ঢাকা, শুক্রবার 2 September 2016 ১৮ ভাদ্র ১৪২৩, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

আজ থেকে সিলেট-ঢাকা রোডে ‘লাল-সবুজের’ নতুন ট্রেন

কবির আহমদ, সিলেট থেকে ঃ অবহেলিত নিষ্পেষিত রেল বিভাগে একটি রোডের নাম সিলেট-ঢাকা রোড। মান্দাতার আমলের কোচ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে সরকারের প্রভাবশালী ৩ মন্ত্রীর সিলেট-ঢাকা রোডের ট্রেনগুলো। নিরাপদ, আরামদায়ক ও ঝুঁকিমুক্ত যাত্রায় এক সময় ট্রেন যাতায়াত ছিলো বেশ জনপ্রিয়। সিডিউল বিপর্যয় ঘটতে থাকায় ট্রেন যাত্রা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রোডের যাত্রীরা। দেরীতে হলেও সিলেটবাসী সেই স্বপ্ন অবশেষে পুরন হলো। আজ শুক্রবার থেকে প্রবাসী অধ্যুষিত আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট-ঢাকা রোডে ‘লাল-সবুজের’ নতুন ট্রেনের যাত্রা শুরু হলো।  আর ১০ দিন পর মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহায় সিলেটবাসী উপহার পাচ্ছেন নতুন ট্রেন। কালনি এক্সপ্রেসের পর এবার সিলেট-ঢাকা রোডে চালু হচ্ছে নতুন কোচ পারাবত এক্সপ্রেস। সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনে এবং প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক জনসাধারনের যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের দাবী ছিলো নতুন ট্রেন সংযোজন করার। দেরিতে হলেও সিলেটবাসীর সেই স্বপ্ন পুরন হতে চলেছে। আজ শুক্রবার সকাল ৬-৪০ মিনিটে ঢাকাস্থ কমলাপুর স্টেশন থেকে ‘লাল-সবুজের’ ৪টি বগি সংযোগকৃত পারাবত এক্সপ্রেস ছেড়ে আসবে হযরত শাহজালালের পুণ্যভূমি সিলেটে ভিভিআইপি রেলওয়ে স্টেশন। আবার ঐদিন বিকেল ৩টা থেকেই যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রথম যাত্রা শুরু করবে পারাবত। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার আতাউর রহমান দৈনিক সংগ্রামকে জানান, লাল-সবুজ রংয়ের ১৬টি কোচ এর সংযোজনে এই ট্রেনের কোচগুলোর মধ্যে রয়েছে ২টি এসি স্লিপার কোচ, ২টি এসি চেয়ার, ১টি প্রথম শ্রেণী, ৮টি শোভন এবং ২টি ডায়নিং কার। সূত্র জানায়, ২টি এসি স্লিপারে আসন রয়েছে ৬৬টি, ২টি এসি চেয়ার কোচে আসন ১১০টি, প্রথম শ্রেণীর একটি কোচে আসন ৩৩টি, ৮টি শোভন চেয়ার কোচে আসন সংখ্যা ৪৮০টি, ২টি ডায়নিং কারে আসন সংখ্যা ৩০টি। সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা ৭১৯টি। খোজ নিয়ে জান যায়, সিলেট ঢাকা রোডে এই প্রথম সর্বোচ্চ কোচ এবং সব চেয়ে বেশি এসি সংযুক্ত চেয়ার নিয়ে চলাচল করবে নতুন লাল-সবুজের এই পারাবত। সিলেট রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার কাজী শহীদুল ইসলাম জানান, লাল সবুজের এই ট্রেনের প্রথম যাত্রা উপলক্ষে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালের মার্চে ঢাকা-সিলেট রুটে পারাবত যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৯৯৫-৯৬ সালে ইরানি কোচ আসার পর একসঙ্গে পারাবত এক্সপ্রেস ও সূবর্ণ এক্সপ্রেসে এয়ারব্রেক ইরানি কোচ সংযুক্ত করা হয়। ২০১১ সালের নভেম্বরে ইরানি কোচ খুলে নিয়ে ভ্যাকুয়াম কোচ সংযোজন করা হয় পারাবতে। এরপর থেকে ট্রেনটি যাত্রী সেবায় পিছিয়ে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত এসএমআর আতাউর রহমান আরো জানান, জনগনের চাহিদার প্রতিফলন যেভাবে ঘটে আমরা সেই চেষ্টা করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ