ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিদেশী কূটনীতিকরা সন্তুষ্ট বলে জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদেশী কূটনীতিকরা। সরকার তাদের বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও গাড়িতে সাদা নম্বর প্লেট ব্যবহারের অনুমতি এবং অর্থের বিনিময়ে সশস্ত্র আনসার ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে। গতকাল রোববার বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়ে  বৈঠক করেছি। তারা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সরকার তাদের বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও সাদা নম্বর প্লেট ব্যহার করার অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া আমরা সশস্ত্র আনসার বাহিনী তৈরি করেছি। তারা অর্থের বিনিময়ে আনসারদের ভাড়া করতে পারবেন।
সাদা নম্বর প্লেটের বিষয়ে তিনি বলেন, যদি কোনও কূটনীতিক বিশেষ কোনও নম্বর প্লেট ব্যবহার করতে না চান, তবে তিনি সাদা নম্বর প্লেট ব্যবহার করতে পারবেন। যদি তিনি সাদা নম্বর প্লেট ব্যবহার করেন, তবে তার গাড়িতে ব্যবহৃত বিশেষ নম্বর প্লেটটি রেখে দিতে হবে।
উল্লেখ্য, কূটনীতিকরা বর্তমানে হলুদ নম্বর প্লেট ব্যবহার করে থাকেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন,  অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার বিদেশী দূতাবাসগুলোকে বুলেট প্রুফ গাড়ি, গাড়িতে সাধারণ নম্বর প্লেট ব্যবহারের অনুমতি ও অর্থের বিনিময়ে স্বশস্ত্র আনসার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের কাছে বিদেশী দূতাবাসগুলোর এই তিনটি দাবি ছিল। সরকার সবগুলো দাবি পূরণের ব্যবস্থা নিয়েছে ।
জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকাস্থ প্রতিটি বিদেশী দূতাবাসকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনও দূতাবাস আনসার চাইলে প্রত্যেক আনসারের জন্য প্রতি মাসে ২৫০ ডলার দিতে হবে।
এ দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার আইসল্যান্ড সফর সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম আইসল্যান্ড সফর। তিনি বলেন, আইসল্যান্ড আগ্নেয়গিরি ও গভীর সমুদ্রকে জয় করে সম্পদে পরিণত করেছে। শুধুমাত্র খাদ্য হিসেবে নয়, প্রযুক্তির সহায়তায় মাছের মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে ওষুধ, সীফুড, মাছের চামড়া দিয়ে কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এ থেকে লাভবান হবে।
এ সময় মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, আইসল্যান্ডের কাছ থেকে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরার পরিকল্পনা করছে সরকার যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, অথচ বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ সীমান্তের অনেক ভেতরে ঢুকে প্রতিনিয়ত বিপুলসংখ্যক ভারতীয় ট্রলার এবং কিছু কিছু মিয়ানমারের ট্রলার ইলিশ মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে- এ ব্যাপারে সরকারের কোন পদক্ষেপ আছে কীনা?
এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, আইসল্যান্ডের সাথে তথ্য বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহায়তা লাভ করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের  কোন প্রযুক্তিই বর্তমানে বাংলাদেশের কারো নেই। সাগরে ইলিশ মাছ ধরার যেসব ট্রলার বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরছে, গভীর সমুদ্রের ধারে কাছেও যেতে পারবে না সেগুলো। আর সেই জায়গাতেই আমরা মাছ শিকার করার ব্যাপারে আইসল্যান্ডের সহায়তা চাই।
মন্ত্রী বলেন, এটা সম্ভব হলে গভীর সমুদ্র থেকে আমরা বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ ধরতে পারবো যা আমাদের গোটা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ