ঢাকা, বুধবার 18 September 2019, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

যশোরে নাম বদল করে চলছে এমএলএম ব্যবসা : প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ

যশোর: থেমে নেই এম এল এম কোম্পানীর প্রতারণার ব্যবসা। ধরা পড়ে একের পর এক নাম বদল করে অব্যাহত রেখেছে তাদের মানুষ ঠকানোর কার্যক্রম।

সরকার এমএলএম-এর নামে প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও কোম্পানীগুলো আদালতে গিয়ে রিট করে রায় স্থগিতের আদেশ পেয়ে আবারও চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কর্মকান্ড। গত ৬ জুলাই সোমবার জাতীয় সংসদে এমনই তথ্য দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

এদিকে তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীসহ সারাদেশে কয়েকটি কোম্পানী ঈদকে সামনে রেখে আবারও তাদের প্রতারণার ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঈদকে উপলক্ষ করে তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। ডেসটিনি, নিউ ওয়ে, ইউনিপে-টু, যুবক, র‌্যাবনেক্স, ইলিংস, এম ওয়ে, আপট্রেন ইত্যাদি এমএলএম এর নামে হায় হায় কোম্পানীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর ওই সব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষিত কর্মীরা ভিন্ন নামে ভিন্ন আঙ্গিকে আবারও মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

অতিসম্প্রতি ম্যাকনাম নামে একটি এমএলএম কোম্পানী বেশ কিছুদিন প্রতারণার ব্যবসা করে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তাদের কর্মীদের এবং অসংখ্য মানুষের কাছে বিভিন্ন সম্পূরক খাদ্য ও ফিজিওথেরাপীর পণ্য চড়াদামে বিক্রি করে হঠাৎ যশোর থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছে। যার সত্যতা স্বীকার করেন কোম্পানীর সাথে কাজ করে প্রতারিত হওয়া শরিফুল ইসলাম শরিফ নামে এক এমএলএম কর্মী। এই কোম্পানীটির ইতি ঘটতে না ঘটতেই সেই কোম্পানীর কর্মীরা আবার ফর-ইভার নামে নতুন প্রতারণার ফাঁদ নিয়ে মাঠে সক্রিয়।

যশোর শহরে এই কোম্পানীর ডজন খানেক সদস্য একত্রিত হয়ে বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করছে। তারা শহরের পরিচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইফতার পার্টি, চা চক্রসহ নানা অনুষ্ঠানের আড়ালে মানুষের মস্তিষ্ক ধোলাইয়ে ব্যস্ত রয়েছে। অন্য কোম্পানীগুলোর চেয়ে ভাল বলে বেশি কমিশন পাওয়ার লোভ দেখাচ্ছে। তারা তাদের টার্গেট হিসাবে শহরের অসৎ এ্যালোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদেরকে বেছে নিয়ে তাদের সাথে কমিশনের ভিত্তিতে এই প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ঠকছেন সাধারণ মানুষ। আর তাতে পটেও যাচ্ছেন হুজুগে মাতাল লোভী ব্যক্তিরা।

এছাড়া তিয়ানশি নামে আরেকটি হায় হায় কোম্পানীও মানুষকে সিক্স স্টার, সেভেন স্টার, এইট স্টার বানানোসহ বিদেশ ভ্রমন, বিলাস বহুল গাড়ী, ফ্লাট, মাসিক লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জনের লোভ দেখিয়ে তাদের বিভিন্ন পণ্য কমিশন ভিত্তিতে চড়া দামে বাজারজাত করছে। যশোর শহরের চৌরাস্তা, সোনালী ব্যাংকের পাশে লাল দিঘির পূর্ব পাড় মোড় সংলগ্ন, ল্যাবস্কান এর সামনের ভবনের ৩য় তলায়, জেল রোড় বেল তলা এবং খয়েরতলাসহ বিভিন্ন স্থানে এদের অফিস চালু রয়েছে। তথ্য রয়েছে চৌরাস্তায় উৎসব ভবনের (গ্রামীনফোন কাস্টমার কেয়ার অবস্থিত) চতুর্থ তলায় বদরুল ইসলাম নামে এক ঠকবাজ তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সে তার অফিসে ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তার বসিয়ে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছে তার পণ্য চড়া দামে বিক্রি করছে। কথিত আছে তাদের পণ্য কোন ঔষধ নয়, সম্পূরক খাবার মাত্র। অথচ তারা চিকিৎসার নামে অসহায় রোগীদের হাতে এই সব পন্য ঔষধ হিসেবে ধরিয়ে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অনেক সময় নিজেরাও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বনে যাচ্ছেন।

সারা বিশ্বের বড় বড় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যখন ক্যান্সার রোগের নিরাময়ের উপায় খুঁজতে ব্যস্ত। তখন এই সব এমএলএম কোম্পানীগুলো ক্যান্সার চিকিৎসার নানা পণ্য বাজারে নিয়ে ক্যান্সার রোগীদের দূর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে। তিয়ানশি কোম্পানীর এক সদস্য জনৈক আব্দুর রহমানের সাথে আলাপকালে, তিয়ানশি একটি চায়না কোম্পানী বলে তিনি দাবী করেন। ঔষধ পত্রের গুনাগুন দেখে তিনি মহিত হয়ে গেছেন বলে জানান। কিন্তু অতিরিক্ত মুল্য হওয়ায় ওই কোম্পানীর কোন পণ্য আমার কেনার সাধ্য নেই।

খয়েরতলায় অবস্থিত তিয়ানশির অফিসের তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহর সাথে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনের ০১৯১২৭৪১৪৯২ নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিয়ানশি’র পণ্য ব্যবহারকারী জনৈক ব্যক্তি জানান, ‘ওরে কেয়ার’ টুথ পেস্ট, হৃদরোগ, যৌন রোগের মেডিসিনসহ প্রায় ৫০টি পণ্য চড়া মূল্যে কমিশন ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করছে। আর এগুলো ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন না ক্রেতারা। তিনি নিজেও ১৩৫ গ্রামের একটি টুথ পেস্ট তিনশ’ টাকা বিক্রি করছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দামও কয়েকগুন বেশি।-শীর্ষনিউজ ডট কম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ