ঢাকা, মঙ্গলবার 16 October 2018, ১ কার্তিক ১৪২৫, ৫ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ব্রিক্সেট: ব্রিটেনের জন্য অপেক্ষা করছে যেসব চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক: গত বৃহস্পতিবার ছিল ব্রিটেনবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে এই দিন অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটের মাধ্যমে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিটেনবাসী। নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তাকে অক্ষুণ্ন রেখে নতুন করে পথ চলার এক বিরাট সিদ্ধান্ত। একই সাথে এটি একটি বিরাট চ্যালেঞ্জও বটে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইইউ ত্যাগের সিদ্ধান্তের প্রভাব অর্থনীতির পরতে পরতে তো পড়বেই, প্রভাব পড়বে দেশটির ভাবমূর্তির ওপরও।

একেবারে শুরুতে যেটা নিশ্চিত হয়েছে সেটা হলো ইইউ থেকে আলাদা হওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যকে যেসব নথিভিত্তিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে, তাতে হাত লাগাচ্ছেন না বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। গণভোটের ফল পেয়েই তিনি অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ইইউর সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে জোটের সঙ্গে ব্রিটিশদের বোঝাপড়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে ক্যামেরনের উত্তরসূরিকে। নথিভিত্তিক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করার জন্য সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্য দুই বছর সময় পাবে, বিশেষজ্ঞদের মতে যা খুবই কম সময়। গণভোট ব্রেক্সিটের পক্ষে যাওয়ায় ব্রিটেনকে ৮০ হাজার পৃষ্ঠার আইনি দলিলে রদবদল আনতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মতে ব্রিটেনকে যে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। যেমন:

বিশেষ মর্যাদা ছাড়তে হচ্ছে : ইইউতে থাকলে যুক্তরাজ্যকে যে বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার কথা ছিল, সেটা মাঠে মারা গেছে। তবে জোট ছাড়ার জেরে তারা কোনো বৈষম্যের শিকার হবে না বলে নিশ্চিত করেছে ইইউ কর্তৃপক্ষ। গণভোটের আগেই ইইউর একক অর্থনীতির বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিজেদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্য। এমন প্রতিশ্রুতি ইউরোপীয় অর্থনীতির সর্ববৃহত্ কেন্দ্র লন্ডনের নগর কর্তৃপক্ষের সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিনিময়ে যুক্তরাজ্যও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ২৮ থেকে ২৭ সদস্যের জোটে পরিণত হওয়া ইইউর ঐক্যে কোনোভাবে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

নতুন করে বাণিজ্য চুক্তি : অর্থনীতিবিদরা জানান, ইইউ-যুক্তরাজ্য বোঝাপড়ার জন্য নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ক আলোচনা শুরু করার বাধ্যবাধকতা নেই। সে ক্ষেত্রে এই আলোচনা পাঁচ বছর কিংবা এর বেশি দীর্ঘায়িত হতে পারে। চুক্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) নীতিমালা অনুসারে উভয় পক্ষের বাণিজ্য চলবে। এর নেতিবাচক দিকগুলো খোলাসা করতে গিয়ে অর্থনীতিবিদরা জানান, বাণিজ্য চুক্তিতে দীর্ঘসূত্রতার মানে হলো যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো যুক্তরাজ্যের রপ্তানি খাতও ইইউর নতুন আমদানি শুল্কনীতির মুখোমুখি হবে এবং শুল্কমুক্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। অর্থাত্ ইইউর একক বাজারে প্রবেশের বিশেষ সুবিধা থেকে যুক্তরাজ্য বঞ্চিত হবে। একই সঙ্গে ইইউর সঙ্গে আরো যে ৫৩টি দেশের বাণিজ্য চুক্তি ছিল, যুক্তরাজ্য সেই আওতাবহির্ভূত হচ্ছে। আগের সুবিধাগুলো ভোগ করতে চাইলে ওই সব দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যকে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে।

সদস্য ফির দায় থেকে মুক্তি : প্রতিবছর ইইউকে এক হাজার ২৫০ কোটি ডলার সদস্য ফি প্রদানের দায় থেকে মুক্ত হচ্ছে যুক্তরাজ্য। বিপুল অর্থের খানিকটা তারা হয়তো জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা খাত কিংবা জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রদানে ব্যয় করতে পারে। কিন্তু এর বিপরীতে যুক্তরাজ্যকে ইইউর ৫০০ কোটি ভোক্তার বিশাল মুক্ত বাজারের অধিকার হারাতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের কৃষকরা সরাসরি যে অর্থ পেত, সেটাও বন্ধ হবে।

অভিবাসী সংকট মোকাবিলা : ব্রেক্সিটের পক্ষধারীরা এত দিন অভিবাসী নিয়ন্ত্রণের পক্ষে যেসব প্রচার চালিয়ে এসেছে, সেই অনুযায়ী এখন যুক্তরাজ্য ব্যবস্থা নিতে শুরু করলে তাদেরও পাল্টা ধাক্কা খেতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্য এখন যদি অস্ট্রেলিয়ার মতো যোগ্যতর অভিবাসী কর্মীদের প্রাধান্য দেয় এবং কম যোগ্যতার লোকদের প্রবেশে বাধা দেয়, তাহলে ইইউর বর্তমান সদস্য দেশগুলোর অনেক চাকরিপ্রার্থীকে পিছু হটতে হবে। কেবল চাকরিক্ষেত্রেই নয়, পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রেও নীতিমালা আরো কঠোর হতে পারে। এতটা কড়াকড়ি শুরু হলে যুক্তরাজ্যের প্রায় ২০ লাখ নাগরিককেও ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে বিতাড়িত হতে হবে। তবে আশার কথা হলো, দুই বছরের মধ্যে অন্তত এসব ঘটনা ঘটছে না।

যুক্তরাজ্যে এত ঘটনার ঘনঘটা তো ঘটবেই। তবে তাদের গণভোটের মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিটের ফলে ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশের ইইউবিরোধী ও অভিবাসীবিরোধীরাও হয়তো এবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তারাও হয়তো একইভাবে গণভোটের দাবি করে বসবে, এমন আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ