ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

সিরিয়ায় তুর্কি বিমান হামলায় ২০ আইএস জঙ্গি নিহত

১১ সেপ্টেম্বর, বিবিসি/রয়টার্স/ এনটিভি : তুরস্কের বিমান হামলায় সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর ২০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। শনিবার সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে এ হামলা চালানো হয়। গত রোববার তুর্কি সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন তুর্কি।
খবরে বলা হয়েছে, তিনটি ভবন, একটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। তেল এল-হাওয়া শহরে এ হামলায় ২০ আইএস জঙ্গি নিহত হয়।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছে, পৃথক এক বিবৃতিতে সেনা প্রধান বলেছেন, অপারেশন ইউফ্রেতাস শিল্ড অব্যাহত থাকবে। সিরিয়ায় আইএস ও কুন্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দুই সপ্তাহ আগে থেকে এ সামরিক অভিযান শুরু করে তুরস্ক।
এদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, অস্ত্রবিরতি বিষয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইদলিবের একটি বিপনিকেন্দ্রে ৬০ জন ও আলেপ্পোতে ৪৫ জন নিহত হয়েছেন বলে বিদ্রোহীরা জানিয়েছে।
সিরিয়ায় সহিংসতা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া গত শনিবার ১০ দিনের অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়। আজ সোমবার থেকে এ অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা। তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চুক্তিকে স্বাগত জানালেও অনেক কিছু করা বাকি আছে বলে সতর্কতার কথা জানিয়েছে।তবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এ চুক্তি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আসাদ এ চুক্তিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
শান্তিচুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে সিরীয় বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীদের একটি সংগঠন নৌর আল-দিন আল জিনকি ব্রিগেডের সামরিক মুখপাত্র ক্যাপ্টেন আব্দুল সালাম আব্দুল রাজাক বলেন, আলেপ্পোর দক্ষিণাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই কমে আসছে কিন্তু আমিরিয়াহ অঞ্চলে লড়াই বাড়ছে।
শনিবার কয়েক বছর ধরে সিরিয়ায় চলে আসা সহিংসতা বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া একমত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর জেনেভায় এ দুটি পক্ষ একমত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এ ঐক্যমতে পৌঁছানোর পর এক ঘোষণা দেওয়া হয়। সে ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সূর্যাস্তের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং সিরিয়ার সরকারি বাহিনী হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে। এ ছাড়া আইএস ও আল-নুসরা ফ্রন্ট প্রতিরোধে যৌথভাবে সেন্টার স্থাপন করবে। সেই সঙ্গে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কোনও ধরনের হামলা চালাবে না।শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে আলোচনার পর এ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়।আলোচনার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সিরিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, আশা করি, সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেশটি এই ঐকমত্য মনে চলবে।অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, সিরিয়ার সরকারকে এ ঐকমত্যের বিষয়ে জানানো হয়েছে। সিরিয়ার সরকার এ ঐকমত্য মেনে চলতে প্রস্তুত রয়েছে।সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীত ধর্মী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তবে আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়াও আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রক্সি যুদ্ধে মেতে ওঠেছে বলে অনেকেই মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ