ঢাকা, সোমবার 20 April 2015 ৭ বৈশাখ ১৪২২, ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

দর্শনা কেরু এন্ড কোম্পানির চিনিকলে পরিবেশবান্ধব জৈব সার কারখানার উদ্বোধন

দর্শনা (চুয়াডাঙ্গা) থেকে সংবাদদাতা : দেশে প্রথমবারের মত সরকারিভাবে দর্শনার কেরু কোম্পানির ডিস্টিলারি ও চিনি কারখানার বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। ডিস্টিলারির স্পেন্ট ওয়াশ ও চিনিকলের প্রেস মাড থেকে এ জৈব সার উৎপাদন পরীক্ষামূলকভাবে সফল হয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরুর জন্য গত শুক্রবার বিকালে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন  করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দর্শনার কেরু এন্ড কোম্পানি মাথাভাঙ্গা নদীর পাশে অবস্থিত। মাথাভাঙ্গা নদীর ভারতের অংশে এ নদীই চুর্নী নদী নামে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কেরু এন্ড কোম্পানির ডিস্টিলারির বর্জ্য স্পেন্টওয়াশ ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইন দিয়ে নদীতে ফেলা হয়। এতে নদীর পানি দূষণ হওয়ার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে জোর প্রতিবাদ এবং যৌথ নদী কমিশনে আপত্তি জানিয়ে আসছিল।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে  ২০১২ সালে কেরু কোম্পানির নিজস্ব খামার আকন্দবাড়িয়ায় ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তায় এ জৈব সার কারখানা স্থাপন করা হয়। ভারতের TRIO-CHEM Techno-Legal Services Pvt. Ltd. Pune, India এ জৈব সার কারখানার কারিগরি ও মেশিনারিজ স্থাপনে সহায়তা করে। কারখানায় প্রাথমিকভাবে বছরে ৯ হাজার মে. টন সার উৎপাদিত হবে। সার উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে  চিনিকারখানার বর্জ্য প্রেসমাড এবং ডিস্টিলারির বর্জ্য স্পেন্টওয়াশ ব্যবহার করা হবে। কেরুজ চিনিকারখানা থেকে বর্জ্য প্রেস মাড পাওয়া যাবে ২ হাজার মে.টন। বাকী প্রেস মাড অন্য চিনিকল থেকে সংগ্রহ করা হবে। ইতঃপূর্বে চিনিকলের প্রেস মাড এবং ডিস্টিলারির স্পেন্টওয়াশের ব্যবহারে তেমন কোন অর্থনৈতিক ব্যবহার ছিল না। এ দুটি বর্জ্য সার কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে এ্যারোবিক কম্পোস্টিং পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে।
কারখানাটি স্থাপিত হওয়ায় কেরুজ ডিস্টিলারির সম্পূর্ণ স্পেন্টওয়াশ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বর্জ্য শোধানাগার হিসেবেও কাজ করছে। অপরদিকে মাথাভাঙ্গা নদীর পানি দূষণের হাত থেকেও রক্ষা পেয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ৭৫৭ মে. টন জৈব সার উৎপাদিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই কেরুর নিজস্ব খামার, বিভিন্ন চিনিকলে উৎপাদিত জৈব সার পরীক্ষামূলক ব্যবহার করে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া গেছে বলে কেরু চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মোস্তফা কামাল জানান।
এ সার রসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহারে চাষিকূল লাভবান হবে। এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমবে। সাশ্রয়ী হবে বৈদিশিক মুদ্রা। কেরুজ উৎপাদিত জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, দূর করবে মাটির বিষাক্ততা। সর্বোপরি জৈব সার ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধিতে দারুণ সহায়ক হবে। এরই মধ্যে কেরুজ উৎপাদিত সার বাজারজাতকরণ, মূল্য নির্ধারণ ও গুণগতমান পরীক্ষার অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। এ সার কারখানা পরিপূর্ণভাবে চালু হলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ রোধ হবে, অন্যদিকে কেরুজ চিনিকলের স্পেন্ট ওয়াশের কারণে মাথাভাঙ্গা নদীর পানি দূষিত হবে না। জৈব সার কারখানা প্রতিষ্ঠায় প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ