ঢাকা, শনিবার 17 November 2018, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এখনো ন্যাম ফ্ল্যাট ছাড়েননি ইনুসহ ৪ মন্ত্রী

চার মন্ত্রীকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখাল পাড়ার সংসদ সদস্য ভবনের (ন্যাম ফ্ল্যাট) ফ্ল্যাট ছাড়তে বার বার তাগাদা দিলেও তাতে কাজ হয়নি।

বৃহস্পতিবার সংসদ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর তাদেরকে আবারো চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফ্ল্যাট না ছাড়া ওই চার মন্ত্রী হলেন- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, মৎস ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ।

এবিষয়ে সংসদ কমিটির সভাপতি প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আবারো চিঠি দিতে বলেছি। প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু সমস্যা আছে। কারও এখনও বাসায় মালপত্র আছে। কারও ফ্যামিলি মেম্বার বেশি। কমিটি আবারো তাগিদ দিয়েছে।

“যদি কারও আসলেই ফ্ল্যাট প্রয়োজন হয় তবে তারা স্পিকারের স্পেশাল পারমিশন নিতে পারেন।”

তবে এ ব্যাপারে চার মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

সংসদীয় কমিটির নথি থেকে জানা যায়, সর্বশেষ গত ৬ মে ওই চার মন্ত্রীকে ফ্ল্যাট ছাড়ার চিঠি দেওয়া হয়।

গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য ভবনে মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া সংসদ সদস্যদের ফ্ল্যাট বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংসদ কমিটি। সে অনুযায়ী নবম সংসদে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়া সাত জনকে (যারা দশম সংসদ নির্বাচনের পরে মন্ত্রীর দায়িত্ব পান) ছেড়ে দিতে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়।

ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন কোনো সংসদ সদস্য যদি ন্যাম ফ্ল্যাটে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তবে তাকে সরকার থেকে পাওয়া বাড়ি-ভাড়া ও সার্ভিস চার্জ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সংসদ সচিবালয়ের জমা দিতে হবে।

সংসদ সদস্যদের আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করা ‘সংসদ কমিটি’র আহ্বানে একমাত্র সাড়া দিয়েছিলেন পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব।

আর বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আযম কমিটিকে জানিয়েছেন তিনি ওই ফ্ল্যাটেই থাকতে চান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ কমিটি আজমকে তার ফ্ল্যাট ভূতাপেক্ষ বরাদ্দ দিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে সংসদ কমিটির নথিতে ফ্ল্যাট না ছাড়াদের তালিকায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নামও ছিলো। বৃহস্পতিবারের কমিটির বৈঠকের নথিতে তার নাম দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে আ স ম ফিরোজ বলেন, “তিনি মনে হয় ছেড়ে দিয়েছেন। তা না হলেতো নাম থাকতো।”

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নামে বরাদ্দ, নাখালপাড়া ১ নম্বর ভবনের ১০৪ নম্বর ফ্ল্যাট, মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ৪ নম্বর ভবনের ১০২ নম্বর ফ্ল্যাট, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ৪ নম্বর ভবনের ৪০৩ নম্বর ফ্ল্যাট, নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ৪ নম্বর ভবনের ৪০৪ নম্বর ফ্ল্যাট।

পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এমপিদের কাউন্সিলিং করবে কমিটি

এদিকে বৈঠকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ছয়টি ও নাখালপাড়ার ৪টি সংসদ সদস্য ভবন এলকার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে কাউন্সিলিং করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ এই কাউন্সিলিং করবেন বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৈঠকে আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যদের একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্সিলিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়।”

এ বিষয়ে আ স ম ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, “দেখা যায় ড্রাইভার বা বাসার কাজের লোক ভবনের আশেপাশে কাগজ বা অন্য কিছু ফেলে নোংরা করে। এগুলোতো আমাদেরই (সংসদ সদস্য) খেয়াল করতে হবে। এজন্য কাউন্সিলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ছয়টি সদস্য ভবনে বসবাসরত সদস্যদেরকে শব্দ দূষণ থেকে রক্ষা করার জন্য ভবনগুলোতে ‘সাউন্ড প্রটেক্টর’ ব্যবস্থা চালু করার সুপারিশ করা হয়।

আ স ম ফিরোজের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুস শহীদ, মাহবুব আরা বেগম গিনি, পঞ্চানন বিশ্বাস, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আসলামুল হক এবং নাজমুল হক প্রধান অংশ নেন।
-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ