ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রমজানের আগেই বেড়ে চলেছে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম

গাযী খলিলুর রহমান, টঙ্গী থেকে : গাজীপুর মহানগরীর শিল্পাঞ্চল খ্যাত টঙ্গীতে আগত পবিত্র মাহে রমজানের আগেই বেড়ে চলেছে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম। এতে নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে। অথচ  দেখার কেউ নেই ।

গত কয়েক দিন টঙ্গীর বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে স্বরেজমিনে ঘুরে এলাকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।   কিছুদিন আগেও টঙ্গীর আনাচে-কানাচে প্রতি কেজি গরুর গোস্ত ৩ শ ৮০ টাকায় পাওয়া যেত। তা হঠাৎ করেই বর্তমানে ৪ শ২০  টাকা থেকে ৪শ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা গেল কয়েকদিন আগে প্রতি কেজি ৬২ টাকা থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হত, যা বর্তমানে ৯০ টাকা থেকে ১শ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রশুন, হলুদ,মরিচ ও আদার দাম তো বেশ কিছুদিন থেকেই তুঙ্গে। ভোজ্য তৈল সয়াবিনের দাম স্থিতিশীল হলেও বেড়েই চলেছে অন্যান্য নিত্য পণ্য-সামগ্রীর দাম। জাতীয় মাছ ইলিশ তো সোনার হরিণ। রুই, কাতল, শোল, শিং, মাগুর, চিংড়ী তো সাধারনের নাগালের বাহিরে। চাষের পাংগাস ও তেলাপিয়া মাছের দাম কিছুটা কম হলেও গত বাজারের তুলনায় কেজিতে বেড়েছে ৮/১০ টাকা। চেরাগআলী বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রতন পাল জানালেন, সয়াবিন তৈল ছাড়া সব পন্যেরই দাম বেড়েছে। তবে কেন বেড়েছে তা তিনি জানেন না । চিনি কয়েকদিন আগেও তিনি  ৪৮ টাকা থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি করতেন,  আর বর্তমানে বিক্রি করেন ৬০টাকা থেকে ৬৫ টাকায়। গাজীপুরার কাঁচা মালের ব্যবসায়ী সজীব জানায়, আলু ছাড়া প্রায় সকল পন্যের দাম বেশ বেড়েছে । কত বেড়েছে জানতে চাইলে সে জানায়, কেজি প্রতি ৫ টাকা থেকে ২০টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গাজীপুরার আ্ই সি এস ড্রাগ কর্নারের মালিক মো: খোরশেদ আলম জানান, বর্তমানে অনেক ঔষধেরও দাম বেড়েছে। তবে কেন বেড়েছে তিনি তা বলতে পারেননা বলে জানান।   মাছ ব্যবসায়ী আবুল জানায়, সরবরাহ কম থাকাতে মাছের কিছুটা দাম বেড়েছে। গোস্ত ব্যবসায়ী নাছির জানায়, দেশী গরুর গোস্ত দাম তো বেশী হবেই। অপেক্ষা করেন, ৬শ টাকায় খাবেন। গুটিয়ার গৃহস্ত ছালাম ও তোফায়েলের নিকট বর্তমান বাজারের নিত্য-পন্যের হাল-হাকিকত সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা ক্ষোভের স্বরে জানায়, কি বলব ? ১ মন ধান বিক্রি করে ১ কেজি গরুর গোস্ত ক্রয় করতে  পারিনা। ক্ষ্যতি-গিরস্তি (ফসল) করে লাভ কি!! চিন্তা ভাবনা করতেছি সব চাইড়া (বন্ধ করে) দিব।স্যুয়েটার শ্রমিক আলেয়া, সেলিনা, মালেকা ও তাপসীদের নিকট তাদের পরিস্থিতি জানতে চাইলে তারা জানায়, যা আয় করি তা দিয়ে বাসা ভাড়া দিয়ে থাকা খাওয়া চলেনা। আর সন্তানদের পড়া লেখা করাইয়া মানুষ বানামু তা তো কল্পনাও করা যায়না। তাই ভাবছি আগামী ঈদের পরেই গ্রামের বাড়ি চলে যাব এবং হাসঁ, মুরগী ও শাকসব্জির চাষ করে বাকী জীবনটা কাটাব। আগামী ৬ জুন সোমবার পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম রোজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রোজার আগেই টঙ্গীর বাজারগুলোতে  নিত্যপন্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও বাজার মনিটরিং করে কম আয়ের রোজাদারদের নির্ভিগ্নে রোজা রাখার ব্যবস্থা করতে সরকারের নিকট ভোক্তভোগীরা জোর দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যপারে টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ তালুকদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, অচিরেই আমরা সকলকে নিয়ে আলোচনায় বসব এবং রমজানে যাতে বাজার স্বাভাবিক থাকে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ