ঢাকা,বুধবার 14 November 2018, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইডস আর কিশোরী মাতৃত্বের হার কমাতে কুমারিত্ব বৃত্তি

অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় একটি প্রদেশ কাওয়াজুলু নাটাল। এখানকার উথুকেলা নামক স্থানটিতে এইডস ও কিশোরী মাতৃত্বের হার সবচেয়ে বেশি। সেই মরনব্যাধি এইডস আর কিশোরী মাতৃত্বের হার কমাতে এবং মেয়েদেরকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলতে উথুকেলা পৌরসভা চালু করে কুমারি বৃত্তির।

এই বৃত্তি পেয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন ১৬ জন ছাত্রী। তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‌‌‍''আমি নিজেকে রোগমুক্ত রাখতে চাই। আমি নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই এবং এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে চাই না"।

তিনি আরো বলেন "আমি মনে করি অন্যান্য মেয়েদের আমাদের অনুসরণ করা উচিত যাতে জীবনে আরো অনেক কিছু করার সুযোগ পেতে পারে”।

যখন এই প্রকল্প প্রথম চালু করা হয় তখন উথুকেলার মেয়র ডুডু মাজিবুকো বলেছেন এই কুমারিত্বের পরীক্ষা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় করবে না।

যেসব স্কুল ছাত্রী ইতিমধ্যে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে তাদেরকে নতুন করে আর কোন টেস্ট করা হবে না।

মেয়র ডুডু মাজিবুকো বলছিলেন তারা শুধুমাত্র মেয়েদেরকে উৎসাহিত করছেন সুস্থতা ও জীবন সম্পর্কে।

তিনি বলছিলেন “আমারা শুধু বলছি সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন কর। যতক্ষণ পর্যন্ত না নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে জগতের প্রতিকূলতা সম্পর্কে ততক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদে থাকো। পরে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারবে”।

২০১৩ সালে সরকারের সমর্থনে করা এক জরিপে দেখা যায় কিশোরী মাতৃত্বের সংখ্যা সেখানে এক লক্ষ। যেটা দুই বছর আগে ছিল ৬৮ হাজার।

আর দশজনের মধ্যে একজনের বেশি মানুষ এইচ আই ভি ভাইরাসে আক্রান্ত।

চলতি বছরের শুরুর দিকে এই বৃত্তির প্রকল্প ঘোষণা করা হলে এটা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। বিতর্ক হয় কুমারিত্ব পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে এবং কুমারিত্বই একজনের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে কিনা সেই বিষয় নিয়ে।

তবে সম্প্রতি বৈষম্যের অজুহাতে সময়োপযোগী এই প্রকল্পটির বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে দেশটির লিঙ্গ সমতা বিষয়ক কমিশন। তাদের মতে, নারী শিক্ষার্থীদের কুমারিত্বের উপর দেয়া এই বৃত্তি মৌলিকভাবে বৈষম্যমূলক।

এটাকে বাতিল করা উচিত বলেও রায় দেয়া হয়েছে। যদিও এই ব্যাপারে উথুকেলা পৌরসভার কর্তৃপক্ষ এখনো কোন মন্তব্য করেনি।

নিয়মটি বাতিল প্রসঙ্গে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য কমিশন ৬০ দিন সময় দিয়েছে ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ