ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

রাজনীতিবিদরা কে কোথায় ঈদ করবেন

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা এখন সমাগত। দীর্ঘ এক বছর পর আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে পবিত্র হজ্বের এ মাস। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, চারদিকে চরম অস্থিরতা-আতংক সত্ত্বেও মা-বাবা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়েসহ আপনজনদের সাথে ঈদ করতে ইতোমধ্যেই রাজধানীর অধিকাংশ মানুষ ফিরছেন নিজ নিজ এলাকায়। সাধারণ মানুষের ন্যায় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও ছুটছেন আপনজনের সাথে ঈদ করতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের প্রধান ৪টি বড় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের অধিকাংশই এবার ঢাকার বাইরে ঈদ উদযাপন করবেন। যারা ঢাকায় ঈদ করবেন তারাও নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদের পর শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যাবেন।
এবার বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সৌদি আরবে ঈদ করবেন। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানের পরিবার ও ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন। গেল বছরেও তিনি লন্ডনে ছেলেদের পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদুল আযহা পালন করেছিলেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন পবিত্র হজ্ব পালন করতে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। তিনি এবার সেখানেই ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন। দেশের বাইরে এটিই তার দ্বিতীয় ঈদ। সেখানে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে তারেক রহমান ও ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও নাতনিদের সাথে ঈদ করবেন তিনি। ঈদের দিন সকালে বেগম জিয়া সেখানে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন, সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এছাড়া ঈদের দিন তিনি সেখানকার বিএনপি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ঈদ করবেন। ঈদের দিন সকালে তিনি তার বাসভবন গণভবনে থাকবেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তিনি কূটনৈতিক, রাজনীতিবিদসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এর আগে তিনি ধানমন্ডিতে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও তার রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করবেন। এছাড়া তিনি ধানমন্ডি সুধাসদনে যাবেন। দুই জায়গায় তিনি পরিবারের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
বিএনপি: বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই এবার নিজ নিজ এলাকাতে ঈদ করতে যাবেন। এরই মধ্যে কেউ কেউ এলাকাতে পৌঁছেও গেছেন। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দেশের বাইরে থাকায় নেতারা এবার এলাকাতে ঈদ করবেন। তবে যারা ঢাকায় ঈদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারাও প্রত্যেকেই নামাযের পর নিজ এলাকায় চলে যাওয়ার কথা বললেন। জানা গেছে, এবারের ঈদে বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতাদের যতদূর সম্ভব যার যার নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার নিজ ঠাকুরগাঁও ঈদ করবেন। গত শনিবার তিনি এলাকাতে পৌঁছান। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার নির্বাচনী এলাকা দাউদকান্দিতে, ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ ঢাকায়,  লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান দিনাজপুরে, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার পঞ্চগড়ে, ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা ঢাকায়, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে ঈদ করার কথা জানিয়েছেন। ঈদের নামায শেষে মওদুদ তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীতে যাবেন বলে জানা গেছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আ স ম হান্নান শাহ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।  স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার এমপি কুমিল্লার হোমনায় এবং তরিকুল ইসলাম তার নির্বাচনী এলাকা যশোরে ঈদ করবেন। এছাড়া ভারতে অবস্থানরত দলের স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সেখানেই একাকী ঈদ করবেন।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কারাগারে , যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল হজ্ব পালনে এখন সৌদি আরব রয়েছেন। খায়রুল কবির খোকন নরর্সিদীতে, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নোয়াখালীতে ঈদ করবেন। দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ঈদ করবেন বিএনপির ভাইস চেয়াম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জমান দুদু,  দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন ফারুক নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন বলে জানা গেছে। বরকত উল্লাহ বুলু নোয়াখালীতে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগ : দলের সভানেত্রীর নির্দেশে এবারের ঈদে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা ছুটে যাচ্ছেন এলাকায়। কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক   সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর ঈদ করবেন ঢাকায়। মোহাম্মদ নাসিম ঈদ করবেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে তার নিজ এলাকায়। সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন জানান, তিনি নিজ এলাকা মুন্সিগঞ্জে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদ করবেন। আরেক সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ ঈদ করবেন তার এলাকা ফরিদপুরে। সাহারা খাতুন ঈদ করবেন ঢাকায়। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ঈদ করবেন ঢাকায়। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও সুনামগঞ্জের নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ঈদ করবেন নিজ এলাকা কুষ্টিয়ায়। ডা. দীপু মনি ঈদ করবেন ঢাকায়। জাহাঙ্গীর কবির নানক ঈদ করবেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে তার নির্বাচনী এলাকায়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রায় সবাই ঈদ করছেন নিজ নিজ এলাকায়।
জাতীয় পার্টি : জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ঢাকায় ঈদ করবেন। পরের দিন তিনি রংপুর নিজ এলাকায় যাবেন। দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের ঢাকায় ঈদ শেষে রংপুরে যাবেন। মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ঈদ করবেন ঢাকায়। তবে পরেরদিন তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় যাবেন বলে জানা গেছে। দলের অন্যতম নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চট্টগ্রামের নিজ নির্বাচনী এলাকা হাটহাজারীতে ঈদ করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ঢাকাতেই ঈদ করবেন।
অন্যান্য দল : খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাক পাবনায় তার নিজ গ্রাম মধুপুর মহিলা মাদরাসা ঈদগাহে, মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের ঝিনাইদহে ঈদ করবেন। এছাড়া সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাসউদ খান সিলেট শাহী ঈদগাহে, নায়েবে আমীর মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী মৌলভীবাজারে, মাওলানা মুহাম্মদ ইউছুফ যশোরের মনিরামপুরে ঈদের নামায আদায় করবেন। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যন মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী ঢাকায় ঈদ করবেন। বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মহাসচিব মেজর অব. আবদুল মাম্নান ঢাকায় ঈদ করবেন। এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ ঢাকায় ঈদ শেষে চট্টগ্রামের তার নির্বাচনী এলাকা চন্দনাইশে যাবেন। জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব ঢাকায় ঈদ করবেন। পরের দিন তিনি তার নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুরের রামগতি যাবেন। জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ঢাকায় ঈদ শেষে তার এলাকা দিনাজপুরে যাবেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী  সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই, মুফতী  সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম নিজ গ্রাম বরিশালের ঐতিহাসিক চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন এবং জামাতের পর এলাকার গণ্যমান্য, দলীয় নেতা-কর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা  সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ঢাকা মুগদা পাড়ায় নামায আদায় করবেন। মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ খুলনার রূপসা কেপিএম কেন্দ্রীয় ইদগাহে জামাতে ইমামতি করবেন এবং বিকেলে কেন্দ্রীয় অফিসে সকলের সাথে মতবিনিময় করবেন। ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজার জামে মসজিমে ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন।
কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) মোহাম্মদ ইবরাহীম, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জমান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার ছাইদুল হাসান ইকবাল, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, বিজেপি‘র সালাহউদ্দিন মতিন প্রকাশ, ডিএল‘র সাইফুদ্দিন মনি ও সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ ঢাকায় ঈদ করবেন। খেলাফত আন্দোলন প্রধান ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা শাহ্ আহমাদুল্লাহ আশরাফ ঈদুল আযহার নামায আদায় করবেন রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীর চরে জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ায়। খেলাফত আন্দোলন মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ খান রাজধানী পুরান ঢাকার আমলীগোলা ঈদগাহ্ মাঠে ঈদুল আযহার প্রধান জামাতের ইমামতি করবেন। প্রচার সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীর চরে রহমতিয়া জামে মসজিদে প্রধান জামাতের ইমামতি করবেন। জোট নেতাদের অনেকেই ঢাকায় ঈদ শেষে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারেন বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ