ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আশুলিয়ায় নাইটিংগেল মেডিকেল শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৩০

অনলাইন ডেস্ক: আশুলিয়ায় নাইটিংগেল মেডিক্যাল কলেজের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা পরিচালককে বাঁচানোর জন্য গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এতে ওই কলেজের ৩ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আজ মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্পাসের ভেতরে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, কলেজের পরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পরিচালককে বাঁচাতে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে শিক্ষার্থীদের কিল-ঘুলি মারাসহ বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ার সেল ও লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ওই কলেজের ৩ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীদের নাম জানা যায়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও আর অনিয়মের জন্য তাদের প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আর এ কারণেই তারা পরিচালককে অবরুদ্ধ করেছিলেন। অথচ আশুলিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা হাসপাতালের পরিচালককে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাতের অন্ধকারে তাদের ওপর গুলি ছুড়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির শিক্ষার্থীদের উপর রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অবরুদ্ধ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন আজাদ হাসপাতালের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা তাকে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা থেকে আটক করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এনে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

গত রবিবার বিকেলের দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কলেজটি সাময়কি বন্ধ ঘোষণা করার পর পরই ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূরে ইমাম মেহেদির কাছে বিষয়টি জানতে চান। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা তাকে  অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন আজাদ ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে শিক্ষার্থীরা তাকেও অবরুদ্ধ করেন। পরে গভীর রাতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন আজাদ হাসপাতালের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে পালিয়ে যান।

এসময় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ