ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 August 2015 ২৯ শ্রাবণ ১৪২২, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

নিশ্চিহ্নের পথে বঙ্গোপসাগরের ঘোড়ামারা দ্বীপ

আল জাজিরা : এক সময় দ্বীপটির আয়তন ছিল ২০ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু নদীগর্ভে বিলীন হতে হতে এর আয়তন দাঁড়িয়েছে ৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি। ফলে গত তিন দশকে দ্বীপটির বাসিন্দারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগও নেই বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। ভারতের কলকাতা থেকে দেড়শ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে সুন্দরবনের বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত দ্বীপটির নাম ঘোড়ামারা দ্বীপ। যাকে সিংকিং আইল্যান্ড বা ডুবন্ত দ্বীপ নামেও অভিহিত করা হয়। দ্বীপের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভারতের বড়তলা নদী বা চ্যানেল ক্রিক। স্থানীয়ভাবে একে বলা হয় মুড়িগঙ্গা নদী। এই নদীর বক্ষেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে দ্বীপটি।
নদীর প্রবল স্রোত এবং বন্যার কারণে ক্ষয়ে যাচ্ছে দ্বীপের দুর্বল বাঁধ। ফলে প্রতিবছর শত শত মানুষ উদ্বাস্তু হতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দ্বীপ বা এর বাসিন্দাদের রক্ষায় উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। দ্বীপের নিমতলা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারা বিবি (৩০) জানান, ‘বিগত দুই দশকে মুড়িগঙ্গা নদীতে আমি ১.২ হেক্টর (৯ বিঘার বেশি) চাষযোগ্য জমি হারিয়েছি। চারবার আমার বাড়ি সরাতে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হিমালয় পর্বতের বরফ গলে পড়ছে নদীতে। নদী তা বয়ে আনছে বঙ্গোপসাগরে। ফলে নদীতে থাকছে প্রবল স্রোত। যা দ্বীপটি হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। ঘোড়ামারা দ্বীপ কাউন্সিলের প্রধান সঞ্জীব সাগর বলেন, ‘অধিকাংশ লোকই ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে চলে গেছে।’
গত তিন দশকে ছয়শ’র বেশি পরিবার দ্বীপটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর সুগত হাজরা বলেন, ‘ব্যাপকহারে ম্যানগ্রোভ (গরান) গাছ লাগাতে পারলে ক্ষয় প্রতিরোধ করা যেত।’
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার কোনো উপায় নেই শুধু তারাই দ্বীপটিতে অবস্থান করছে। তাছাড়া দ্বীপটির বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার শিক্ষার ব্যাপারেও উদাসীন কর্তৃপক্ষ। ঘোড়ামারা মিলান বিদ্যাপীঠের নবম শ্রেণীর ছাত্র ১৬ বছর বয়সী সৌরভ দুলোই বলেন, ‘সবচেয়ে কাছের যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাও নদীর ওপারে ককদ্বীপে অবস্থিত।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ