ঢাকা, শুক্রবার 13 December 2019, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

বঙ্গোপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে ভারত

চীনকে ঠেকাতে বঙ্গোপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে ভারত। বৃহস্পতিবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে চীনের উপস্থিতি নিয়ে বারবারই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। সে কথা মাথায় রেখেই পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূলে ‘অনমোল’ নামে নতুন একটি দ্রুতগতির জাহাজ মোতায়েন করা হচ্ছে।

উপকূলরক্ষী সূত্রের খবর, সাধারণ হাল্কা ও ভারী মেশিনগানের পাশাপাশি হলদিয়া বন্দরে রাখা ওই জাহাজে থাকছে বিমানবিধ্বংসী বফর্স মেশিনগানও। তার ফলে চোরাকারবারি দমন এবং টহলদারির পাশাপাশি বড় রকমের জঙ্গিহানা কিংবা শত্রুদেশের মোকাবিলাও করতে পারবে এই জাহাজ।

বৃহস্পতিবার কলকাতা বন্দরের আন্দামান ডকে ‘অনমোল’-কে বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীও উপকূল নিরাপত্তায় চিনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তিনি বলেন, চীন এবং কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের কৌশলগত অবস্থানের জন্য উপকূলরক্ষী বাহিনীর গুরুত্ব বাড়ছে। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার পর থেকে উপকূলীয় নিরাপত্তা বাড়ানোর উপরে জোর দিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ওই হামলার ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে সেনা ও গোয়েন্দাকর্তারা দেখেছিলেন, জেলেদের ডিঙি নৌকো করেই এ দেশে ঢুকেছিল আজমল কাসভেরা। তার পর থেকেই উপকূলীয় নিরাপত্তা বাড়াতে বিশেষ প্রকল্প নিয়েছে কেন্দ্র।

উপকূলীয় বাহিনী সূত্রের খবর, নিরাপত্তা প্রকল্পে এ রাজ্য-সহ গোটা দেশের উপকূল জুড়েই রেডার নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এ রাজ্যের সাগরদ্বীপ, পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপত্রবাড়ে রেডার বসছে। আগামী দিনে ফ্রেজারগঞ্জেও রেডার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর।

এদিকে উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্তারা বলছেন, বিদেশি শক্তি এবং জঙ্গিহানার প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার উপকূল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে একাধিক বন্দর রয়েছে তার উপরে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সংস্থার অফিস এবং ঘাঁটিও রয়েছে। সে কারণেই পূর্ব উপকূলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপকূলরক্ষী বাহিনীর এক কর্তা জানায়, বর্তমানে পাকিস্তানের থেকে চিনকে আমরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। পূর্ব উপকূলের নিরাপত্তাও সেটা মাথায় রেখেই ঢেলে সাজা হচ্ছে।

এ দিন জাহাজের উপকূলরক্ষী বাহিনীর আইজি কৃপা নটিয়্যাল জানান, রেডার নেটওয়ার্ক ছাড়াও বাহিনীর সাজসরঞ্জামও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ১১৬টি জলযান এবং ৬২টি বিমান রয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে ১৫০টি জলযান এবং ১০০টি বিমান ও হেলিকপ্টার চলে আসবে। তার কথায়, হেলিকপ্টার নামতে পারবে এমন সাতটি জাহাজ নিয়ে আসা হচ্ছে।-শীর্ষনিউজ ডট কম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ