ঢাকা, সোমবার 12 September 2016 ২৮ ভাদ্র ১৪২৩, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৭ হিজরী
Online Edition

ঈদ যাত্রার সার্বিক অব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে যাত্রী দুর্ভোগ বেড়েছে

চট্টগ্রাম অফিস : ঈদ যাত্রায় চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি, দুর্ভোগ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য সরেজমিন পর্যবেক্ষণে ১১ সেপ্টেম্বর বন্দর নগরী চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত (রঃ) ব্রিজ ও নগরীর এ.কে খান, অলংকার মোড় এলাকা পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতৃবৃন্দ।
পর্যবেক্ষণকালে তারা দেখতে পায়, অলংকার ও এ.কে. খান মোড়ে এস.এম ট্রাভেলস্ চট্টগ্রাম-শাহজাদপুর রুটে, ভাই ভাই স্পেশাল চট্টগ্রাম সিলেট রুটে, মেঘনা পরিবহন চট্টগ্রাম-কুমিল¬া রুটে, প্রান্তিক পরিবহন, মুক্তা পরিবহন, চট্টগ্রাম কোম্পানীগঞ্জ রুটে, এশিয়া লাইন চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে হিমালয় পরিবহন চট্টগ্রাম-নোয়াখালী রুটে, আলমদিনা সার্ভিস, এ.ওয়ান সার্ভিস চট্টগ্রাম-রামগতি-আলেকজান্ডার রুটে, মুনস্টার পরিবহন চট্টগ্রাম-চাটখিল রুটে, এশিয়া লাইন ও সুমন এন্টারপ্রাইজ চট্টগ্রাম-লক্ষীপুর রুটে, যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে স্বাভাবিক সময়ের ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। এছাড়াও পাবনা পরিবহন, শাহফতে আলী পরিবহন, একাত্তর পরিবহন, মেঘলা লাইন, স্টার লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন চট্টগ্রাম-উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন রুটে দ্বিগুণ কোন কোন যাত্রীর কাছ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।
এদিকে শাহ্ আমানত ব্রিজ এলাকা পর্যবেক্ষণকালে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-কেরানীহাট, বরমা-বরকল, চট্টগ্রাম-আনোয়ারা বটতলী, চট্টগ্রাম-পটিয়া, চট্টগ্রাম-বাঁশখালী, চট্টগ্রাম-রৌশনহাট, চট্টগ্রাম-আমিরাবাদ, চট্টগ্রাম-চকরিয়া, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-বান্দরবান, বিভিন্ন রুটে কোন কোন রুটে দ্বিগুণ কোন কোন রুটে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণকালে রাস্তায় কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সার্বিক অব্যবস্থাপনার বিষয়ে অবহিত করা হয়।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী, কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এস.এম নাজের হোসাইন, নিরাপদ নৌ-পথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুলের নেতৃত্বে পর্যবেক্ষণকালে রাস্তার উপর যত্রতত্র পার্কিং, রাস্তার উপর এলোপাতাড়ি গাড়ি রাখা, সড়ক দখল করে যাত্রী উঠানো-নামানো, যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর মত কোন ব্যবস্থা না রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাত্রীবহন, যাত্রী সাধারণের ব্যবহার উপযোগী পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকা, যাত্রী সাধারণের জন্য টার্মিনাল ও বাসস্টপেজ, বাস কাউন্টারে পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকা, যাত্রী ছাউনী দখলে থাকা, যাত্রী ছাউনী না থাকা, ফুটপাতে হাটার পরিবেশ না থাকা, যথাসময়ে বাস না ছাড়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাড়িয়ে অসহনীয় দুর্ভোগ, সিটি সার্ভিসের বাস-হিউম্যান হলার দূরপাল¬ায় যাতায়াত, যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ওভারলোড করে দূরপাল¬ায় যাত্রাসহ নানা অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন চৌধুরী, নগর কমিটির আহ্বায়ক বিজয় বড়–য়া, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, মোঃ জানে আলম, অধ্যক্ষ আবু ইউনুচ, পূর্বাশার আলোর সভাপতি নোমান উল¬াহ বাহার, চন্দনাইশ ছাত্র সমিতির সাবেক সভাপতি এম. এ. রাশেদ, চট্টগ্রাম অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম মিলাদ উদ্দিন মুন্না, চট্টগ্রাম সমমনা পরিষদের আহ্বায়ক এম রিদুয়ানুল করিম, নগর যুবলীগ নেতা মশরুর হোসেন, এম জসীম উদ্দিন, আসিফ ইকবাল প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ