ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ফের গ্যাসের দাম বৃদ্ধির গণশুনানি আজ

অনলাইন ডেস্ক: এগারো মাসের মাথায় ফের গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আজ রোববার (০৭ আগস্ট) থেকে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এ বিষয়ে গণশুনানি।

গ্রাহকভেদে ১০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে কোম্পানিগুলো। বর্তমানে এক চুলার মাসিক বিল ৬০০ টাকা এবং দুই চুলা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে যথাক্রমে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে কোম্পানিগুলো।

আজ রোববার প্রথম দিনে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির সঞ্চালন মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে শুনাননি হবে। সরকারি এই কোম্পানিটি প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সঞ্চালন বাবদ বর্তমান কমিশন দশমিক ১৫৬৫ থেকে বৃদ্ধি করে দশমিক ৪২১৩ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

এই শুনানি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য আহ্বান করা হলেও এর মাধ্যমে দামবৃদ্ধির আইনি প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত করা হবে বলে জ্বালানি বিভাগ ও বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে।

যদিও কোম্পানিটি অনেক আগে থেকেই অনেক মুনাফা করে আসছে। গত বছরে প্রফিট বোনাস বাবদ সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বোনাস প্রদানের খবর পাওয়া গেছে। তারপরও এই দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের কোনো যৌক্তিকতা দেখছে না ভোক্তাদের সংগঠন ক্যাব।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিপরীতে আপত্তি-উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ী সংগঠন ও নাগরিক প্রতিনিধিরা। দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে আজ বিইআরসি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৬০ পয়সা এবং শিল্পে বয়লারে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৫৮ টাকা, গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের দাম ৭ টাকা থেকে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, গ্যাসের আপস্ট্রিম খরচ, সঞ্চালন ভাড়া এবং ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে গত ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল সময়ের মধ্যে আবেদন করে ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। একই সময়ে ৩০ মার্চ গ্যাসের ট্রান্সমিশন চার্জ পুনর্নির্ধারণের জন্যও আবেদন করে জিটিসিএল। প্রস্তাব যাছাই বাছাই শেষে গত ১৩ জুলাই এই বিষয়ে গণ-শুনানির দিন ধার্য করে কমিশন। আজ জিটিসিএল’র প্রস্তাব নিয়ে শুনানির পর আগামীকাল ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যহার নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে। ১০ আগস্ট পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, ১১ তারিখ বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ১৪ আগস্ট কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ১৬ আগস্ট জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্টিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, ১৭ আগস্ট সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি এবং ১৮ তারিখ গ্যাসের বাল্ক মূল্যহার নিয়ে পেট্রোবাংলা, বিজিএফসিএল, এসজিএফএল ও বাপেক্সের আবেদনের ওপর শুনানির কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিইআরসির পরিচালক (গ্যাস) এ কে এম মনোয়ার হোসেন আখন্দ বলেন, শুনানির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুনানি শেষে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে গ্যাসের মূল্যহার বিষয়ে কমিশন ঘোষণা দিবে।

এর আগে গত বছর আগস্টে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল, যা গত সেপ্টেম্বর কার্যকর হয়।

এদিকে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে গ্যাসের দাম না বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আসছে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন। নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে শিল্প বিনিয়োগ মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। অপর দিকে নতুন করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ও নিত্য পণ্যের বাজারে নৈরাজ্য দেখা দিবে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ