ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের তান্ডব

ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারো সহিংস হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগ। প্রায় প্রতিটি আবাসিক হলে বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালাচ্ছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এমনকি প্রাধ্যক্ষের রুমও রক্ষা পাচ্ছেনা তাদের হাত থেকে। এতে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্কে রয়েছে এবং ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

হল সুত্রে জানা যায়, ৩ জুলাই শহীদ শামসুজ্জোহা হল শাখা শিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলে অবস্থান করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর থেকে হলের সামনে জড়ো হতে থাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাকিম বিল্লাহ (বহিষ্কৃত) ও কর্মী রবিউল বনির নেতৃত্বে ওই হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে হলের প্রায় প্রত্যেকটি কক্ষে তল্লাশি চালায়। কিন্তু তারা শিবিরের কাউকে খুঁজে পাননি।

 শনিবার রাত ২টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে শিবিরকর্মীদের ধরতে বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সুমনের নেতৃত্বে¡ পুলিশের সামনেই লেহার-রড ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এসময় সুমনের নেতৃত্বে বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম শাওন, হল ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ও রসায়ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমাম মেহেদীসহ ৫-৭জন  ২২৪ নম্বর কক্ষে গিয়ে অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মী তানজীল আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাকে লোহার রড, লাঠি-শোটা দিয়ে প্রহার ও কিল -ঘুষি মারতে থাকে।

পরে রাত ৩টার দিকে ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আশিক ২১০ নম্বর কক্ষ থেকে ও পরিসখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আপনকেৃ ২২৪ নম্বর কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। তাদের তিনজনকে প্রায় দুই ঘন্টা যাবৎ আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়।

এছাড়া হলে শিবির খুঁজতে পুলিশের সামনেই ছাত্রলীগের ক্যাডাররা সশস্ত্র মহড়া দিতে থাকে। তারা ৪১৯, ৪২৮ ও ৪২৯ নম্বরসহ বিভিন্ন কক্ষের দরজা-জানালায় ভাঙচুর করে। এদিকে রাত ২টা থেকে ভোর পর্যন্ত হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শাসরুদ্ধকার অবস্থার সৃষ্টি হয়। পরে ভোর বেলা হল প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় হলের পরিবেশ শান্ত হয়। এসময় ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার শিবিরের দুই কর্মীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয় এবং পুলিশ ও হল প্রশাসন তল্লাশি চালিয়ে শিবির সন্দেহে আরো একজনকে আটক করে। 

সোমবার বঙ্গবন্ধু হলে বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাইনুদ্দীন ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদেকুল ইসলাম, রাসেল নামে তিন শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে একই দিনে রাত ৮টার দিকে সৈয়দ আমীর আলী হল থেকে শিবির নির্মূল করার অভিযানে নামে ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান পলাশ ও বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুজ্জামান ইমন, শাহীন তালুকদার, তরিকুল ইসলাম বাবু, হাফিজুর রহমান হাফিজ ও সুজনের নেতৃত্বে সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের কিছু মুখোশ ধারী  অস্ত্র নিয়ে  সৈয়দ আমীর আলী হলে হানা দেয়। তারা রুমে রুমে ঢুকে শিেিরর নেতা-কর্মীদের খুঁজতে থাকে। এসময় তারা আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং কয়েকজনকে বেধরক মারপিট করে।

একপর্যায়ে ২০৯ নং রুমে ঢুকে আমীর আলী হল শাখা শিবিররের সভাপতি ওয়াহেদ মাহমুদকে বেদম মারপিট করে আটকে রাখে। এরপর তারা সৈয়দ আমীর আলী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মুস্তাফিজুর রহমানের কক্ষে হামলা চালায়। কক্ষে দরজা-জানালা ভাংচুর করে। এতে হল প্রাধ্যক্ষ তার রুমে প্রায় ঘন্টাব্যাপী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এই দিনেই এর কিছুক্ষণ পর রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সুমন, শাহ মখদুম হল ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ বিন জহির ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কিরণের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হলের ৩৪৭ ও ৩৫০ নম্বর কক্ষে ভাঙচুর চালায়। ৩৪৭ নম্বর কক্ষ থেকে শিবিরের বিভিন্ন বই উদ্ধার করে।

এবিষয়ে সৈয়দ আমাীর আলী হল প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই ছাত্রকে আমার কক্ষে নিয়ে আসলে হলে বহিরাগত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাকে গালিগালাজ করে। আমার কক্ষ ভাঙচুর করে। এঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন, আমি বিষয়টি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি তারা এ ব্যাপারে সুষ্ঠ তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিশ্ববিদালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, এই ক্যাম্পাসে কোন প্রকার জঙ্গি সংগঠন থাকবেনা। হলে গোপনে শিবিরের জঙ্গি কার্যক্রম করে আসছিল। তাই বিভিন্ন হলে অভিযান ও তাদেরকে চিহ্নিত করে পুলিশে সোপর্দ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. তারিকুল হাসানের সাথে মুঠোফনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ওসি হুমায়ন কবির বলেন, বিভিন্ন হলে একটু সমস্যা হচ্ছে, আমরা বিষয়টি দেখছি। ছাত্রলীগ কয়েকজন শিবির কর্মীকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তাদেরকে থানায়  জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।-শীর্ষনিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ