ঢাকা, রোববার 16 December 2018, ২ পৌষ ১৪২৫, ৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারে সামরিক অপারেশন কি বার্তা দিচ্ছে?

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি বিশেষ অপারেশন চালিয়ে সফলও হয়েছে গত মঙ্গলবার। ওই ঘটনার পরেই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এ সামরিক অপারেশনের কারণ ও এর দীর্ঘ মেয়াদী ফলাফল নিয়ে হিসেব-নিকেশ কষতে শুরু করেছেন।

কেউ কেউ বলছেন, মিয়ানমারের ভেতরে অন্য দেশের সামরিক অভিযান হালকা করে দেখার কিছু নেই। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চালানো ওই অভিযানে স্বয়ং মিয়ানমারই সহায়তা করেছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জঙ্গি দমনের জন্য এ হামলা করা হয়েছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, মঙ্গলবারের ওই অভিযানের মধ্য দিয়ে অনেক কিছুই ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিশেষ করে পকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছে, প্রতিবেশী কোনো দেশে জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান হলে বা কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী রাষ্ট্রের জন্য থ্রেট হয়ে দেখা দিলে তাতেও অভিযান চালানোর ইঙ্গিত রয়েছে মঙ্গলবারের মিয়ানমারে সামরিক হামলার মধ্যে।

ভারতের সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের প্যারা-কমান্ডো আর ইনফ্যান্ট্রির সদস্যরা মঙ্গলবার ভোররাত থেকে মিয়ানমারের ভেতরে ঢুকে একটা বিশেষ অপারেশন চালিয়ে নাগা জঙ্গিগোষ্ঠী এনএসসিএন খাপলাং আর তাদের সহযোগী আরও কিছু জঙ্গিগোষ্ঠীর শিবির ধ্বংস করেছে আর অনেককে মেরেও ফেলেছে।

এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্কর রায় চৌধুরী বলছিলেন, ‘ভারত সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে বলেই এত বড় অপারেশন চালাতে পেরেছে সেনাবাহিনী। তারা নিজে থেকে কখনই এই অপারেশন চালিয়ে থাকতে পারে না।’ 

তার মতে, “এই অপারেশনের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই বিভিন্ন দেশকে একটা বার্তা দেয়া গেছে যে, প্রয়োজন পড়লে বিদেশে গিয়েও সেনাবাহিনী জঙ্গি বা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অপারেশন চালাতে পারে।

যেসব দেশের এই বার্তাটা বোঝা উচিত, আশা করা যায় তারা বুঝতে পারবে। তবে তার মানে এই নয় যে, ভবিষ্যতে আবারও নিশ্চিতভাবেই এরকম অপারেশন চালানো হবে। এটা পরিষ্কার যে এই অপারেশন চালানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক এবং নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানের দিকেও একটা বার্তা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে রাজনৈতিক মহল থেকে।

মণিপুরে নাগা জঙ্গীদের হামলার মোকাবেলায় ভারতীয় সেনবাহিনী মিয়ানমারের ভেতরে ঢুকে নাগাদের শিবির ধ্বংস করার দাবি করার পর পাকিস্তান গত বৃহস্পতিবার ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তান বলেছে ভারত যেন পাকিস্তানের ভেতর এধরণের অপারেশনের কথা কল্পনাও না করে।

ভারতের সেনাবাহিনী ওই অভিযানে প্যারা-কমান্ডো হামলা চালিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে বিদ্রোহীদের দুটো ক্যাম্প ধ্বংস করে দিয়েছে বলে দাবি করেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ভারতীয় সেনা অপারেশন নিয়ে ভারত আর পাকিস্তান একে অপরকে হুঁশিয়ারি-পাল্টা হুমকি দিয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিসার আলি খান বলেছেন, ‘পাকিস্তান মিয়ানমার নয়- এটা মনে রাখা উচিত ভারতের। তারা যেন পাকিস্তানে এধরনের অপারেশন করার কথা কল্পনাও না করে।’

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পর্রিকর বলেছেন, ‘এই অপারেশনে যারা ভয় পেয়েছে, তারাই প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার খুব ভোরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো বাহিনীর সদস্যরা মিয়ানমারের সীমান্ত পেরিয়ে নাগা জঙ্গীগোষ্ঠী এনএসসিএন-খাপলাংয়ের অন্তত দু’টি শিবির ধ্বংস করে আসে। আর তাতে অন্তত ৩৮ জন জঙ্গী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। গত ৪ জুন মনিপুরে সন্দেহভাজন নাগা জঙ্গীদের আক্রমণে ভারতের ডোগরা রেজিমেন্টের ২০ জন সদস্য নিহত হয়। যার বদলা হিসাবেই মিয়ানমারে ওই জঙ্গিদের ওপরে আক্রমণ চালায় ভারতের সেনাবাহিনী।-শীর্ষ নিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ