ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঘিওরে বাঁশের ‘বানা’য় পাল্টে গেছে একটি গ্রামের অর্থনৈতিক চিত্র

এইচ এম হাসিবুল হাসান, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) থেকে: বাঁশের বানা তৈরি করে ভাগ্য বদল করেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের জাবরা গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। পরিবারগুলো বাঁশের বানা বানিয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। 

দারিদ্রতা ছিল পরিবারগুলোর নিত্যসঙ্গী। অভাব-অনটন থাকায় পরিবারগুলো খুবই কষ্টে দিন কাটতো। বাঁশের বানার শিল্প এদের ভাগ্য বদলের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে দিয়েছে পুরো গ্রামের চিত্র। একসময় যাদের অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটতো এখন তারা অর্থনৈতিকভাবে বেশ স্বচ্ছল। দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে সন্তানদেরও স্কুলে পাঠিয়ে শিক্ষার পাশাপাশি কর্মজীবী হিসেবে গড়ে তুলছেন তারা। তাদের তৈরি বানা যাচ্ছে ঢাকা, গাজিপুর, ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জ, পাবনা, সাতক্ষীরা, ব্রাম্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, নরসিংদীসহ দেশের প্রায় ১৪টি জেলায়।

জাবরা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরিবারগুলোর সবাই বাঁশের বানা তৈরিতে ব্যস্ত। তবে এ কাজে পুরুষের সঙ্গে সমানতালে নারীরাও কাজ করে যাচ্ছে। বাড়ির বউ-ঝিরা বসে না থেকে ঘর-গৃহস্থালীর কাজ শেষে যোগ দেয় পুরুষদের সঙ্গে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামটিতে উৎসবের আমেজে চলছে ওই কাজ।

জাবরা মাঝিপাড়া এলাকার বয়োঃবৃদ্ধ মাদারি রাজবংশী জানান, এই গ্রামে প্রায় তিন যুগ ধরে বানা তৈরির কাজ হয়। লাভ যাই হোক না কেন এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করছি। সরকারি-বেসরকারিভাবে আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হলে আমরা এ শিল্পকে অনেক এগিয়ে নিতে পারব। দেশের বেকার লোকদের কর্মসংস্থান হবে।

জাবরা বাজারের পাশেই কথা হয় রতন রাজবংশীর সাথে। তিনি জানান, ১২০টি পরিবার এই বানা তৈরির কাজে সরাসরি জড়িত। পৈত্রিক পেশা হিসেবেই তারা ওই কাজ করে থাকেন বলে তিনি জানান। এখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি এ কাজে মাসে গড়ে ৫/৭ হাজার টাকা উপার্জন করে। এতে তাদের পড়াশোনার খরচ ছাড়াও পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

গৃহবধূ আমেলা বেগম (৪০) জানান, বিয়ের পর থেকেই তিনি বানা তৈরি করছেন। প্রতিদিন ঘরের কাজের পাশাপাশি দুটি বানা তৈরি করা যায়। বছরের বৈশাখ মাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত কাজের চাহিদা একটু বেশি থাকে। গড়ে দিন প্রতি ৩শ-৪শ’ টাকার মতো আয় হয়।

স্থানীয় বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রী পূর্ণিমা রাজবংশী ও মেধাবী ছাত্র মাসুম মিয়া জানান, সংসারে অন্যান্য কাজ ও লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবা-মাকে সাহায্য করি। তাতে বাবা মায়ের অনেকটা কষ্ট দূর হয় এবং সেই সঙ্গে কিছু বাড়তি আয়ও হয়।

পাইকারী উৎপাদনকারী উজ্জল কুমার রাজবংশী জানান, ৯ ফুট/১৫ ফুট আয়তনের একটি বানা তৈরি করতে গড়ে ১১শ’ টাকার মতো। বিক্রি করেন ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা। পাইকাররা বাড়ি থেকে এগুলো কিনে নিয়ে যায়।

বানিয়াজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চতু জানান, সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা ও সুদমুক্ত ঋণ পেলে এই এলাকায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসহ বানা শিল্পের আরো ব্যাপক প্রসার ঘটবে। সেই সাথে এলাকার অনেক শিক্ষিত ছাত্র ছাত্রী ও বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ