ঢাকা, বুধবার 19 September 2018, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রুপার গড় দাম কমবে ১৪%

আগামী বছর কমতির দিকে থাকবে রুপার দাম। বিকল্প বিনিয়োগ হিসেবে রুপার চাহিদা কমায় দরপতনের এ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ সময় ধাতুটির গড় দাম ১৪ শতাংশ কমতে পারে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থমসন রয়টার্স জিএফএমএস।

প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে মূল্যবান ধাতু চাহিদা বিভাগের ব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু লেল্যান্ড বলেন, গেল বছর প্রতি আউন্স রুপা লেনদেন হয় গড়ে ১৯ ডলার শূন্য ৮ সেন্টে। ২০১৫ সালে তা নামবে ১৬ ডলার ৫০ সেন্টে। ফেড সুদের হার এ মুহূর্তে বাড়াবে না বলে ঘোষণা দেয়ায় বিনিয়োগকারীরা ডলার, শেয়ার ও ইকুইটিতে বিনিয়োগ করছেন। এতে চাহিদা মন্দায় গত মাসে ফিউচার মার্কেটে রুপার দাম কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

জিএফএমএসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গেল বছর রুপার প্রত্যক্ষ চাহিদা ২০১৩ সালের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে নেমেছে ১০৭ কোটি আউন্সে। চাহিদা মন্দায় ওই সময় বার ও কয়েন ক্রয় কমে যায় উল্লেখযোগ্য হারে। ইলেকট্রনিকস, ফটোগ্রাফির মতো শিল্পে রুপার ব্যবহার এ সময় দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি ৪৯ লাখ আউন্সে।

এদিকে চাহিদা বাড়ায় গেল বছর রুপা আমদানিতে শীর্ষে ছিল চীন। এ সময় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ অর্থনীতির দেশটির ধাতু আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়ে ঠেকেছে ২৪ কোটি ৭০ লাখ আউন্সে। দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে থাকা ভারতের আমদানি ১৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২২ কোটি আউন্সে। ২০১৪ সালে রুপার শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ চীন থেকে প্রায় ২ হাজার টন আমদানি করেছে ভারত। জিএফএমএস থমসন রয়টার্সের জরিপ সূত্রে জানা গেছে, ভারতে রুপার তৈরি গহনার চাহিদা ৪৭ শতাংশ বেড়ে উন্নীত হয়েছে ৬ কোটি ২২ লাখ আউন্সে।

বছরের প্রথম প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ) রুপা আমদানি বাড়তির দিকে ছিল। এ সময় দেশটি আমদানি করে প্রায় দেড় হাজার আউন্স ধাতু। ২০১৪ সালের একই সময় তা ছিল ১ হাজার ১২৫ টন। ভারত আমদানি রুপার সিংহভাগই ব্যবহার করে গহনা তৈরিতে। অনেকে মুনাফার আশায় ধাতুটিতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করেন। ২০১৩ সালে ২৪ কোটি ৩৬ লাখ আউন্স রুপায় বিনিয়োগ হলেও এবার তা নেমেছে ১৯ কোটি ৬০ লাখ আউন্সে। মোট বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৫৬ শতাংশ এসেছে শিল্প খাত ও ৪০ শতাংশ গহনা নির্মাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। মোট সরবরাহ হয় ১০৬ কোটি ১৮ লাখ আউন্স। এর মধ্যে ৮৩ শতাংশ খনি ও ১৬ শতাংশ স্ক্র্যাপ থেকে এসেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দামে দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। নিউইয়র্কের কোমেক্সে আগামী জুলাইয়ে সরবরাহের জন্য প্রতি আউন্সের দাম দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হয় ১৭ ডলার ১৯ সেন্টে।-প্রিয়.কম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ