ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জিকা: সিঙ্গাপুরে আরও ৯ বাংলাদেশি আক্রান্ত

অনলাইন ডেস্ক:

সিঙ্গাপুরে কর্মরত ১০ বাংলাদেশি জিকায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবরের প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে জিকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, আক্রান্তদের সবার ক্ষেত্রেই রোগের লক্ষণ দেখা গেছে মৃদু‌ মাত্রায়। তারা হয় ইতোমধ্যে সেরে উঠেছেন, নয়ত সেরে উঠছেন। 

“আক্রান্তরা দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাই কমিশন দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে ১০ বাংলাদেশি রয়েছে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে কর্তৃপক্ষ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কারও নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।

এরপর এক নির্দেশনায় জিকা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাসে ‘যথাযথ সতর্কমূলক’ পদক্ষেপ নিয়ে চলাচল করতে সব বাংলাদেশির প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ হাই কমিশন।

মশাবাহিত রোগ জিকার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে মাইক্রোসেফালির, যাতে গর্ভবতী নারীরা আক্রান্ত হলে তাদের গর্ভজাত সন্তান ছোট ও অপরিণত মাথা নিয়ে জন্ম নেয়।

গত বছর ব্রাজিল ও আশেপাশের দেশগুলোতে জিকার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর এ বছর ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জিকার কারণে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।

এর তিন মাসের মাথায় সিঙ্গাপুরে প্রথম জিকা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী করা শনাক্ত হয়। ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ব্রাজিল ভ্রমণে গিয়ে ভাইরাসে আক্রান্ত হন।

গত অগাস্টে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক মালয়েশীয় নারীর সিঙ্গাপুরে এসে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ পর্যন্ত তারা ১১৫ জনের শরীরে জিকা ভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আসা নির্মাণ শ্রমিক। আক্রান্ত সবাই সিঙ্গাপুরের একই অঞ্চলের বাসিন্দা বা একই এলাকায় কাজ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল বলছে, সিঙ্গাপুরের জিকা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় শহরটিকে তারা গর্ভবতী নারীদের জন্যব ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় যুক্ত করেছে।খবর রয়টার্সের।

জিকার লক্ষণ

  • প্রতি পাঁচজন রোগীর মধ্যে একজনের মধ্যে হালকা জ্বর, চোখে লাল হওয়া বা কালশিটে দাগ পড়া, মাথা ব্যথা, হাড়ের গিঁটে ব্যথা ও চর্মরোগের লক্ষণ দেখা যায়।
  • বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি গিলিয়ান-ব্যারি সিনড্রোমেও ভুগতে পারেন; এর ফলে সাময়িক পক্ষাঘাত কিংবা ‘নার্ভাস সিস্টেম ডিজঅর্ডারের’ মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
  • গর্ভবতী মা মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, মস্তিষ্কের গঠন থাকতে পারে অপূর্ণ। এ রোগকে বলে মাইক্রোসেফালি।
  • এ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম ও বেশি করে তরল খাবার খেতে পরামর্শ দেয়া হয়।

১৯৪৭ সালে উগান্ডায় প্রথম জিকা ভাইরাস ধরা পড়ে। এতে সচরাচর মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায় না। তবে এর লক্ষণও সবসময় স্পষ্ট থাকে না।

তবে কোনও গর্ভবতী নারী জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার গর্ভের শিশু ‘ছোট মাথা’ নিয়ে জন্মাতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় শিশুদের এই অবস্থাকে মাইক্রোসেফালি বলে।

মাতৃগর্ভে থাকার সময়  মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শিশুর মস্তিষ্কের গঠন সম্পূর্ণরূপে হয় না। ফলে ওই সব শিশু বুদ্ধিপ্রতিবন্দী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এমন কি জন্মের পরপর  তার মৃত্যুও হতে পারে।

জিকা ভাইরাস ছোঁয়াচে নয়। তবে যৌন সংসর্গের মাধ্যমে জিকা সংক্রমণের কয়েকটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে ধরা পড়েছে।

গত মার্চে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রামের এক ব্যক্তির রক্তের পুরনো নমুনায় জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পেয়েছে জাতীয় রোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইইডিসিআর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে জিকা নিয়ে এখনই শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ ঘটেনি। তবে এ ভাইরাস ঠেকাতে হলে মশা নিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে।

মশা নিয়ন্ত্রণের কাজটি করতে হবে প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে; কারণ এডিস মশা ঘরের মধ্যে ফুলদানি বা পাত্রে জমানো পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ