ঢাকা,বুধবার 14 November 2018, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

টার্গেটেড কিলিং: মুসলমান ১৪, হিন্দু ৩, খ্রিষ্টান ২ এবং বৌদ্ধ ১ জন

মোবায়েদুর রহমান:

ভারতের প্রেসিডেন্ট বাবু প্রণব মুখার্জীর পুত্র ভারতীয় লোক সভার সদস্য বাবু অভিজিৎ মুখার্জী বলেছেন যে,বাংলাদেশে ধর্মীয় কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, যে হামলা হচ্ছে, সেগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপরও হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী তাদের উদ্দেশ্য বা মতের জন্য করছে। ধর্মের ভিত্তিতে সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে। এটি উপেক্ষা করা উচিত। তিনি আরো বলেন, যে হত্যাগুলো হচ্ছে, তা খুবই খারাপ। কিন্তু কিছু না জেনে কারও ওপরে দোষ চাপানো উচিত নয়। সঠিক ঘটনা খুঁজতে হবে। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশে এ ধরনে ঘটনা ঘটে। এক-দুজন মারা যান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে ৫০ জন মারা যান।

ঢাকায় তাকে প্রদত্ত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঐ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আওয়ামী লীগ দলীয় কতিপয় বুদ্ধিজীবি এবং পলিটিশিয়ান।

প্রণব বাবুর পুত্রের বক্তব্য একশত ভাগ সত্য। সম্প্রতি বাংলাদেশে যে গুপ্তহত্যা হয়েছে সেখানে হিন্দুদের চেয়ে মুসলমানরাই বেশি নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যায় নিহত / আহত ১৪ জনের একটি তালিকা আজ ‘ডেইলি স্টার’ প্রকাশ করেছে। এছাড়া আরেকটি বাংলা দৈনিকে আরো ৬ জনের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আমরা ২০ জনের তালিকা নীচে তুলে দিলাম। 

যেসব মুসলমান নিহত হয়েছেনঃ-

১. খ্রিষ্ট ধর্ম থেকে রূপান্তরিত কুড়িগ্রামের গাড়িয়াল পাড়ার হোসেন আলী- ২২ মার্চ।

২. ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার হোমিওপ্যাথি ডাক্তার শিয়া মুসলমান আবদুর রাজ্জাক- ১৪ই মার্চ।

৩. ঢাকার ঋষিকেশ দাস লেনের নাজিম উদ্দিন সামাদ- ৬ এপ্রিল।

৪. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম- ২৩ এপ্রিল।

৫. সমকামীদের অধিকার প্রবক্তা জুলহাজ মান্নান, কলাবাগান- ২৫ এপ্রিল।

৬. জুলহাজ মান্নানের বন্ধু মাহবুব তনয়, কলাবাগান- ২৫ এপ্রিল। 

৭. রাজশাহীর তানোর উপজেলার পীর শহিদুল্লাহ- ৬ই মে। 

৮. কুষ্টিয়ার হোমিওপ্যাথ ডাক্তার সানাউর রহমান- ২০ মে।

৯. কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুজ্জামান- ২০ মে। (আহত)

১০. চট্টগ্রামে এসপি পত্নী মাহমুদা খাতুন মিতু- ৫ জুন। 

১১. প্রকাশক ফয়সাল আরফেনি দীপন

১২. ব্লগার ওয়াশকিুর রহমান বাবু

১৩. শান্ত মারয়িাম বশ্বিবদ্যিালয়রে ছাত্র রয়িাদ র্মোশদে বাবু

১৪. প্রকাশক আহমদেুর রশীদ টুটুল (আহত)

যেসব হিন্দু ও খ্রিষ্টান নিহত হয়েছেনঃ

১. টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ব্যবসায়ী নিখিল জোয়ারদার- ৩০ এপ্রিল। 

২. বান্দরবনের মন্দিরের বৌদ্ধ ভিক্ষু উ দাম্মা ওয়াইং চা- ১৪ মে।

৩. নাটোরের খ্রিষ্টান ব্যবসায়ী সুনিল গোমেজ- ৫ জুন। 

৪. ঝিনাইদহের হিন্দু পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী- ৭ জুন। 

৫. পাবনার ঠাকুর অনুকুল চন্দ্র আশ্রমের স্বেচ্ছা সেবক নিত্যরঞ্জন পান্ডে- ১০ জুন। 

৬. নীলাদ্রী নীলয়

ওপরের এই তালিকা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, মোট ২০ জনের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা ১৪ জন, হিন্দুর সংখ্যা ৩ জন, দুইজন খ্রিষ্টান এবং ১ জন বৌদ্ধ। আমরা এই ২০ জনের মধ্যে ১৮ জনকে হত্যা এবং ২ জনকে আহত করার ঘটনার শুধু নিন্দা নয়, তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছি। এবং আইন অনুসরণ করে তাদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

যারা অভিজিৎ মুখার্জীকে সংবর্ধনা দিয়েছেন তারা কি অভিজিৎ বাবুর বক্তব্যে খুশি হয়েছেন? নাকি বেজার হয়েছেন? কারণ তারা তো শুধুমাত্র হিন্দু নির্যাতনের কথাই বলেন।

ভারত সব সময় ধর্মনিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের এবারের কার্য কলাপে সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ৩ জন হিন্দুর হত্যার জন্য প্রধান মন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ঢাকার রাষ্ট্র দূত গভীর শোক প্রকাশ করলেন এবং দূতাবাসের কর্মচারীরা শোক সন্তপ্ত পরিবারের কাছে ছুটে গেলেন। কিন্তু ঐ ৩ জনের বিপরীতে ১৪ জন মুসলমান এবং ২ জন খ্রিষ্টান ও ১ জন বৌদ্ধের হত্যাকান্ডে তাদের কাছে ছুটেও গেলেন না, এমনকি সমবেদনাও জানালেন না। ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার কি শুধুমাত্র ভারতের হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করেন? মুসলমান, খ্রিষ্টান এবং বৌদ্ধদের প্রতিনিধিত্ব করেন না? এমন পক্ষপাত মূলক আচরণ করলে গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রকাশ ঘটায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ