ঢাকা, সোমবার 22 July 2019, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মুম্বাই হামলার দায় কেন গোলাম আলিকে নিতে হবে?

শিবসেনার ‍হুমকির মুখে বাতিল হয়েছে বিখ্যাত গজল শিল্পী গোলাম আলি’র  মুম্বাই কনসার্ট। সম্প্রতি এই ঘটনা নিয়ে ভারতের মতামতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্ক্রল-ইন এ নিবন্ধ লিখেছেন রাজদ্বীপ সারদেশাই নামের একজন ভারতীয়। গানকে কাঁটাতার ঘেরা জাতিরাষ্ট্রের সীমানার উর্ধ্বে স্থান দিতে তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, আবারো শিরোনামে শিবসেনার। অনেকদিন পরে আবার প্রথম পাতায় ফিরে আসলো তারা। রাজনীতি যেন শিবসেনাদের কাছে অক্সিজেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা নিশ্চিত করেছে যে শুক্রবার কোনোভাবেই গোলাম আলি যেন কনসার্ট করতে না পারে। মহারাষ্ট্র মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিস নিরাপত্তার পূর্ণ আশ্বাস দিলেও কনসার্টটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

রাজদ্বীপ প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রী শিবসেনাদের সাথে পেরে ওঠে না? তারাকি ঠাকেরাইয়ের চেয়ে কি তিনি অধঃস্তন? তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছিলো যে গোলাম আলিকে মুম্বাইকে স্বাগত জানানো হবে না। কারণ ২৬/১১ এর ঘটনায় এখনো ভারতবাসী পাকিস্তানকে ক্ষমা করতে পারেনি। গোলাম আলি দিল্লিতে গান করতে পারবেন এমনকি তিনি প্রধানমন্ত্রী ভবনেও গান গাইতে পারবেন কিন্তু মুম্বাইয়ে পারবেন কারণ পাকিস্তানে পৃষ্ঠোপোষণায় মুম্বাইয়ের বোমা হামলা।

নিবন্ধকার রাজদ্বীপ আবারো প্রশ্ন করেন, তাহলে কি আমরা ধরে নেবো যে শুধু মুম্বাইবাসীই সেই বোমা হামলার ক্ষত অনুভব করে? আর সারাদেশ গোলাম আলিকে প্রশংসা করে?  আর তাদের কি হবে যারা তার গান শুনতে চাইছিলো? যারা বিশ্বাস করে সঙ্গীত সীমনার উর্ধ্বে? তাদের কি কোনো আওয়াজ নেই? শিবসেনারাই কি মুম্বাইবাসীর মুখপাত্র? অনেকেই বলতে পারেন যে এমনটাই হয়ে আসছে। এসময় তিনি মনে করিয়ে দেন। ভারত-পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে শিবসেনাদের আচরণ প্রতিহত করেছিলো তৎকালীন কংগ্রেস সরকার।

১৯৯১ সালের সেই ঘটনায় মুম্বাইয়ের ক্রিকেট পাগল মানুষগুলো চুপ ছিলো। এখনও কিংবদন্তী একজন শিল্পীর কনসার্ট বাতিলে চুপ মুম্বাইবাসী। রাজদীপ প্রশ্ন করেন যে আজমল কাসাব যা করেছেন সেটার জন্য কি গোলাম আলি দায়ী? আর এটা কি প্রতিশোধের কোনো পদ্ধতি?

তিনি বলেন, আমরা যদি মুরিদকে লস্কর ক্যাম্পে হামলা করতে না পারি তাই বলে কি আমরা মিউজিক কনসার্ট বন্ধ করে দেবো? সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ‍যুদ্ধ যাওয়ার চেয়ে মুম্বাইয়ে বসে সাহস দেখানো অনেক সহজ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এভাবে গড়ে ওঠা প্রতিহিংসাপরায়ণতা খুবই ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন তিনি। একদিন এটি দাদরিতে একজনকে হত্যা করে, পরেরদিন এটি কনসার্ট আয়োজনে বাধা দেয়া। এ যেন ধর্ম নিয়ে পেশীশক্তি দেখানো। তবুও আমরা চুপ থাকি কারণ আমরা কথা বলতে ভয় পাই।

নিবন্ধের শেষে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের বিরোধীতা করে কি আমাদের খুব বেশি হারানোর আছে? আমি নীরবতাকে ঘৃণা করি। আমি গান ভালোবাসি, তাই প্রতিরাতেই ঘুমুতে যাওয়ার আগে আমি গোলাম আলি‘র গান শুনবো।

সূত্র: প্রিয় ডট কম/স্ক্রল ইন

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ