ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

আজিমপুরে নিহত ‘জঙ্গির’ পরিচয় মিলেছে ডাক্তার বলছেন ‘আত্মহত্যা’

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর আজিমপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন জঙ্গির প্রকৃত নাম শমসেদ হোসেন। তাঁর সাংগঠনিক নাম আবদুল করিম। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা গতকাল রোববার এমনটাই জানিয়েছেন।
এদিকে আজিমপুরে পুলিশি অভিযানের সময় সন্দেহভাজন যে জঙ্গির লাশ পাওয়া গেছে, তিনি গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ধারণা। গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ওই যুবকের লাশের ময়নাতদন্ত হয়।
অপরদিকে নিহত সন্দেহভাজন যুবক ‘জামশেদ’ নামে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আভিযানে আটক তিন নারীর একজন ওই যুবকের স্ত্রী বলেও মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, নিহত জঙ্গির আঙুলের ছাপ নিয়ে তা জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করা ডিএমপির ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির নাম শমসেদ। বাবার নাম মোসলেহ উদ্দীন। বাড়ি রাজশাহীর বোয়ালিয়া উপজেলার মেহেরচন্ডী গ্রামে। তবে শমসেদের ব্যাপারে বোয়ালিয়া থানার পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি।
শনিবার রাতে আজিমপুর এলাকায় একটি বাসায় পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে সন্দেহভাজন এক জঙ্গি নিহত হন। আহত হন তিন নারী এবং পুলিশের পাঁচজন সদস্য। ওই বাসায় দুটি মেয়েশিশু ও একটি ছেলেশিশু ছিল। তাদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে ওই রাতেই পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির সাংগঠনিক নাম আবদুল করিম। গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলাকারী তরুণদের বাসা ভাড়া করে দিয়েছিলেন তিনি। আর আহত তিন নারীর একজন মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত ‘জঙ্গি’ আত্মহত্যা করেছেন : চিকিৎসক
আজিমপুরে পুলিশি অভিযানের সময় সন্দেহভাজন যে জঙ্গির লাশ পাওয়া গেছে, তিনি গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ধারণা। গতকাল রোববার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ওই যুবকের লাশের ময়নাতদন্ত হয়।
ময়নাতদন্তের পর ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, “ওই যুবকের গলার বাঁ পাশে কাটা জখম রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, “সুইসাইড করলে যে ধরনের নমুনা থাকে অর্থাৎ ডান হাতে ছুরি ধরে বাম গলায় আঘাত, এই যুবকের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। এই নমুনা থেকে ধারণা করছি- আত্মহত্যা।”
ওই যুবকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি ছোট ছোট আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যেগুলো ছুরির খোঁচা বলে মনে হয়েছে চিকিৎসকের কাছে। তবে গলার আঘাত থেকে রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে সোহেল মাহমুদের ধারণা। তিনি বলেন, “তার ডান হাতের কাছে ঝলসানো জখমও রয়েছে। বোমা বিস্ফোরণ থেকে ওটা হয়েছে বলে ধারণা করছি।”
অভিযানের পর ওই রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, গুলশান হামলাকারীদের জন্য বসুন্ধরায় ‘আবদুল করিম’ নাম ব্যবহার করে যিনি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন তার ছবির সঙ্গে আজিমপুরে নিহতের চেহারার মিল পাওয়া গেছে।
এরপর গতকাল সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান বলেন, আজিমপুরের ওই বাসা থেকে ১২-১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে তারা উদ্ধার করেছেন। ছেলেটি পুলিশকে জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি তার বাবা, তার নাম জামশেদ, বাড়ি রাজশাহীর বোয়ালিয়ায়।
আর আটক তিন নারীর মধ্যে একজন পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বাকি দুজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই দুইজনও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা।
বাসা ভাড়া নেয়া হয় ‘জামশেদ’ নামে
নিহত সন্দেহভাজন যুবক ‘জামশেদ’ নামে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানে আটক তিন নারীর একজন ওই যুবকের স্ত্রী বলেও মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, “যদ্দুর শুনেছি, ১ আগস্ট তারা বাসা ভাড়া নিয়েছিল। বাসা ভাড়ার কাগজপত্র দেখে এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত বলতে পারবো।”
এর আগে শনিবার রাতে পুলিশ বলেছিল, নিহত যুবক নব্য জেএমবির নেতা।
আব্দুল বাতেন বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, এই তিনজনের মধ্যে একজন জামশেদের স্ত্রী, আরেকজন পলাতক জেএমবি নেতা চকলেটের স্ত্রী। আরেকজন সম্ভবত তাদেরই সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও স্ত্রী।”
‘জামশেদ’ নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য ছিলেন জানিয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, “বাসা ভাড়া করা থেকে শুরু করে ইন্টারনেটে বিভিন্ন চ্যানেল, সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করতো সে। নিজেদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গায় অবহিতও করত।”
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ওই হামলার কিছুদিন আগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে হামলাকারীরা আশ্রয় নিয়েছিল। সেই ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়া হয়েছিল ‘আব্দুল করিম’ নামে। করিম আর জামশেদ একই ব্যক্তি বলে পুলিশের ধারণা।
গত ২৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় ‘নব্য জেএমবির’ শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরী পুলিশের এক অভিযানে নিহত হন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর নিহত হন তামিমের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ জাহিদুল ইসলাম, যিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেয়া একজন মেজর।
পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল হক রাতে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “রূপনগরে অপারেশনের পরে আমরা জানতে পেরেছিলাম, রূপনগরে যে মারা গেছে জাহিদ তার ফ্যামিলি এবং আরো দুই তিনজন জঙ্গি আজিমপুর এলাকায় কোথাও লুকিয়ে আছে। আমরা বেশ কয়েকদিন যাবৎ এটা তল্লাশি করতেছি। আজকে তল্লাশিতে আমরা তাদের আশ্রয় খুঁজে পেয়েছি।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ