ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সৌদিআরবে ঈদ করছেন খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার : এবছর  ছেলে, ছেলের বউ ও নাতনিদের সাথে ঈদ করছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যদিও এই ঈদে আনন্দের সাথে ছেলে হারানোর বেদনাও থাকছে। কারণ  তাকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। যাকে তিনি সবচেয়ে বেশি আদর করতেন। ছেলে হারানোর বেদনা নিয়েই পবিত্র হ্জ¦ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদিআরবে যাওয়া । বড় ছেলে ও ছোট ছেলের পরিবার ও অন্যদের সাথে নিয়ে এবারের ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন পুত্রশোকে কাতর মমতাময়ী মা, গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিদেশে এটি বেগম জিয়ার দ্বিতীয় ঈদ উদযাপন বলে জানা গেছে। এর আগে গতবছর লন্ডনে ছেলের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদুল আযহা পালন করেন খালেদা জিয়া।
২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের অবৈধ সরকারের পর থেকে দীর্ঘ আটটি বছরে ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের ছাড়াই ঈদ উদযাপন করছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ এই নেতা। এর মধ্যে এবারসহ দুইবার ছেলে ও ছেলের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদ করছেন বেগম জিয়া। যদিও এই আট বছরে ছোট ছেলেকে নিয়ে ঈদ করতে পারেননি তিনি। এই দু:সহ যন্ত্রণা তাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।
পরিবারের সদস্যদের ছাড়া ঈদ করলেও সান্ত¦না শুধু এইটুকু যে, ঈদের দিন অসংখ্য নেতাকর্মী ও শুভাকাংখীদের নিয়ে তিনি ঈদ করেছেন। আর যখনই মনে পড়েছে টেলিফোনে ছেলেদের সাথে কথা বলে মনকে সান্ত¡না দিয়েছেন। ঈদের দিন সবার আগে ফজরের নামায শেষে চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকা দুই ছেলের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। কথা বলতেন ছেলের বউ আর নাতনিদের সাথে। এবার আর তাদের ফোন করতে হবে না। আদরের নাতনি, ছেলে আর ছেলের বউদের পাশে নিয়েই ঈদ উদযাপন করবেন। তবে টেলিফোনে দেশে থাকা নেতাকর্মী আর জোটের নেতাকর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাবেন তিনি।
এদিকে মা বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিজের ২০তম ঈদ উদযাপনে কাছে পেয়ে আনন্দিত বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ একবছর পর মাকে কাছে পেয়ে চোখের পানিও ধরে রাখতে পারেন নি। মাকে জড়িয়ে ধরে বারবার আদরের ছোট ভাই কোকোর অনুপস্থিতির জন্য কেঁধেছেন তিনি। মা-ছেলের এই আবেগী দৃশ্য উপস্থিতদেরও নাড়া দিয়েছে। অনেকেই তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। ঈদের দিন মা বেগম খালেদা জিয়ার হাতে খাবার খেতেন তারেক রহমান। তবে এবার হজ্বের আনুষ্ঠানিকতার কারণে সেটি সম্ভব নাও হতে পারে। এছাড়া ঈদের দিন নাতনি জাইমা রহমান, পুত্রবধু ডা. জোবাইদা রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়াকে নিয়ে সময় কাটাবেন তিনি। দাদিকে আবারো ঈদের দিন কাছে পেয়ে আনন্দে মাতোয়ারা তারা। বাবাকে হারানোর যে কষ্ট তা তারা দাদিকে কাছে পেয়ে ভুলতে চায়। ঈদের দিন এই আনন্দ আর বাড়বে।
 দেশে-বিদেশে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভাকাংখীর অভাব নেই। দেশজুড়ে মানুষের অফুরন্ত ভালবাসাও তার জন্য। কিন্তু এতকিছুর পরও ঈদের দিন নিজ সন্তানদের সংস্পর্শ থেকে বঞ্চিত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ দশ বছর বিভিন্ন উৎসব আয়োজনেও পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতনিরা পাশে ছিলনা। সর্বশেষ কোকোর মৃত্যু বেগম খালেদা জিয়ার সেই শূন্যতাকে আর বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঈদের দিন ছেলেদের সাথে কথা বলার যে অভ্যাস তার ছিল এবারো হয়ত সেটি মনে করে তিনি কাঁদতেই থাকবেন। তিনি আর শুনতে পাবেন না কোকোর কথা। এটি তিনি বিশ্বাসও করবেন না। তবে এবারে কোকো ছাড়া সবাইকে নিয়ে ঈদ করার যে আনন্দ তিনি পাবেন তাতে হয় তো কিছুটা কষ্ট লাঘব হবে।
পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতনিদের ছেড়ে বেশ কয়েক বছর অনেকটা নিরানন্দে ঈদ কেটেছে বেগম জিয়ার। এই কয় বছরে তিনি সকালে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তার পর ছোটভাই ও পরিবারের অন্য সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। এরপর স্বামী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। এবার যেহেতু তিনি বিদেশেই ঈদ উদযাপন করছেন তাই তার অবর্তমানে কূটনীতিকসহ বিশিষ্টজনদের সাথে কোনো ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় কর্মসূচি থাকছেনা। তবে বিএনপি ঈদের দিন বিকেল ৪টার দিকে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন বলে জানা গেছে।
ওয়ান ইলেভেনের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন খালেদা জিয়া। ওই সময় তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোও  গ্রেফতার হন। ৩৭২ দিন সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ কারাগারে আটক থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ২০০৭ সালের দুটি ঈদ কারাগারে কেটেছে তার। পরে তারেক রহমান প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। তিনি এখন সেখানেই আছেন। সঙ্গে আছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। আরাফাত রহমান কোকোও প্যারোলে মুক্তি নিয়ে থাইল্যান্ড যান। তার স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানও ছিলেন তার সঙ্গে। ২০১৫ সালের ২৪ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তাই ২০০৭ সালের পর থেকে দুইছেলেকে একসঙ্গে পাশে পাননি বেগম জিয়া। বরং পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতনিদের রেখে ১৯টি ঈদ একাই কাটিয়েছেন তিনি। এবার ২০তম ঈদ তিনি বড় ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে সৌদি আরবে কাটাবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ