ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আইএস যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একজন যোদ্ধা নিজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির সরকারের একটি কর্মসূচির অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন- এমন দাবির পর মার্কিন কর্মকর্তারা তা স্বীকার করেছেন।

তাজিকিস্তানের পুলিশ কমান্ডার এবং বর্তমানে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করা কর্নেল গুলমুরোদ খালিমভ নামের ওই যোদ্ধা স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাউন্টার টেরোরিজম কর্মসূচির অধীনে একাধিকবার প্রশিক্ষণ নেন।

সম্প্রতি খালিমভ এক ভিডিও বার্তায় তার নিজের ব্যাপারে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। সাদা-কালো ওই ভিডিওতে তাকে একটি স্নাইপার রাইফেল এবং অ্যামুনিশনসহ দেখা যাচ্ছে।

ভিডিওতে খালিমভ বলেন, তিনি তিনবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর মধ্যে একবার লুসিয়ানায় ছিলেন। তার এই দাবি স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র পুজা ঝুনঝুওয়ালা বলেন, ২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত খালিমভ যুক্তরাষ্ট্র এবং তাজিকিস্তানে পাঁচটি প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

বর্তমানে খালিমভ যাদের পক্ষে যুদ্ধ করছেন, তাদের দমনের উদ্দেশ্যেই অন্যদের সঙ্গে তাকেও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। মূলত সংকটকালীন সময়ে কাজ করা, বিশেষ ঘটনায় কৌশলগত ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত নেতৃত্ব এবং এ সংক্রান্ত না বিষয়ে খালিমভকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

খালিমভ তার ভিডিও বার্তায় বলেন, প্রশিক্ষণের সময় তিনি যা দেখেছেন তার কারণেই প্রশিক্ষণদাতাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহ যুগিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তিনবার আমেরিকায় ছিলাম। সেখানে দেখেছি কিভাবে মুসলিমদের হত্যা করতে তোমরা সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকো। ইসলাম এবং মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করতে কিভাবে ঘেরাও করতে হবে, কিভাবে হামলা করতে হবে, সৈন্যদের তোমরা এসব শেখাও।’

১০ মিনিটের ভিডিওটির শেষের দিকে ভিডিও ক্যামেরার সামনে এসে খালিমভ বলেন, ‘আমরা তোমাদের শহরগুলো খুঁজে নেব। তোমাদের ঘরবাড়িতেও পৌঁছে যাব এবং তোমাদের হত্যা করবো।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষিত এই কমান্ডারকে দলে ভেড়ানোর মাধ্যমে আইএস শুধু প্রচারণার ক্ষেত্রে একটি ভাল অস্ত্রই পেল না বরং গ্রুপটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মার্কিন কৌশলও তাদের জ্ঞাতসারে চলে আসবে।

মাইকেল ব্রিন নামে এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, এটা একটা ভয়ানক যোগ্যতা। একজন সিনিয়র কাউন্টার টেরিরিজম কর্মকর্তার সন্ত্রাসী হয়ে যাওয়া মোটেও মঙ্গলজনক কিছু নয়।

সূত্র: সিএনএন

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ