ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

দিঘলিয়ায় ভিজিএফ বঞ্চিত ৫২২২ দুঃস্থ!

খুলনা অফিস : ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত চাল খোদ ওই ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেই আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। জব্দ করা হয়েছে ১৫০ বস্তা চাল। একই সঙ্গে গুদামে সীলগালা করে রাখা হয়েছে ৮৯৪ বস্তা চাল। ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি। কিন্তু চাল বিতরণের কোন উদ্যোগ নেই। এ চালের দাবিদার ইউনিয়নের ৫ হাজার ২২২ জন দুঃস্থ ও অসহায় মানুষ হতাশ ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এদিকে, চাল বিতরণের অনুমতি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন ইউনিয়নের অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গাজী জিয়াউর রহমান। এ বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, চেয়ারম্যান কর্তৃক চাল আত্মসাতের খেসারত দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে মামলা হওয়ায় আইনগত জটিলতা এবং বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। যার ফলে জব্দকৃত ১৫০ বস্তা চাল এখনই বিতরণের কোন সুযোগ নেই। তবে সীলগালাকৃত ৮৯৪ বস্তা চাল বিতরণ করা যায় কি-না সেটির ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সেনহাটি ইউনিয়নে ৫২ দশমিক ২২০ মেট্রিক টন (১ হাজার ৪০ বস্তা) চাল ৮ সেপ্টেম্বর দুঃস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণের কথা ছিল। উপজেলা তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মকর্তা (ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার) সমীর বিশ্বাস চালের হিসাব দেখতে চাইলে বিষয়টি ফাঁস হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষ্ণু কুমার সাহা ও উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তা (পিআইও) আনিসুর রহমান গোডাউনে হিসাব করে ১৫০ বস্তা চাল কম পান। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউন সীলগালা করা হয়। বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় তড়িঘড়ি করে বাইরে থেকে চাল এনে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করলে ইউপি ঘাট থেকে পুলিশ ১৫০ বস্তা চাল জব্দ করে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ এনে ওই দিনই মামলা দায়ের করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান। মামলাটি দুর্নীতি বিষয়ক হওয়ায় সেটি তদন্ত করতে দুদকে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান দিঘলিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান।
এদিকে, চাল আত্মসাতের চেষ্টা এবং গোডাউন সীলগালার ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিরা এসেও চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে এ চাল পেলে তাদের কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু বরাদ্দের পরও চাল না পাওয়ায় অসহায়-দুঃস্থ মানুষগুলোর মাঝে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান বলেন, মামলা হওয়ার কারণে চাল বিতরণের বিষয়টি নিয়ে আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ