ঢাকা, শনিবার 11 June 2016 ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩, ৫ রমযান ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

তিন ক্যাটাগরিতেই ঢাকা কমার্স কলেজ নির্বাচিত

এস এম জহিরুল ইসলাম : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ র‌্যাংকিংয়ে ৬৮৫টি কলেজের মধ্যে তিন ক্যাটাগরিতেই ঢাকা কমার্স কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা কলেজের তালিকায় নির্বাচিত হয়েছে। স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত হয়েও ঢাকা কমার্স কলেজ একমাত্র বেসরকারি কলেজ, যা সর্বোচ্চ তিন ক্যাটাগরিতে সেরা কলেজের পদক লাভ করেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা কমার্স কলেজ জাতীয় পর্যায়ে সেরা বেসরকারি কলেজ, জাতীয় পর্যায়ে ৫টি সেরা কলেজের মধ্যে ৪র্থ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১০টি সেরা কলেজের মধ্যে ৩য় স্থান অর্জন করেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ র‌্যাংকিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে ৩১টি সূচকের ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৬৮৫টি অনার্স ও মাস্টার্স কলেজে ২০১৫ সালের জন্য স্কোরের ভিত্তিতে র‌্যাংকিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ ১৪ মে ২০১৬ কলেজ র‌্যাংকিং ২০১৫-এর ফল ঘোষণা করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো অধিভুক্ত কলেজসমূহের মধ্যে র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে।
২০ মে ২০১৬ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ র‌্যাংকিং ২০১৫-এর অ্যাওয়ার্ড ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অ্যাওয়ার্ড ও সনদপত্র প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন প্রফেসর মোঃ নোমান উর রশীদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ আসলাম ভূঁইয়া।
শিক্ষামন্ত্রীর নিকট থেকে তিন ক্যাটাগরিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা কলেজের অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন ঢাকা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু সাইদ। পুরস্কার গ্রহণ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ঢাকা কমার্স কলেজের সফলতা ও স্বীকৃতির ইতিহাসের সঙ্গে আমার চিরকাল সম্পৃক্ততার সৌভাগ্য হলো। আমি ঢাকা কমার্স কলেজের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যেসব ত্যাগী ব্যক্তিবর্গ সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের এবং কলেজের সুযোগ্য পরিচালনা পরিষদ ও কলেজের নিবেদিত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
কলেজের বর্তমান ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার ৬০০, শিক্ষক সংখ্যা ১৩২, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১১২ এবং পরিচালনা পরিষদ ১৬ সদস্যবিশিষ্ট। এ কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ব্যবসায় শিক্ষা ছাড়া ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, মার্কেটিং, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং, ইংরেজি ও অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্স রয়েছে। এছাড়া রয়েছে বিবিএ (অনার্স) প্রফেশনাল কোর্স। ঢাকা কমার্স কলেজের রয়েছে অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। সব বিভাগে স্বতন্ত্র সেমিনার লাইব্রেরি রয়েছে। রয়েছে অত্যাধুনিক ৪টি কম্পিউটার ল্যাব। একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও কোর্স প্ল্যান অনুযায়ী এ কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। সাপ্তাহিক, মাসিক ও তিন মাস অন্তর পর্ব পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। কলেজের নিয়মশৃঙ্খলা সব ছাত্রছাত্রীকে অবশ্যই মেনে চলতে হয়।
বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় কলেজটি প্রতিবারই ব্যবসায় শিক্ষায় শীর্ষ অবস্থান আঁকড়ে রাখছে। প্রতি বছরই কলেজে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বনভোজন, নৌবিহার, শিক্ষাসফর, বার্ষিক ভোজ ইত্যাদি। যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয় জাতীয় দিবসসমূহ। কলেজটি নিজে যেমন সরকার ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননা লাভ করছে, তেমনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কলেজের পক্ষ থেকে গুণীজনদের সম্মাননা দেয়া হয়ে থাকে।
সম্পূর্ণ স্ব-অর্থায়নে ঢাকা কমার্স কলেজের ১১তলা বিশিষ্ট ১নং একাডেমিক ভবন এবং ১৫তলা বিশিষ্ট ২নং একাডেমিক ভবনের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ৮তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবনের ৬তলা পর্যন্ত নির্মাণ শেষ হয়েছে। ১২তলা বিশিষ্ট ২টি শিক্ষক কোয়ার্টার রয়েছে। ১৫শ আসনবিশিষ্ট বিশাল অডিটরিয়ামে নিয়মিত অনুষ্ঠান ও ইনডোর গেমস হয়। বিশাল অবকাঠামো, শিক্ষক-শিক্ষার্থী কাম্য অনুপাত, নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষায় অভাবনীয় ফল, শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের হার, শিক্ষা সম্পূরক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ ইত্যাদি ইতিবাচক সূচকের কারণে ঢাকা কমার্স কলেজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শ্রেষ্ঠ কলেজের সম্মাননা, সনদ ও পুরস্কার লাভ করেছে।
একনজরে ঢাকা কমার্স কলেজ পরিচিতি
১. প্রতিষ্ঠাকাল : ১ জুলাই ১৯৮৯
২. উদ্দেশ্য : বাণিজ্যবিষয়ক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও স্বশিক্ষিত করে গড়ে তোলা।
৩. আদর্শ : রাজনীতি ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ এবং স্ব-অর্থায়ন
৪. পরিচালনা পরিষদ : ১৬ সদস্যবিশিষ্ট
৫. শিক্ষক সংখ্যা : ১৩২
৬. কর্মকর্তা-কর্মচারী সংখ্যা : ১১২
৭. কোর্সসমূহ : উচ্চমাধ্যমিক-ব্যবসায় শিক্ষা; স্নাতক (সম্মান)-ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, মার্কেটিং, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, ইংরেজি, অর্থনীতি ও বিবিএ প্রফেশনাল এবং স্নাতকোত্তর-ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, মার্কেটিং, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, ইংরেজি ও অর্থনীতি
৮. বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা : ৬ হাজার ৬০০
৯. শিক্ষা কার্যক্রম :
ক. পরীক্ষা : সাপ্তাহিক, মাসিক এবং তিন মাস পরপর পর্ব পরীক্ষা।
খ. উপস্থিতি : কমপক্ষে ৯০% (বাধ্যতামূলক)।
গ. আসনবিন্যাস : নির্ধারিত।
ঘ. সেকশন পরিবর্তন : টার্ম পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে।
চ. কলেজ ইউনিফর্ম : নির্ধারিত।
১০. পরীক্ষার ফল : উচ্চমাধ্যমিকÑ ১৯৯১-২০০২ মেধাতালিকায় স্থান লাভ ৭৮ জন, স্টার নম্বর ৪৫৩, প্রথম বিভাগ ৪ হাজার ১৯১ জন পাসের হার ৯৪.৪১%। ২০০৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৯৩২ জন, জিপিএ-৪.৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ২৭৫ জন, জিপিএ-৩.৪ পেয়েছে ১ হাজার ৭৭৪ জন, জিপিএ-২.৩ পেয়েছে ৫৮ জন এবং গড় পাসের হার ৯৯.৭৭%। স্নাতক সম্মান/স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় কলেজের ৮০%-এর অধিক শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়।
মেধা ও মননশীলতা বিকাশের জন্য ঢাকা কমার্স কলেজ সহশিক্ষা কার্যক্রম
১. ইতিহাস ও ঐতিহ্য সচেতন করার লক্ষ্যে নিয়মিত শিক্ষা সফরের (ইলিশ ভ্রমণ, সুন্দরবন ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে) ব্যবস্থা;
২. নিয়মিত কলেজের সমৃদ্ধ বার্ষিকী (প্রগতি) প্রকাশ;
৩. দেয়ালিকা, মাসিক পত্রিকা, জার্নাল ও বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ;
৪. বার্ষিক ক্রীড়া ও লোকনৃত্য অনুষ্ঠান;
৫. অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ পালন;
৬. স্বতন্ত্র শারীরিক শিক্ষা বিভাগ ও জিমনেসিয়াম;
৭. বিএনসিসির সুসজ্জিত প্লাটুন;
৮. শ্রেণি কার্যক্রমের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রম- সাধারণজ্ঞান, বিতর্ক, রোটার‌্যাক্ট, আর্ট এন্ড ফটোগ্রাফি, আবৃত্তি, নাটক, নৃত্য, রিডার্স অ্যান্ড রাইটার্স, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব এবং কণিকা রক্তদান সংগঠন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ