ছাচারী, অযৌক্তিক ও অন্যায় সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। ধন্যবাদ জানাই আ.হ.ম মুস্তফা কামালকে। সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্বকাপে ভালো ফলাফলের জন্য আরও শুভেচ্ছা জানাই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে।’ উপদেষ্টা মনজুর হোসেন মালু বলেন, ‘ক্রিকেটের অন্যায়ের তো কোন না কোন সুরাহা হবে। কিন্তু ফুটবলের কি হবে? বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ একটি মান সম্পন্ন ফুটবল টুর্নামেন্ট। অতীতে এই আসরে জাতীয় দলগুলোই খেলেছে। কিন্তু এবার হলো কি? সবাই দেখেছেন। সদ্য সমাপ্ত এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ভরাডুবি থেকেই স্পষ্ট আমাদের তৃণমূল থেকে আগে যে খেলোয়াড় সৃষ্টি হতো, এখন আর তা হয় না। যে কারণে মান সম্পন্ন বয়স ভিত্তিক দল এখন নেই দেশে। এর থেকে মুক্তি পেতে হবে।’ সংবাদ সম্মেলনের শেষে সদ্য প্রয়াত বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ক্রীড়াঙ্গণের প্রয়াত ক্রীড়াবিদ, সংগঠক ও ক্রীড়া সাংবাদিকদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। এছাড়াও ক্রীড়া সংগঠক এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোসাদ্দেক আলী ফালু-এর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ