ঢাকা, বৃহস্পতিবার 13 December 2018, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৫ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অরলান্ডো হামলার ফায়দা লোটায় ব্যস্ত ট্রাম্প

ফাইল ফটো

অনলাইন ডেস্ক: অরলান্ডোর ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের অরলান্ডোতে নাইটক্লাবে বন্দুকধারীর হামলায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকেই। এই ঘটনায় পুরো যুক্তরাষ্ট্রে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অথচ হৃদয়বিদারক এ ঘটনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের এই মনোনয়নপ্রত্যাশী অরলান্ডোর ঘটনায় মুসলমানদের নিয়ে আরেকবার বিরূপ মন্তব্যের খেলায় মেতে উঠেছেন।

অরলান্ডোর বন্দুকধারীর পরিচয় সে ওমর মতিন নামক আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এবং মুসলমান। সমকামী ক্লাবে মুসলমান বন্দুকধারীর হামলা এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দায় স্বীকারের খবর প্রচারের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে সরব হয়ে ওঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অরলান্ডো হামলার ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ২টার দিকে। এর মাত্র তিন ঘণ্টা পর ভোর ৫টায় এক টুইটারবার্তায় হামলার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের যোগসূত্র খোঁজা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখনো হামলার কারণ সম্পর্কে বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

অরলান্ডো নিয়ে প্রথম টুইটারবার্তার কয়েক ঘটনা পরই ট্রাম্পের অপর বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ হয়। এই টুইটারবার্তায় তিনি বলেন, ‘ইসলামিক জঙ্গিবাদ নিয়ে তিনিই ঠিক বলে যাঁরা সমর্থন করেছেন তাঁদের ধন্যবাদ। আমাদের দৃঢ় ও সতর্ক হতে হবে।’ এর পর পরই এক টুইটারবার্তায় তিনি বলেন, ‘ওবামা কি ইসলামিক জঙ্গিবাদ নিয়ে কোনো কথা বলবেন? এমনটি না করলে অপমানিত হয়ে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।’ একই সময় ধর্মীয় উসকানি দিয়ে ট্রাম্পের অপর টুইটবার্তা আসে। তিনি বলেন, অরলান্ডোর বন্দুকধারী ‘আল্লাহু আকবর’ বলে ক্লাবে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

অরলান্ডোর ঘটনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার টুইটারবার্তায় অন্যতম প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেট দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিলারিকে নিয়ে মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সমর্থকের টুইটারবার্তা নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করেন তিনি। এই বার্তায় বলা হয়, হিলারিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেওয়া সম্ভব নয়। এতে মার্কিনিরা আরো সমস্যায় পড়বেন।

অপর এক টুইটারবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রে মুসলাম নিষিদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটারবার্তায় তিনি বলেন, ‘অরলান্ডোতে যা ঘটেছে তা মাত্র শুরু। আমাদের নেতৃত্ব দুর্বল ও অকার্যকর। আমি এই নিয়ে বলেছি এবং নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছি। বিষয়টি কঠিন হবে।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত সব টুইট মন্তব্যে বেশ সাড়া দিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা। অনেক সমর্থক তাঁর মন্তব্যে লাইক করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরোধিতাকারী মার্কিনির সংখ্যাও কম নয়। এর মধ্যে সমকামী নেতাও আছেন। এঁদেরই একজন স্টারট্রেক তারকা এবং মার্কিন গে অধিকারকর্মী জর্জ তাকেই।

ট্রাম্পের বিতর্কিত এক টুইটের পরিপ্রেক্ষিতে জর্জা তাকেই মন্তব্য করেছেন, ‘ডোনাল্ড, আপনি আরেকবার দেখালেন কেন আপনি আমাদের নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে অথচ আপনি অভিনন্দন উপভোগ করছেন।’

অরলান্ডোতে হামলার পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এটি সন্ত্রাসবাদ এবং ঘৃণার কর্মকাণ্ড। তিনি আরো বলেন, এই হামলা একটি বিষয়ই স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের ওপর হামলা চালানোর জন্য কারো হাতে অস্ত্র পাওয়া কত সহজ।

অরলান্ডো হামলার পর হিলারি ক্লিনটন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রতিরক্ষায় এবং দেশ ও দেশের বাইরে হুমকি দমন করায় প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে পরাজিত করতে হবে। এ জন্য মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকে নিয়ে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর পিছু নিতে হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার প্রতি জোর দেন হিলারি। তিনি বলেন, আমাদের সড়কে যুদ্ধের অস্ত্রের কোনো স্থান হতে পারে না।
-এনটিভিবিডি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ