ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

টঙ্গীতে নিহতের সংখ্যা ২৯

গাজীপুর থেকে মো. রেজাউল বারী বাবুল : শিল্প নগরী টঙ্গী বিসিকের ট্যাম্পাকো ফয়লস কারখনার আগুন দুদিনেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি দমকল বাহিনী। তবে দমকল বাহিনীর তৎপরতায় আগুন বাহিরে ছড়াতে পারেনি। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারখানার ভেতরে আগুন জ্বলছিল। জ্বলন্ত আগুন, ক্ষতিকর ক্যামিকেল ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে গতকাল পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা কারখানার অভ্যন্তরে ঢুকতে পারেনি। কারখানার ভেতর থেকে লাশের দুর্গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। বিসিকের প্রধান সড়ক থেকে ভবনের ধ্বংসাবশেষ অপসারণ না করায় ওই সড়কও বন্ধ রয়েছে। সেখানে ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকেও লাশের গন্ধ বের হচ্ছে। ওই রাস্তায় ভবনের নিচে পথচারীরা চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
ট্যাম্পাকে নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে কারখানার আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে রোববার বিকেল পর্যন্ত নিখোঁজ ১১ জনের নাম তালিকাভূক্ত হয়েছে। রোববার বিকেলে ধ্বংস স্তূপ থেকে আরও ৪ জনের আগুনে ঝলসে যাওয়া মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে । এ নিয়ে মোট লাশের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তার পরিদর্শনকালেও কারখানার ভেতরে আগুন জ্বলছিল। মন্ত্রী আমির হোসেন আমু  এ সময় বলেন, ‘টঙ্গীর ট্যাম্পাকো কারখানায় অগ্নিকা-ের ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত, শোকাহত। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই এ ব্যাপারে শোক প্রকাশ করেছেন। হতাহতের পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে আমরা দেখব এ ঘটনা কেন ঘটল। টঙ্গীর ট্যাম্পাকো কারখানায় অগ্নিকা-ের ঘটনায় যাদের গাফিলতি থাকবে, তারা যে প্রতিষ্ঠান বা যে সংস্থার হোক না কেন শাস্তি পাবেই।’
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার মাধ্যমে যে এতগুলো প্রাণ গেল এজন্য আমরা খুবই দুঃখিত। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে নির্দেশ দিয়েছি সব শিল্প নগরীতে এধরনের তদন্ত করার। দেখা হোক কোথাও কোনো লিকেজ ও বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট আছে কি না? বয়লার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা? মেয়াদ উত্তীর্ণ কোনো বয়লার চালু আছে কিনা? এসময় নিখোঁজদের আত্মীয়স্বজন মন্ত্রীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ধ্বংস্তূপ সরানোর পর তালিকা করে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে। এ ব্যাপারে বর্তমান সরকার নিহতদের আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের সকল প্রকার চিকিৎসা সেবা দেবে। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল, শিল্প মন্ত্রণালয় সিনিয়র সচিব মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, বিসিক শিল্পনগরীর চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী, গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোলায়মান, সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন, শিল্প পুলিশের সুপার শোয়েব আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানার আগুন ২৮ ঘণ্টা পর রোববার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো কারখানার ভবনের ভগ্নাংশের নিচতলা থেকে এবং ৪ ও ৫ তলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পানি দিয়ে ধোঁয়া নিভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, পাঁচতলা ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে ফায়ার সার্ভিস ঢাকা বিভাগীয় ডিডি মো. মোজাম্মেল হক জানান। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জহিরুল আমিন মিয়া রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরোপুরি নিভে গেলে ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল মোশারফ হোসেন বলেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে। ভবনের ভাঙ্গা অংশের কারণে পানি সব স্থানে পৌঁছানো যাচ্ছে না। যেখানে পুনরায় আগুন বা ধোঁয়া উঠছে সেখানেই আমরা পুনরায় পানি দিচ্ছি। দমকল বাহিনীর কোন ইউনিটকেই প্রত্যাহার করা হয়নি। ২৫টি ইউনিটই কাজ করছে। ১০টি পাম্পের সাহায্যে সার্বক্ষণিক পানি ছিটানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে পানি আনতে আনতে একটি পুকুর শুকিয়ে গেছে। আরেকটি পুকুরে পাম্প বসানো হয়েছে। কারখানার ৩টি ভবনই একসাথে ধসে পড়ায় এবং সর্বত্রই কেমিকেলের ছড়াছড়ির কারণে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হচ্ছে। তবে আশপাশের ভবনগুলোকে রক্ষা করতে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। যে কোন মুহূর্তে ভবন দেবে যেতে পারে বা কেমিকেলের কারণে আরো বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ফলে আমরা সাবধানে পদক্ষেপ নিচ্ছি।
তিনি আরো জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের পাশাপাশি দুটি হাইরাইজ ভেহিকল রয়েছে, যার একটি বীমা ইউনিট ও অন্যটি স্নোকেল। তিনটি লাইটিং ইউনিটও কাজ করছে। কারখানার চারটি ভবনেই আগুন লেগেছিল। এর মধ্যে তিনটির আগুন আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। পাঁচতলার একটি ভবনের আগুন আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, যখন আগুন কম ছিল তখন আমরা দেখেছি, ভেতরে অনেক কাগজ, রোল মজুদ ছিল। কিছু ফয়েলও আছে। যা দাহ্য পদার্থ থেকে বার বার জ্বলে উঠছে। ইতোমধ্যে বুয়েটের দুজন ইঞ্জিনিয়ার, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ার ও রাজউকের ইঞ্জিনিয়াররা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাদের সবার সমন্বয়ে একটি টিম তৈরি করা হয়েছে। তাদের পরামর্শে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ওই টিমেরও অভিমত হলো, পাঁচতলা ভবনও যেকোনো সময় ধসে যেতে পারে। তাই ফায়ার সার্ভিসের টিম যেন নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়। পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে পরামর্শ দেব যেন তারা নিরাপদ জায়গায় অবস্থান নেয়।
তিনি জানান, বিভিন্ন কারখানায় অ্যামোনিয়াম জাতীয় গ্যাস সংরক্ষণ করে রাখা হয়। কিন্তু এখানে এ ধরনের গ্যাস আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। তবে এখানে এমন কিছু কেমিকেল ছিল যা বিস্ফোরণে সহায়তা করে।
এদিকে রোববার সকাল ১১টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দলে দলে ভাগ হয়ে পুরো ট্যাম্পাকো কারখানার চারদিক থেকে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যান। তাদের সাথে দমকল বাহিনীর কমিউনিটি ভলানটিয়াররাও কাজ করছেন। কমিউনিটি ভলানটিয়ারদের দলনেতা আব্দুর রহিম কালা জানান, শনিবার ১৬০ জন ও রোববার ৫০ জন ভলানটিয়ার আগুন নেভানোর কাজে দমকল বাহিনীর সদস্যদেরক সহায়তা করেছে।
এদিকে কারখানার একপাশের অংশ এরই মধ্যে হেলে পড়েছে। তবে হেলে পড়া ভবনের ভেতর থেকে এখনও কালো ধোঁয়া বের হয়ে আসছে। কারখানার ভবনের অপর পাশের দক্ষিণ অংশজুড়ে এখনও জ্বলছে আগুন।
টঙ্গী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান. এ অগ্নিকা-ে এখন পর্যন্ত ২৮জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ২৪ জনের টঙ্গী থানা পুলিশ ও বাকিদের ডিএমপির শাহভাগ থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
এদিকে আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত বারিধারা ইউনিটের এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী রেজওয়ান হোসেন জানান, তাদের পুরো ইউনিট শনিবার সকাল থেকে আগুন নেভানোর কাজ করছে। এখনও মোট ২৫টি ইউনিট কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভবনের মধ্যে প্রচুর কেমিক্যাল পদার্থ থাকার কারণে আগুন ক্রমশ জ্বলে উঠছে।
তিনি বলেন, আশপাশের প্রায় সবক’টি পুকুরের পানি শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাইরে থেকে পানি এনে তাদের কাজ করতে হচ্ছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। আর কারখানাটির চারপাশে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে রাস্তার ওপর হেলে পড়া ভবনের অংশ থাকার কারণেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভালোভাবে কাজ করতে পারছেন না। তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন, যত দ্রুত সম্ভব আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার।
নিখোঁজ শ্রমিকদের তালিকা : ট্যাম্পাকো দুর্ঘটনায় ১১ জন নিখোঁজ শ্রমিক-কর্মচারীর একটি তালিকা করেছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। কারখানাটির উত্তর পাশে সাহারা মার্কেট মোড়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম দায়িত্ব পালন করছেন। শনিবার সকালে ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা-ের পর হতাহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল মর্গের হিসাবে এ পর্যন্ত ২৮ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কারখানার ভেতর থেকে কাউকে এখনও বের করা সম্ভব হয়নি। তাই সেখানে আরও মৃতদেহ রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম বলেন, কারখানার নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা কন্ট্রোল রুমে এসে তাদের পরিচয়পত্র, ছবি ও নাম দিয়ে তালিকাভুক্ত করছে। সে অনুযায়ী নিখোঁজদের তালিকা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রোববার পর্যন্ত ২৮ জন নিহত এবং ১১ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে কন্ট্রোল রুম সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নিখোঁজ শ্রমিকের তালিকায় রয়েছেন-মাগুরা সদরের চনপুর ইডারন গ্রামের আব্দুল মালেক মোল্ল¬ার ছেলে আজিম উদ্দিন (৩৬), টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের উকুলকি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলাম (৩৭), টঙ্গীর  হিমারদিঘী আমতলী বস্তির হরিজন কলোনির দিলীপ ডোমের ছেলে শ্রী রাজেশ বাবু (২২), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের শিবপুর গ্রামের মো. আবু তাহেরের ছেলে রিয়াদ হোসেন মুরাদ (৩২), সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের ঝিগারবাড়িয়া গ্রামের মমতাজ আলীর ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন (৪৫), একই এলাকার সুলতান গাজীর ছেলে মো. আনিছুর রহমান (৩০), কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের মেছেরা গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), চাঁদপুরের কচুয়ার তেগরিয়া গ্রামের ইউনুস পাটোয়ারীর ছেলে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী (৪৫) ও কুমিল¬ার মুরাদনগরের টনকী গ্রামের মো. তোফায়েল হোসেনের ছেলে মাসুম আহমেদ (৩০), ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি থানার বাহির নগর গ্রামের মোজাম মোল্লার ছেলে চুন্নু মোল্লা (২২) ও মাগুরা জেলা সদরের ছনপুর গ্রামের আব্দুল মালেক মোল্লার ছেলে আজিম উদ্দিন (৩৫)। কন্ট্রোল রুমে নিখোঁজদের খোঁজ নিতে এসে ছবি হাতে স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।
হাসপাতালের ছুটি বাতিল : এদিকে আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও গাজীপুরের সব সরকারি চিকিৎসকের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. নাজিব আহম্মেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গাজীপুরে কারখানায় দুর্ঘটনায় হতাহতদের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন তিনি। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলেছেন।
বয়লার অক্ষত ঃ বয়লার বিস্ফোরণে নয়, গ্যাস লাইন লিক হয়ে ট্যাম্পাকো কারখানায় অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বয়লার পরিদর্শক ইঞ্জিনিয়ার শরাফত আলী। শনিবার টাম্পাকো কারখানা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ট্যাম্পাকো কারখানায় দুটি বয়লার রয়েছে। এগুলো আগামী ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত নবায়ন করা আছে।
তিনি বলেন, আমরা বয়লার রুম পরিদর্শন করে দেখেছি, অগ্নিকা-ের পরও কারখানার দুটি বয়লার অক্ষত আছে। তাই বয়লার বিস্ফোরণে নয়, গ্যাস লিকেজ থেকে এ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে।
কারখানার বয়লার অপারেটর ইনচার্জ ইমাম উদ্দিন বলেন, কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের কোনো সম্ভাবনাই নেই। আমরা বয়লার রুমে গিয়ে দেখেছি বয়লার দুটি এখনও অক্ষত আছে। তবে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে কারখানায় গ্যাস লাইনে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছিল। সে কারণে হয়তো অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্যাম্পাকো কারখানায় মোট ৪টি বয়লার ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির এ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দাবি করছেন দুটি ও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ওই কারখানায় দুটি বয়লারের অনুমোদন রয়েছে।
এদিকে, কারখানায় সরকারিভাবে গ্যাস ব্যবহারের অনুমোদন ছিল ১০ পিএসআই। কারখানার বয়লার এবং জেনারেটর গ্যাসের সাহায্যে চলতো। এ দুর্ঘটনার পর থেকে কারখানার আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।
ট্যাম্পাকো কারখানার ধ্বংসস্তুপ অপসারণ কার্যক্রম শুরু : রোববার বিকেল ৪টার পর থেকে ধসে পড়া টাম্পাকো কারখানা ভবন অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানান গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস.এম আলম। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের দুই শতাধিক কর্মী ধসে পড়া কারখানা ভবনের ডামপিং কাজ শুরু করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ