ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সময় এসেছে নতুন কিছু করার: ক্যাস্ত্রোকে ওবামা

অনলাইন ডেস্ক :
‘এখন নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু করার সময় এসেছে’, পানামার ঐতিহাসিক বৈঠকে কিউবার নেতা রাউল ক্যাস্ত্রোকে একথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রেরপ্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

পাঁচ দশকব্যাপী চিরবৈরী দু’দেশের শীর্ষস্থানীয় দু’নেতার প্রথম ঐতিহাসিক এ বৈঠকটি হয় শনিবার পানামা সিটিতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোরশীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনার ফাঁকে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

কিউবাকে একঘরে করে রাখার পুরোনো মার্কিন নীতি কাজে আসেনি উল্লেখ করে ওবামা বলেন, “এখন আমাদের সময় এসেছে নতুন কিছু করার।”

ওদিকে, রাউল ক্যাস্ত্রো দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে আশা প্রকাশ করে ওবামাকে একজন ‘সৎ মানুষ’ বলে অভিহিত করেন। অতীতে যা কিছুই ঘটেছে তার জন্য ওবামা দায়ী নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, ক্যাস্ত্রো মুক্তমনে বৈঠকে বসতে এগিয়ে আসার জন্য  তাকে ধন্যবাদ জানান ওবামা । পুরো শত্রু দুই দেশের মধ্যে এখনো নানা বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও দু’দেশই পারষ্পরিক স্বার্থের বিষয়টি এগিয়ে নিতে পারে বলে জানান তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দু’দেশে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হওয়ার পাশাপাশি নতুন সম্পর্কও গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওবামা।

৫০ বছরেরও বেশি সময় পর বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে আগানোর  এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।  একে অপরের সম্পর্কে নতুন অধ্যায় শুরুর পট প্রস্তুতের প্রশংসা করেছেন ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর নেতারা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিও।

সম্পর্কের সব জটিলতা জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সৎ সাহসের জন্য  ওবামার পাশাপাশি কাস্ত্রোকেও ‘ঊষ্ণ অভিনন্দন’ জানান পোপ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ পদক্ষেপকে এক ‘ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তন’ বলে বর্ণনা করেছে।  অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট কিউবা-যুক্তরাষ্ট্রের নতুনঅধ্যায়ের সূচনার জন্য মূল কৃতিত্ব দিয়েছেন কাস্ত্রোকেই। বলেছেন, কাস্ত্রো মার্কিন অবরোধের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মর্যাদার সঙ্গে লড়ে গেছেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টেফেন হার্পার যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার উদ্যেগকে 'বহুপ্রতিক্ষীত অগ্রযাত্রা' বলে অভিহিত করেছেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ডিলমা রৌসেফ দুদেশের এ বরফ গলাকে স্নায়ুযুদ্ধের যবনিকাপাত বলে অভিহিত করেন।

চিলিও দু’দেশের এ উদ্যোগকে ‘আমেরিকানদের স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের সূচনা বলে’ অভিহিত করেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো একে ‘এক নৈতিক জয়’ বলে অভিহিত করেন।

কিউবায় ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফিদেল ক্যাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার শত্রুতা চলে এসেছে।  ১৯৬১ সালে কিউবারসঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামার শাসনামলে ১৮ মাসের গোপন আলোচনার পর দু’দেশের দুই নেতা একটি ফোনালাপে বন্দিবিনিময় করাসহ আরো নানা বিষয়ে একমতহন। এর মধ্যে ছিল, একে অপরের দেশে দূতাবাস খোলা, বাণিজ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং সম্পর্ক উন্নত করা। গত বছর ১৭ ডিসেম্বরেকিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ