ঢাকা, সোমবার 13 April 2015 ৩০ চৈত্র ১৪২১, ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

ভায়েটায় বায়তুন নূর জামে মসজিদ আধুনিকতার ঐতিহ্য বহন করছে

টাঙ্গাইল শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে নিভৃত পল্লী গ্রামে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের ছোট বাসালিয়া ভায়েটা গ্রামে লায়ন নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে লায়ন নজরুল ইসলামের প্রচেষ্টায় নির্মিত বায়তুল নূর জামে মসজিদ। স্থান ও নাম করণের ফাঁদে পড়ে গত একযুগ ধরে মসজিদটির নির্মাণ কাজ প্রায় বন্ধ ছিল। সম্প্রতি শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা লায়ন নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন নজরুল ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা মসজিদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে। প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতল এ মসজিদটি নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগের ঘটনা। স্বপ্নচারী ব্যক্তিত্ব লায়ন নজরুল ইসলাম তার একক প্রচষ্টায় ছোট বাসালিয়া ভায়েটা গ্রামে লায়ন নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনতি দূরে সংলগ্ন হাইস্কুল ক্যাম্পাসে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু মসজিদটা নির্মাণ কাজ চলাকালে এর নামকরণ ও স্থানের বিষয়টি গুরুতর বিরোধের আপত্তি নিয়ে হাজির হন এলাকার কেউ কেউ। ফলশ্রুতিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। লায়ন নজরুল ইসলাম এর সৎ ইচ্ছা এবং আন্তরিকতা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য উদ্যোগ নেন। শেষ পর্যন্ত তার ইচ্ছে বাস্তব রূপ লাভ করে। কিন্তু এর মধ্যে সময় গড়িয়ে প্রায় একযুগ পার হয়ে যায়। আধুনিক ও অতীত ঐতিহ্যের সমন্বয়ে মসজিদটির নকশা করা হয়। প্রতি তলায় ৫ হাজার স্কয়ার ফুট নামাজের জায়গা বিশিষ্ট দ্বিতল বায়তুন নুর জামে মসজিদটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন একটি স্থাপনার রূপ নেয়।
মসজিদে এক সঙ্গে এক হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবে। মসজিদটি স্থাপনের পূর্বে লায়ন নজরুল ইসলাম বিভিন্ন দেশে ভ্রমণকালে সেসব দেশের নামকরা একাধিক মসজিদ পরিদর্শন করেন। তার মধ্যে দুবাই, সৌদি আরব ও জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশের মসজিদের স্থাপত্য নকশা তাকে আকৃষ্ট করে। তিনি দেশের একজন নামকরা স্থাপত্য বিশেষজ্ঞের কাছে তার মন কারা মসজিদগুলোর নকশা সম্পর্কে ধারণা দেন এবং সেই প্রেক্ষিতে বায়তুন নূর জামে মসজিদ নকশা করেন স্থাপত্য শিল্পী শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার পারভেজ সেলিম। ফ্লাশব্যাক ২০০০ সাল। মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে মসজিদের কাজ শুরু করেন লায়ন নজরুল ইসলাম। প্রথমত এককভাবে শুরু হয় এ কাজ। পরবর্তী বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণে এগিয়ে আসেন। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ মাটি কাটার কাজ উদ্বোধন করেন লায়ন নজরুল ইসলামের ৪৯ তম জন্মদিনে। লায়ন নজরুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়িক টানা পোড়েনের মাঝেও মসজিদ নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। পূর্বেই উল্লেখ করেছি মসজিদ দু’তলা বিশিষ্ট। উপরের তলায় নামজের স্থান, নিচতলা খালি। ভবিষ্যৎ সেখানে একটি কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। বায়তুন নূর জামে মসজিদ দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য নকশার পাশাপাশি মসজিদের সামনে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর। সেখানে মুসুল্লিরা অজু করতে পারবেন। পুকুরের পানি একটি নির্দিষ্ট মাপে রাখার জন্য বসানো হয়েছে পাম্প হাউজ। কারুকার্যময় বায়তুন নূর জামে মসজিদটি ভিতরে বসানো হয়েছে উন্নতমানের বিদেশী টাইলস। মসজিদটি আলোকোজ্জল করে রাখতে লাগানো হয়েছে সুদৃশ্য চাইনিজ ঝাড়বাতি। মসজিদের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একটি সুউচ্চ মিনার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের নির্মিত বায়তুন নূর জামে মসজিদটি দেখার জন্য বহু দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসতে শুরু করেছে। বায়তুন নূর জামে মসজিদের প্রধান উদ্যোক্তা লায়ন মোঃ নজরুল ইসলাম তার ব্যবসায়ী আয়ের উৎস থেকে এর সিংহ ভাগ খরচ বহন করেন। তিনি মনে করেন প্রত্যেকের আয়ের একটি অংশ মানব কল্যাণে ব্যয় করা উচিত। তিনি মসজিদের কাজ সুসম্পন্ন করার জন্য এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। আর মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট কামনা করেন রহমতের জন্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ