ঢাকা, বুধবার 26 September 2018, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভিসিকে লাঞ্ছণাকারীদের শাস্তির দাবিতে উত্তাল রাবি ক্যাম্পাস

অনলাইন ডেস্ক :
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় আওয়মী লীগ নেতাদের দ্বারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি প্রফেসর মুহাম্মদ মিজানউদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে রাবি ক্যাম্পাস। নতুন বার্তা ডটকম।

রোববার দিনভর ভিসিকে লাঞ্ছনাকারীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজসহ বিভিন্ন বিভাগ নিজ উদ্দ্যোগে লাঞ্ছনাকারীদের শাস্তির দাবিতে মৌন মিছিল, র্যালি, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। এছাড়াও এ ঘটনায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর বিচারের দাবি করে গণ-সাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

ক্যম্পাস সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে মাননীয় উপাচার্য ও শিক্ষকগণের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচারণ ও অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদে মৌন মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যেবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।  বিশ্ববিদ্যালয়  সিনেট ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রাধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একটি সমাবেশ করে।

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক প্রফেসর মামুনুর রশিদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জাহানুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক প্রফেসর সফিকুন্নবী সামাদী।

সমাবেশে বক্তারা লাঞ্ছনাকারী আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “উপাচার্যকে আপনারা চাকরি দেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন,  বিশ্ববিদ্যালয়  চাকরি দেয়ার কোন মেশিন নয়। আপনারা সরকারে আছেন, আপনাদের কাজ আপনারা করুন।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে নাক গলাবেন না।”
বক্তারা আরো বলেন, ‘আমরা দেখেছি গত শনিবার আওয়মী লীগ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের মানববন্ধন:

মাননীয় উপাচার্য ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মুহাম্মদ মিজানউদ্দিনের সাথে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে মানবন্ধন করেছে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা । বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিভাগের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর নীলুফার সুলতানা, বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ওয়ারদাতুল আকমাম, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মো. ফয়জার রহমান, ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
 
সমাজকর্ম বিভাগের মৌন মিছিল ও মানববন্ধন:

একই দাবিতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যম্পাসে মৌন মিছিল ও মানবন্ধন করেছে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা । বিভাগের সামনে থেকে মৌন মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্যারিস রোডে একটি মানবন্ধন করে।
বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসাইনের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, বিভাগের সভাপতি প্রফেসর শর্মিষ্ঠা রায় ও প্রফেসর ড. মো. আশরাফুজ্জামান।
বক্তরা এ ঘটনায় জড়িতদের রুচিহীন, অভদ্র ও সভ্য সমাজের কলঙ্ক হিসাবে আখ্যায়িত করে এর বিচার দাবি করেন। অন্যথায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বসে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তরা।

ফোকলোর বিভাগের মানববন্ধন:

মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিনসহ তার দফতরে অবস্থানরত শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও অপমান করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর বিভাগ।

রোববার বেলা ১২ টার দিকে  বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসলাঈল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে মানববন্ধনে বিভাগের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

এতে বক্তব্য দেন, প্রফেসর ড. সাইফুদ্দীন চৌধরী। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মোর্বারা সিদ্দিকা, প্রফেসর ড. মো. আবুল হাসান চৌধরী, ড. মোস্তফা তারিকুল আহসান প্রমুখ।

নিজেদের পছন্দ মত নিয়োগ না দেয়ায় গত বুধবার রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ভিসির দফতরে ঢুকে টেবিল চাপড়িয়ে হুমকি দেন। একই ভাবে বৃহস্পতিবার রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ১৫-২০ জন নিয়ে অনুমতি ছাড়াই ভিসির দফতরে ঢুকে ভিসিসহ সেখানে অবস্থানরত অন্য শিক্ষকদেরকে লাঞ্ছিত করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ