ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভোগান্তি দিয়ে শুরু কলেজে ভর্তির অনলাইন আবেদন

প্রথমবারের মতো চালু হওয়া কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ার অনলাইন আবেদনের (স্মার্ট এ্যাডমিশন সিস্টেম) প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে শুরুর প্রথম দিনেই ভোগান্তিতে পড়েছেন সদ্য মাধ্যমিক পাশ করা শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকরা। আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা ধরণের ক্রটির পাশাপাশি সহযোগীতার জন্য ওয়েবসাইটে প্রদান করা নাম্বারেও যোগাযোগ করে সাড়া পাচ্ছেন না অনেকেই।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে রবিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে দেখছেন তার আবেদন সম্পন্ন হয়ে গেছে। কেউ হয়তো আবেদন করার পর টেলিটক থেকে টাকা জমা দিতে পারছেন না, কেউ পারছেন না আইডি-পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার করতে পারছেন না। আবার অনেকে আবেদনের কোনো ভুল পুনরায় সংশোধন করতে পারছেন না। এমন অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে।

অভিযোগের বিপরীতে দায়িত্বরত কর্মকর্তার ‘সময় নিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বা ঠিক হয়ে যাবে’ এমন আশ্বাস নিয়ে ফিরতে হচ্ছে অভিযোগদাতাদের।

রাজধানীর মিরপুর থেকে মাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মীম জানান, গতকাল শনিবার অনলাইনে পাঁচটি কলেজে আবেদন করার পর মুঠোফোনে টেলিটক সিম দিয়ে আরও তিনটি কলেজে আবেদন করেন তিনি। এরপর অনলাইনে প্রবেশের পর টেলিটকে আবেদন করা কলেজগুলোই দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে আবেদন করা কলেজগুলো দেখা যাচ্ছে না।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা অভিযোগ লিখে রেখে, কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তাকে জানান।

মীমের মা শাহানা বলেন, ‘সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ ধরনের অসঙ্গতি খুবই চিন্তার ব্যপার। সমস্যার জন্য ওয়েবসাইটে যোগাযোগের জন্য ফোন নাম্বর দেওয়া থাকলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনা। আমাদের যদি অভিযোগ নিয়ে আসতেই হবে, হয়তো আবারও আসতে হবে তাহলে এই ডিজিটাল সিস্টেমের মানে কী?’

ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাসনিমের অভিভাবক জসীম মজুমদারের অভিযোগ, ‘তিনি ভিকারুনন্নিসার কলেজ শাখায় আবেদন ফরম পূরন করার সময় স্কুল কোটা দেননি। এখন এটা পরিবর্তনও করা যাচ্ছে না। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুপুর তিনটার দিকে এই প্রতিবেদক বোর্ডের দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে জানালে তিনি আপডেট অপশনে গিয়ে ঠিক করতে বলেন।’

এরপর এই প্রতিবেদক তৎক্ষণাৎ ল্যাপটপ দিয়ে তাসনিমের আইডি নিয়ে অনলাইনে তথ্য ঠিক করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ল্যাপটপসহ দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে বিষয়টি দেখালে তিনিও ব্যর্থ হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা বলেন, ‘বুয়েট কী ওয়েবসাইট বানাইছে, সকাল থেকে অভিযোগের শেষ নাই। পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের অপশন ছিল না, সকালে অভিযোগ দেওয়ার পর এখন সেটা করা হয়েছে। এ অভিযোগও তাদের জানানো হবে।’

অভিযোগ জানানোর জন্য ওয়েবসাইটের হেল্পলাইনে যে নাম্বারগুলো দেওয়া হয়েছে সেখানে ফোন না ধরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’

বুয়েটের যারা সাইট বানিয়েছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগের নাম্বার চাইলেও তিনি দিতে রাজি হননি।

অভিযোগ করতে আসা শিক্ষার্থী ফারদিন আহসান চৌধুরি বলেন, ‘আমার অনলাইন আবেদন করতে গেলে আবেদন করা হয়ে গেছে দেখাচ্ছে। কিন্তু এখানে এসেও সমাধান পেলাম না, আগামী পরশু আসতে বলেছে।’

মাসুদুর রহমান নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার অনলাইন আবেদন শেষ হয়েছে। কিন্তু টেলিটক থেকে টাকা নিচ্ছে না। টেলিটক থেকে এসএমএস পাঠালে তথ্য সঠিক নয় বলে ফিরতি এসএমএস আসছে।’

এই অফিসের কর্মকর্তা হেলাল সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কর্তৃপক্ষকে প্রত্যেকটা অভিযোগ সম্পর্কেই জানাচ্ছি। আশা করি খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘প্রথমবার এ পদ্ধতি চালু হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আর প্রথম কিছু চালু করলে একটু ক্রুটি থাকেই। দুই-একদিনের মধ্যেই আশা করছি এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সূত্র: টাইম নিউজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ