ঢাকা, রোববার 26 June 2016 ১২ আষাঢ় ১৪২৩, ২০ রমযান ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার : বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, বহু গ্রন্থ প্রণেতা ও মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (৮১) আর নেই। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে তিনি রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘদিন থেকে তিনি অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে, নাতী-নাতনিসহ দেশে বিদেশে অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ কিডনি ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন।
আজ রোববার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মরহুমের প্রথম নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার লাশ নেয়া হবে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার নিজ বাড়িতে। সেখানে পরদিন সকাল ১০টায় মাওলানা খানের প্রতিষ্ঠিত আনসারনগর মাদরাসা ও এতিমখানায় দ্বিতীয় নামাযে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
মাওলানা খানের সংক্ষিপ্ত জীবনী : সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ইসলামী চিন্তাবিদ এই মহান ব্যক্তিত্ব বাংলা ১৩৪২ সনের ৭ই বৈশাখ রোজ শুক্রবার জুমার নামাযের আযানের সময় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। মোমেনশাহী জেলার গফরগাঁও উপজেলাধীন আনসার নগর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী মাওলানা খানের পিতা বিশিষ্ট সাধক পুরুষ, প্রবীণ শিক্ষাবিদ মৌলভী হাকিম আনছার উদ্দিন খান। তাঁর মাতা মোছাঃ রাবেয়া খাতুন। দাদা মুন্সি তৈয়ব উদ্দিন খাঁন, দাদীর নাম কলমজান বিবি। এক বছর বয়সে তিনি দাদাকে হারান। মৌলভী আনছার উদ্দীন খাঁন, ৬ ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিলেন।
পঞ্চাশ দশকের শুরুতে তিনি রাজধানী ঢাকায় লেখাপড়া করতে আসেন। মাদ্রাসায়ে আলীয়া ঢাকায় থাকাবস্থায়ই তিনি সাপ্তাহিক কাফেলা, সাপ্তাহিক নেজামে ইসলাম, দৈনিক ইনসাফ, দৈনিক আজাদ ও দৈনিক মিল্লাত প্রভৃতি পত্রিকায় লেখা-লেখির অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত উর্দু দৈনিক পাসবানের শিক্ষানবীস লেখকরূপে পরে জীবিকার টানে ১৯৫৫ ঈসায়ী সনের শেষের দিকে কামেল পরীক্ষার পর দৈনিক পাসবান পত্রিকায় কাজ করেন।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব বহু গ্রন্থ প্রণেতা ও আদর্শ আলেমে দ্বীন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান মূল্যায়নের মানদ-ে বাংলার এ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ এক কৃতী সন্তান হিসেবে নিজেই নিজের স্থান করে নিয়েছেন।
বিশ্ব মুসলিম লীগ ‘রাবেতায়ে আলম আল-ইসলামী'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের প্রধান, বাদশাহ ফাহাদ কোরআন মুদ্রণ প্রকল্প মদীনা মুনাওয়ারাহ সৌদিআরব কর্তৃক মুদ্রিত তাফসীরে মারেফুল কোরআন এর বাংলা অনুবাদক, মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের সুবিশাল কর্মকা-ের মূল্যায়ন করতে হলে তাঁর সামগ্রিক জীবনকে সামনে রেখে বিশাল গ্রন্থ প্রণয়ন আবশ্যক।
মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ইসলামী রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। নেতৃত্বের পালাবদলে অনেক চড়াই উৎরাইয়ের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি কখানো পদের জন্য রাজনীতি করেননি। এই সত্যটি সচেতন মহল নিশ্চয় অকপটে স্বীকার করবেন। ইসলামী ঐক্যজোট ও জমিয়তের রাজনীতি থেকে এটা প্রমাণিত হয়েছে।
তাঁর প্রথম পরিচয় তিনি কালজয়ী পত্রিকা মাসিক মদীনা সম্পাদক, মাসিক মদীনা পরিবারের গৌরবদীপ্ত আলোকবর্তিকা, সাপ্তাহিক মুসলিম জাহানের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদনা পরিষদের চেয়ারম্যান, রাবেতা আলম আল ইসলামীর কাউন্সিলর, মুতামার আল আলম আল ইসলামী এর বাংলাদেশ শাখার প্রেসিডেন্ট, জাতীয় সীরাত কমিটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, নাস্তিক-মুরতাদ প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামী মোর্চার সভাপতি, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের প্রধান।
মাওলান মুহিউদ্দীন খানের প্রতিটি লেখা, ইসলামী জ্ঞানের এক একটা রতœভা-ার। তিনি জীবনের শুরুতে তমুদ্দুন মজলিস ও হাকিম আজিজুল ইসলামের সম্পাদনাধীন সাপ্তাহিক নেজামে ইসলাম পত্রিকার সাথে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। দেশ ও জাতির চরম দুর্যোগ মুহুর্তে মুসলিম সংস্কৃতির সার্বিক লালন ও বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৬১ ঈসায়ীর মার্চে মাসিক মদীনা প্রকাশ করেন। জনাব খান তাঁর ক্ষুরধার ও বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইসলামের বৃহৎ স্বার্থে তিনি জমিয়ত ছাড়াও আরও কয়েক সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। জাতীয় সীরাত কমিটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইসলামী ঐক্যজোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা, ইসলাম ও রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতা প্রতিরোধ মোর্চার সাবেক সভাপতি, বেফাকুল মাদারিছ বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ জাতীয় সীরাত কমিটির সভাপতি, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদ, ইসলামী পত্রিকা পরিষদের সভাপতি, ভারতীয় নদী আগ্রাসন প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির আহবায়কসহ আরও অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা। ইসলামী আন্দোলনের বীর সিপাহসালার মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের প্রথম সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের পরিচয় বিদগ্ধজনের কাছে নতুন নয়। ইতিহাসবিদ, আরবি ভাষা ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গবেষক হিসেবে তার খ্যাতি উপমহাদেশের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে আরব, ইউরোপ ও আমেরিকার জ্ঞানী ও শিক্ষিত মানুষের হৃদয়ে বহুমাত্রিক প্রতিভার কারণে আসন পেয়েছেন। তিনি মুসলিম বিশ্বের এক জাজ্বল্যমান ইসলামী আলোক বর্তিকা। ইসলাম এবং মুসলমানের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্রের চলমান দুঃসময়ে তিনি যেভাবে যুগের পর যুগ নিরলসভাবে কলমী জেহাদ চালিয়ে আসছেন, তা ইসলামের স্বপক্ষের শক্তিকে দারুণভাবে আশান্বিত করছে এবং ইসলাম বিরোধী অপশক্তির প্রাসাদের ভিত কাঁপিয়ে দিচ্ছে।
শোকের ছায়া : মাওলানা মুহিউদ্দিন খানের ইন্তিকালে দেশব্যাপী শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমসহ দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেম, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
শীর্ষ উলামায়ে কেরাম : দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম প্রবীণ আলেম ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন : জাতি ইসলামের একজন একনিষ্ঠ খাদেম হারালো। আল¬াহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতবাসী করুন, তাঁর সকল নেক আমল কবুল করুন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। নেতৃবৃন্দ তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আল¬াহ তালায়া তাদেরকে ধৈর্য্য ধারণ করার তৌফিক দেন।
ইসলামী ঐক্যজোটের আমীর মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত আন্দোলনের প্রধান আমীরে শরীয়ত হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হজুর, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, শাহতলীর পীর মাওলানা আবুল বাসার, ফরায়েজী আন্দোলনের আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ মোঃ হাসান, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমীর মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকি, মীরের সরাইর পীর সাহেব মাওলানা আঃ মোমেন নাছেরী, টেকের হাটের পীর সাহেব মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুফতি মাওলনা আবদুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, মাওলানা সালেহ সিদ্দীকি, আইম্মাহ পরিষদের মহাসচিব মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা হাফেজ আবুল হোসাইন, মুফতি মাওলানা নাসির উদ্দীন খান, শাহ এমদাদুল্লাহ পীর সাহেব, খাজা শাহ ওয়ালিউল্লাহ পীর সাহেব গাছতলা, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের আমির আধ্যাত্মিক গুরু শাইখ নুরুল হুদা ফয়েজী, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের জেনারেল সেক্রেটারি আল্লামা মুস্তাক ফয়েজী, ইসলামী ঐক্য মঞ্চ সভপতি মাওলানা ইদ্রিস হোসাইন, সেক্রেটারি আবদুস সাত্তার, খাদেমুল ইসলাম জামাত আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ, সেক্রেটারি মাওলানা সারওয়ার হোসাইন, জাতীয় খতীব পরিষদের আমীর মুফতি মাওলানা মাউদুর রহমান, হুফ্ফাজ পরিষদ সভাপিত হাফেজ লেয়াকত হোসাইন ও সেক্রেটারি মুফতি মাহবুবুর রহমান, ইসলামী অন লাইন এ্যাক্টিভিটস সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা আবদুস সামাদ ও মহাসচিব মুফতি আবু আনাস, সম্মিলিত ইসলামিক জোটের আমির মাওলানা আবদুল বাকি, সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মনিরুজ্জামান, জাতীয় ইমাম সোসাইটির মহাসচিব মুফতি জোবায়ের আহমদ কাসেমী, প্রফেসর মাওলানা মুফতি ইসহাক মাদানী, হাফেজ মুফতি মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ শফিকল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ ইখলাস উদ্দিন, মাওলানা আবু হানিফ নেছারী, মুফতি মাওলানা নাসির উদ্দীন খান, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, হাফেজ ফারুক হোসাইন, তালিমুল কুরআন সোসাইটি মুফতি আবদুল হালিম, মহাসচিব মাওলানা সিজরাজুল ইসলাম, আল কুরআন ফাউন্ডেশন সভাপতি মুফতি জামাল উদ্দীন ও সেক্রেটারি মুফতি ইসহাক, তাহরীকে খতমে নবুয্যাতের আমীর মুফতি ড. সৈয়দ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, মহাসচিব পীর মাওলানা শরীফ হোসাইন, জাতীয় ফতোয়া বোর্ডের সভাপতি- মুফতি মাওলানা ইহইয়ার রহমান, জমিয়াতে উলামা দেওবন্দ পরিষদের সভাপতি হযরত মাওলানা মুহাদ্দেস আবদুল্লাহ কাসেমী ও সেক্রেটারি হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী প্রফেসর মাওলানা মুফতি ইসহাক মাদানী, মাওলানা এহতেশামুল হক, নাস্তিক-মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল ক্দ্দুুস আল কাসেমী, মহাসচিব শাইখ আব্দুল কাউয়ূম আযহারী, জাতীয় তাফসীর পরিষদ সভাপতি মাওলানা আব্দুল আখির ও মহাসচিব মাওলানা আবু দাউদ যাকারিয়া, ইসলাহুল মুসলিলিমিন সভাপতি মুফতি আবুল বাশার, মহাসচিব মুহাদ্দিস হাসানুল ইমাম প্রমুখ।
বাংলাদেশ মসজিদ মিশন : গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন ও জেনারেল সেক্রেটারি ড. মাওলানা খলিলুর রহমান আল-মাদানী। নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, জাতি ইসলামের একজন একনিষ্ঠ খাদেম হারালো। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতবাসী করুন তাঁর সকল নেক আমল কবুল করুন, জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। নেতৃবৃন্দ তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আল্লাহ তালায়া তাদেরকে ধৈর্য্য ধারণ করার তৌফিক দেন।
মুফতি ওয়াক্কাসের শোক : জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর নির্বাহী সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, মাওলানা খান ছিলেন ইসলাম-মুসলমান, দেশ ও মাটির অতন্দ্রপ্রহরী। তিনি আমৃত্যু মানবতার যে খেদমত করে গেছেন তা চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাখবে। তার মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহর যে শূণ্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা পুরণ হবার নয়। মুফতি ওয়াক্কাস মাওলানা খানের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
খেলাফত আন্দোলন : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবং ঢাকা মহাগনর আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী এবং ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু তাহের বাংলাদেশে প্রবীণ আলেমে দ্বীন, বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও প্রথিতযশা সাহিত্যিক মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ছিলেন জাতির জন্য একজন অকৃত্রিম অভিভাবক। রাজনীতি ও সাহিত্যের ময়দানের তিনি অসামান্য অবদান রেখেগেছেন।
ইসলামী ছাত্রশিবির : ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, তার ইন্তেকালে জাতি এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারালো। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দেশে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রসার, আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করণ ও ইসলামী বিরোধী সকল কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্কলার ও ভিজিটিং প্রফেসর। তার হাত ধরে দেশের অসংখ্য মেধাবী ছাত্র বিশ্বের সর্বোচ্চ এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নে সুযোগ পেয়েছে। ইসলাম, স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় তার ক্ষুরধার লেখনি ও আলোচনা ছিল জাতির জন্য দিকনির্দেশনা। তার প্রতিষ্ঠিত মাসিক মদীনা পত্রিকা ও মদীনা পাবলিকেশন্স মুসলিম উম্মাহর জন্য এক পথপ্রদর্শক। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার ভূমিকা ছিলো অত্যান্ত বলিষ্ঠ। নদী আগ্রাসন প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে তিনি ভারতীয় নদী আগ্রাসন ও টিপাইমূখ বাঁধের বিরোদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন। দেশ ও জনগণের জন্য তার গৌরব উজ্জ্বল ভূমিকা জাতি চিরকাল মনে রাখবে। তার ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। দেশের এই সংকট কালে তাঁর মত একজন প্রবীণ আলেমে দ্বীনের ইন্তেকালে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
ফেনী ফোরাম ঢাকা : শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন ফেনী ফোরাম ঢাকার সহ-সভাপতি এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আজিবুর রহমান মঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম মজুমদার ও প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর ইকবাল। শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ