ঢাকা, মঙ্গলবার 22 October 2019, ৭ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

নতুন পথ খুঁজছে হাজারো শরণার্থী

বন্ধ করে দেওয়া হাঙ্গেরি-সার্বিয়া সীমান্তে রাতভর অপেক্ষার পর উত্তর ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য নতুন পথ খুঁজতে শুরু করেছেন হাজারো শরণার্থী।

সার্বিয়ার গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  শরণার্থীদের বাসগুলো ক্রোয়েশিয়ার দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে স্লোভেনিয়া ও অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানিতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছেন তারা।

এর মধ্যে কেউ কেউ রোমানিয়া হয়েও জার্মানিতে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং এশিয়া ও আফ্রিকার ভাগ্যানেস্বষীরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের পাড়ি জমাচ্ছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপকে বড় ধরনের সঙ্কটের মধ্যে ফেলেছে।

গত সপ্তাহে জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে দিলেও এ সঙ্কট কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়ে একমত হতে পারছে না সদস্য দেশগুলো। 

বরং সীমান্তে নতুন করে কড়াকড়ি এবং শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে কোটার প্রস্তাব নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর বিভক্তি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

মঙ্গলবার শরণার্থীদের ঠেকাতে হাঙ্গেরির সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। সার্বিয়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেষ্টনী ভেঙে পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গেপ্তার হয় অন্তত ৬০ শরণার্থী।

এই পরিস্থিতিতে শত শত শরণার্থীকে মঙ্গলবার হাঙ্গেরি-সার্বিয়া সীমান্তে অস্থায়ী তাঁবুতে রাত কাটাতে হয়। কাঠ কুড়িয়ে আগুন জ্বেলে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন তারা। 

মোহাম্মদ মাহায়ান নামের এক সিরীয় শরণার্থীকে উদ্ধৃত করে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাঁটাতারের বেড়া পার করে স্ত্রীকে ওপারে পাঠাতে পারলেও তিনি হাঙ্গেরি সীমান্তেই আটকা পড়েছেন।

তিনি বলেন, “আমি শেষ পর্যন্ত আশা ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন সব শেষ হয়ে গেল।”

মঙ্গলবার মধ্যরাতে অস্ট্রিয়া সীমান্তেও কড়াকড়ি বাড়িয়েছে সে দেশের সরকার।

অস্ট্রিয়া পুলিশ জানিয়েছে, ভিয়েনার দুটি প্রধান রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় করে আছে শত শত শরণার্থী। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, সালজবুর্গের প্রধান স্টেশন তাদের বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

কিন্তু সীমান্তে এই কড়াকড়ির ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শেংগেন চুক্তি হুমকির মুখে পড়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ভিসা ছাড়াই ইইউভুক্ত এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাতায়াত করা যায়।
-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ